কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ফেল করা ছাত্ররা মেডিক্যাল ও ডেন্টালে ভর্তি হতে পারবে না ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য প্রার্থীরা মেডিক্যাল ও ডেন্টালে ভর্তি হতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, যারা ভর্তি পরিক্ষায় পাস করেনি তাদের ভর্তি হবার সুযোগ আমি কিভাবে দেব? যারা পাস করেনি তারা কিভাবে ডাক্তার হবে? অকৃতকার্য প্রার্থীদের ভর্তি করানোর মানসিকতার ‘হেলথ মিনিস্টার’ আমি নই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হসপিটাল এ্যান্ড রিসার্স ইনস্টিটিউটের দশম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. হারুন-উর-রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ এম আর খান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডাঃ দীন মোহাম্মদ নুরুল হক, কিডনি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ এম মুহিবুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বেসরকারী উদ্যোগে আরও হাসপাতাল গড়ে তোলা হলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে সরকার। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী উদ্যোগ থাকতে হবে। আমরা বারডেম, শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন, কিডনি ফাউন্ডেশনের মতো উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করতে চাই। তিনি বলেন, আমি বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজগুলোকে বলেছি, আপনারা আপনাদের কলেজের মান নিয়ন্ত্রণ করেন। ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের আপনারা ভর্তি করাবেন না। আমরা স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন চাই। কিন্তু মোহনার মতো ভেজাল হাসপাতাল আমরা চাই না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কিডনি সংযোজনে অতীতে অনেক দালাল গরীব মানুষকে প্রতারিত করেছে। এ সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হবার পথে। আগামী ২৮ তারিখ মন্ত্রণালয় বৈঠকে কিডনি সম্পর্কিত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে আগামী সংসদ অধিবেশনে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস করানো হবে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে শান্তি বিরাজ করছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা জঙ্গীবাদ নির্মূলে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশে এখন শান্তি বিরাজ করছে। পাকিস্তানে নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমরা পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে ভালই করেছি। এ জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। পাকিস্তানীরা কিসের ধর্মের কথা বলে? কিসের ইসলামের কথা বলে? তারা বিশ্ব মানবতাকে হত্যা করছে। শিশুদের হত্যা করছে।

অধ্যাপক ডাঃ এম আর খান বলেন, কিডনি মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ নানাবিধ কারণে বিশ্বে কিডনি রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি লোক কোন না কোন ধরনের কিডনি রোগে ভুগছে। এদের মধ্যে সম্পূর্ণ কিডনি বিকল রোগীদের বাঁচার জন্য ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে হয়। দেশের দরিদ্র জনগণের পক্ষে ডায়ালাইসিসের বিপুল খরচ বহন করা খুবই দুরুহ। দেশের বিপুলসংখ্যক কিডনি রোগীর চিকিৎসা ব্যয়বহুল ডায়ালাইসিস ও ট্রান্সপ্লান্ট করাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার বলে জানান জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ এম আর খান।

কিডনি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক এম মুহিবুর রহমান বলেন, ২০০৩ সালে ৭০ হাজার টাকায় ধানম-ির একটি ভাড়া বাড়িতে ছয়টি ডায়ালাইসিস মেশিন নিয়ে কিডনি ফাউন্ডেশন যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে কিডনি ফাউন্ডেশন ১৫০ শয্যার হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। ৪৫টি ডায়ালাইসিস মেশিন ১২০-১৩০ জন রোগী প্রতিদিন ডায়ালাইসিস করার সুযোগ পাচ্ছেন। ১৬ শয্যার নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও তিনটি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। এ পর্যন্ত ২৯৬ জনের কিডনি সংযোজন করেছেন। ২০১১ সাল থেকে বাসায় গিয়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালু করে কিডনি ফাউন্ডেশন। এ পর্যন্ত ১৬১ জন এ সেবা পেয়েছেন।

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪

১৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: