কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্র্রত্ব পাচারে জাদুময় জাদুঘর

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪

জাদুঘর শব্দটি ফার্সি। যার অর্থ মায়াজাল বা ভেলকিবাজি। অবশ্য উর্দুতে জাদুঘরকে বলে আজবখানা। অতীত জাদুঘর আজবখানা ছিল কিনা, তা স্পষ্ট নয়। একালে জাদুঘর শব্দটি ব্যাপক। জাতির শিকড় সন্ধানী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে জাদুঘর। দুষ্প্রাপ্য ও বিরল সম্ভারের নিদর্শন নিয়েই জাদুঘর। যা জাতির জীবনের বিশাল সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। কারণ তা ধারণ করে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

শতবর্ষেরও আগে ১৯১০ সালে রাজশাহীর দিঘাপাতিয়ায় পূর্ববঙ্গের প্রথম জাদুঘর ‘বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠিত হয়। অবশ্য ভারতবর্ষের প্রথম জাদুঘর কলকাতায় ১৮১৪ সালে স্থাপন করে এশিয়াটিক সোসাইটি। আর ঢাকায় ১৯১৩ সালের ৭ আগস্ট ঢাকা জাদুঘর আত্মপ্রকাশ করে।

বর্তমানে সারাদেশে সোয়া শ’র মতো জাদুঘর রয়েছে। কেবল ঢাকাতেই ৪০টি। বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে ওঠা জাদুঘরগুলোর ব্যবস্থাপনা দুর্বল। দর্শনার্থীদের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব, স্থান সঙ্কট আর নানাবিধ সমস্যা এর কারণ। স্থানাভাবে সংগৃহীত নিদর্শনের সব প্রদর্শন করা যায় না। খোদ জাতীয় জাদুঘরের যা সংগ্রহ তার অর্ধেকেরও কম প্রদর্শিত হয়। গুদামে পড়ে আছে সেসব। আর সেখান থেকে পাচার হয়ে যায় মূল্যবান নিদর্শনসমূহ বিভিন্ন সময়ে। একই ধরনের ধাতব মুদ্রা ও ভাস্কর্য অনেক থাকায় তার বেশ কিছু পাচার হয়ে গেছে। পাচাররোধে যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় দেশের প্রত্বসম্পদ অবাধে পাচার হওয়ার ঘটনাগুলো মাঝে মাঝে প্রকাশ হয়। আর সেসব সম্পদ ও নিদর্শন বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে এবং ব্যক্তিগত সংগ্রহে শোভাবর্ধন করে। জাতীয় জাদুঘরে থাকা প্রত্বসামগ্রীর দুর্লভ সব নিদর্শন প্রায়ই ‘খোয়া’ যায়। দুর্লভ এসব প্রতœ নিদর্শন চুরি হলেও সেসব আর উদ্ধার হয় না। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও সে সবের নিষ্পত্তি হয়নি। অনেক তদন্তের নথিপত্রও গায়েব হয়ে গেছে।

সর্বশেষ খবর মিলেছে, শতাব্দী প্রাচীন বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর থেকে প্রাচীন মূর্তি, টেরাকোটাসহ ১৮টি প্রতœবস্তু; অসংখ্য প্রাচীন প্রকাশনা, বই এবং মুদ্রা ‘খোয়া’ গেছে বা পাচার হয়েছে। এই জাদুঘরটি ১৯৬৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতœ নিদর্শন প্রায় ১১ হাজার। যার একটা অংশ পাচার হয়ে যাচ্ছে এবং তা একদিনে নয়, গত কয়েক বছর ধরেই। বিপুলসংখ্যক প্রতœ নিদর্শন তালিকাভুক্ত করা হয়নি। এমনকি মুদ্রা, টেরাকোটাসহ প্রতœসামগ্রীতে দ্বৈত নম্বর বসিয়ে ‘গায়েব’ করা হয়েছে। শিলামূর্তির স্থলে বালু-সিমেন্টের মূর্তি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এভাবেই চলছে জাদুঘর, যা কারও কাম্য নয়। এখনও জাদুঘরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব দুর্বল। তেমনি দুর্বল প্রতœসামগ্রী সংরক্ষণ ব্যবস্থাও।

মুক্তিযুদ্ধসহ জাতির প্রাচীন ইতিহাস সংরক্ষণপর্ব দুর্বলতর করে রাখার অর্থই জাতির অতীতের শিল্পকলা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, নৃতত্ত্ব¡, পৌরাণিক, প্রতœতাত্ত্বিক, সাহিত্য, লোকশিল্প সম্পর্কে বিমুখ রাখা। শিক্ষা-সংস্কৃতি-কৃষ্টির সংগ্রহশালা জাদুঘরকে রক্ষার জন্য সরকারকে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। দুর্লভ প্রতœসামগ্রী দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ বাঞ্ছনীয়। সংগৃহীত নিদর্শনের খাতওয়ারী তালিকা প্রণয়ন জরুরী। জাদুঘর খাতে সরকারের পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করা সঙ্গত। জাদুঘর পরিচালনায় দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রেই যোগ্য লোকদের দায়িত্ব দেয়া হয় না। ফলে জাদুঘরগুলো কাক্সিক্ষত ভূমিকা পালন করতে পারে না। সরকারই পারে জাদুঘরকে সমৃদ্ধ করে তুলতে।

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪

১৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: