কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

তালেবানী তাণ্ডব

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪

পেশোয়ারের একটি স্কুলে তালেবান জঙ্গী তাণ্ডবে স্তম্ভিত বিশ্ববিবেক। পাকিস্তানের ইতিহাসে এমন হামলার নজির নেই। বিশ্বেও এ ধরনের হামলা বিরল। সন্ত্রাসবাদ প্রথম সুযোগে মানবতার ওপর আঘাত হানলেও সাধারণত শিশুদের এ সহিংসতার বাইরে রাখা হয়। তাই সরাসরি শিশুদেরই লক্ষ্য করে জঙ্গী হামলা পরিচালনা করা হলে তাতে বিশ্ববিবেক প্রচণ্ড হোঁচট খায়। নতুন সহস্রাব্দে অর্থাৎ ২০০০ সালের পর বিশ্বে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলে আমরা দেখব রাশিয়ায় ২০০৪ সালে চেচেনপন্থী সশস্ত্র বিদ্রোহীদের একটি দল সেখানকার একটি স্কুলে শিক্ষার্থীসহ এক হাজার ২০০ জনকে জিম্মি করেছিল। পরে বন্দুকযুদ্ধে ৩৮৬ জন মারা যায়। আমেরিকায় ২০০৭ সালে ভার্জিনিয়া টেক ক্যাম্পাসে হামলায় ৩২ জন মারা যায়। আমেরিকার স্কুলে দু’বছর আগেও আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে। স্যান্ডি হুক হত্যাকাণ্ড হিসেবে পরিচিত প্রাথমিক স্কুলের ওই সহিংস ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীসহ ২৫ জন নিহত হয়।

তবে মঙ্গলবার পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত ওই স্কুলটির শিক্ষার্থীদের ওপর তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ওই নারকীয় হামলা অতীতের সকল বর্বরতাকেই ম্লান করে দিয়েছে। নিহত ১৩২ শিশুর সবাই সেনাসদস্যদের সন্তান। ওই হামলায় স্কুলটির নয়জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীও নিহত হন। বর্বরতার চূড়ান্ত করেছে তালেবানরা। এক শিক্ষকের গায়ে আগুন ঢেলে দিয়ে পুড়ে না মারা যাওয়া পর্যন্ত তা দেখতে বাধ্য করা হয় তাঁর ছাত্রদের।

বিভিন্ন আফগান মুজাহিদ বাহিনী সেদেশে দখলদার সোভিয়েত বাহিনীকে পরাস্ত করার পর চরম গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে তালেবান বাহিনীর উত্থান ঘটানো হয়। এটা অনস্বীকার্য যে তালেবানদের উত্থানের পেছনে পাকিস্তান রাষ্ট্রের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। ১৯৯৪ সালে আফগানিস্তানে তালেবান বাহিনী প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ২০০১ সালে তাদের সরকারের পতন হওয়া পর্যন্ত সংগঠনটির অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিল পাকিস্তান। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর অভিযানে তালেবান সরকারের পতন ঘটার পর সংগঠনটির অধিকাংশ নেতা পাকিস্তানে পালিয়ে যান বলে দাবি করা হয়। আগুন নিয়ে খেলার ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে বোধোদয় ঘটার জন্য পাকিস্তানকে এত বড় মূল্য দিতে হবেÑ এটা হয়ত ভাবেনি পাকি শাসকরা। এখন তালেবানী সন্ত্রাস বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে পাকিস্তানের জন্য। স্কুলছাত্র হত্যাযজ্ঞের দু’ঘণ্টা পর তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) মুখপাত্র এর দায় স্বীকার করে নিয়েছে। বলা হয়েছে, পাকিস্তানের দুটি পার্বত্য অঞ্চলে টিটিপির বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকারের সামরিক অভিযানের জবাব দিতেই এই হামলা চালান হয়েছে। সেই বদলা নিতেই শিশুহত্যায় মাতে তালেবানগোষ্ঠী। তাদের এই জঙ্গী আক্রমণ পাকিস্তান সেনাসদস্যদের দুর্বল করারই একটি কৌশল। এই কৌশল অবলম্বন করতে গিয়ে তালেবানরা তাদের জাত চিনিয়েছে। জঙ্গীবাদ তথা সন্ত্রাসবাদের জাত-পরিচয় একটাই, সেটা হলো বিবেকবর্জিত আগ্রাসী তৎপরতা এবং অনপনেয় অন্ধকার। ইসলামী শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলে যে বর্বরতা প্রদর্শন করা হলো তাকে মানবিক কোন্ ধর্মই সমর্থন করে?

আধুনিক শিক্ষা ও নারীর স্বাধীনতার বিরুদ্ধেই অবস্থান নেয়াই তালেবানী মৌল নীতি। কৌশলগত কারণে পাকিস্তান একদা তালেবানগোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়েছে। এই সমর্থনই এখন বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রটি এখন বস্তুত মৃত্যু উপত্যকা। বাংলাদেশ বরাবরই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে।

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪

১৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: