মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ঘুরে এলাম ভারত

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪
  • ফকির আলমগীর

(পূর্ব প্রকাশের পর)

মানবজাতিকে রক্ষার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। যা হোক, মানবকল্যাণে দেবতার জন্মস্থান মথুরা পরিদর্শন করলাম। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের নামকীর্তন, ভক্তদের অকল্যাণের বিরুদ্ধে আকুতি, ভক্তির নিবেদন মুগ্ধ করে তারপর বৃন্দাবন, এক অসাধারণ মন্দির এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্ভাসিত চারদিক। মনে পড়ল, এক কীর্তনের বাণী, নাই গোকুলে গোবিন্দ নাই কাঁদিছে অভাগিনী রাই। ওগো কাঁদে রাখালেরা কাঁদে গোপ নারী ... আমি মথুরানগরে প্রতি ঘরে ঘরে যাইব যোগিনী হয়ে। তোরা বলে দে সখি এনে দে সাথি শ্যাম আত্মার মথুরায়। কৃষ্ণ বিনে বাঁচে না রাধা, এমনি বিরহের বাণী যেন মুথরা বৃন্দাবনের আকাশে বাতাসে ভক্তহৃদয় সেই আকুল-ব্যাকুল করছে। রাতের আঁধার পেরিয়ে দিল্লী অভিমুখে আমাদের টুরিস্ট বাস। বৃন্দাবনে আমরা একটি রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেয়ে নেই। দিল্লীর ত্রিপুরা ভবনে পৌঁছতে বেশ রাত হয়ে যায়।

পর দিন নিজামউদ্দিন (র.) আউলিয়ার পবিত্র মাজার জিয়ারত করি। দেহমন ভরে যায় এক আধ্যাত্মিক আলোকিত চেতনায়। চেনা পরিচিত অনেকের সঙ্গে দেখা হয়। যেমনি দেখা হয় আগ্রাফোর্টে, তাজমহলে, দেখা হয় কুতুবমিনারে। আগস্টের ৮ তারিখ পবিত্র জুমাবার অর্থাৎ শুক্রবার। দিল্লীর মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ভিড়। তার আগেই আমরা দিল্লীর ঐতিহাসিক কুতুব মিনার পরিদর্শন করি।

কুতবমিনার (উর্দু কুতবমিনার), যা কুতুব বা তুতাব হিসেবেও উচ্চারিত হয়, এটি মোহালির চাপড়া চিড়িতে ফতেওহ বুর্জ, যার উচ্চতা ১০০ মিটার উঁচু, এর পরে ভারতের ২য় সর্বোচ্চ মিনার (৭৩ মিটার)। কুতুবমিনার প্রধানত ইসলামিক স্তম্ভ যেখানে আরবি অক্ষর খোদাই করা, এটি ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান, দিল্লীতে অবস্থিত কুতুবমিনার লাল বেলে পাথর ও মার্বেল দিয়ে তৈরি। স্তম্ভে ৩৭৯ ধাপ সিঁড়ি রয়েছে, যা ৭২.৫ মিটার (২৩৭.৮ ফুট) উঁচু-এর ভিত্তির ব্যাস ১৪.৩ মিটার, যা ওপরের দিকে ২.৭ মিটার সরু। কুতুবুদ্দীন আইবক ১২৯২ সালে এটি নির্মাণ কাজ শুরু করেন এবং তার উত্তরাধিকারী ইলতুতমিশ সেটির কাজ চালিয়ে যান। ১৩৬৮ সঙ্গে ফিরোজ শাহ তুঘলক এর পঞ্চম ও শেষতলাটি নির্মাণ করেন। এটির চারদিকে বিভিন্ন প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় স্থাপনা এবং ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে কুতুব কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত। কুতুবমিনারের শিল্পশৈলী দেখে মুগ্ধ হই। এরপর ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসি। ভারতে ঘুরে বেড়ানো সেই দিনগুলে আমার সত্তায় জাগরুক থাকবে সারাজীবন।

(সমাপ্ত)

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪

১৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: