কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ব্যোমকেশ বনাম ফেলুদা!

প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪

আগামী ১৯ ডিসেম্বর টালিগঞ্জে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে চলেছে। বাংলা সাহিত্যের দুই কালজয়ী গোয়েন্দার চরিত্রে একই ব্যক্তির অভিনীত দুটি সিনেমা একসঙ্গে মুক্তি পেতে পাচ্ছে। সন্দীপ রায়ের ‘বাদশাহী আংটি’ এবং অঞ্জন দত্তের ‘ব্যোমকেশ ফিরে এলো’। মজার বিষয় হলো যিনি ফেলুদা তিনিই ব্যোমকেশ। আর এ অভূতপূর্ব ঘটনা নিয়ে বেশ উৎসুক হয়ে বসে আছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। ফেলুদা নাকি ব্যোমকেশ? কাকে রেখে কাকে ছাড়বেন? তবে নাম ভূমিকায় অভিনয় করা আবীর চট্টোপাধ্যয়কে ছাড়ার উপায় নেই। সে আছে সব জায়গায়। বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদার স্রষ্টা প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। এমনকি এই চরিত্রের চলচ্চিত্রায়নের শুরুটাও সত্যজিতের হাত ধরেই। ফেলুদাকে নিয়ে বানানো তার দুটি চলচ্চিত্রে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন নামভূমিকায়। পরবর্তীতে সত্যজিৎ পুত্র সন্দীপ রায় তুলে নেয় ফেলুদা বানানোর দায়িত্ব। সঙ্গী হয় সব্যসাচী চট্টোপাধ্যয়। কিন্তু অনেক তো হলো। কিছু পরিবর্তন না হলে কিভাবে হয়? সময় তো বদলেছে, দর্শক বদলেছে, রুচিরও পরিবর্তন হয়েছে। ফেলুদার চরিত্রে পরিবর্তন আশা করছিল। আর সবদিক ভেবেচিন্তে পরিচালক পছন্দ করলেন সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায়কে। শুরু হলো ‘বাদশাহী আংটি’র কাজ। তোপসে হিসেবে সঙ্গে রইলেন নতুন মুখ সৌরভ দাস।

অপরদিকে পরিচালক অঞ্জন দত্তই আবীরকে জনপ্রিয় করেছেন শরবিন্দু চট্টোপাধ্যয়ের ‘আদিম রিপু’ গল্পের স্ক্রিপ্টে ২০১০ সালে প্রথম ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ সিনেমায় । পরে ২০১২ তে ‘আবার ব্যোমকেশ’ নির্মাণ করেন তিনি। চরিত্রের সঙ্গে আবীরকে মিলিয়ে নিতে দর্শকদের বেগ পেতে হয়নি। ফলে তিনি ব্যোমকেশ নিয়ে আরও একটি সিনেমা প্রায় শেষ করে এনেছিলেন। এবারেরটি ‘বেণী সংহার’ গল্প অবলম্বনে ‘ব্যোমকেশ ফিরে এলো’। ব্যোমকেশের সঙ্গী অজিতের ভূমিকায় যথারীতি শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ফলাফল মুখোমুখি ব্যোমকেশ ও ফেলুদা, টালিগঞ্জের ইতিহাসে সবচেয়ে ক্লাইমেক্স দৃশ্য।

তবে এ ব্যপারে পরিচালক সন্দীপ রায় জানাচ্ছেন, ‘আবীর নিজেকে ঠিকঠাকভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। আশা করি ফেলুদার চরিত্রে অভিনয় করতে ওর আর সমস্যা হবে না। বাবা বেঁচে থাকলে আবীরকে আজ ফেলুদার ভূমিকায় দেখে আনন্দিতই হতেন। ওদিকে অঞ্জন দত্তের ভাষায় ‘দেখুন, আমি কন্ট্রোভার্সি চাই না। বাঙালী দুটো ছবিই দেখবে। আবীরকে তো বাঙালী ব্যোমকেশ হিসেবে গ্রহণ করেছে। ওই ধুতিটা পরে যখন আবীর এসে দাঁড়ায় সিগারেট হাতে বাঙালীর সেটা ভাল লেগেছে। ফেলুদাও অবশ্যই দেখবে বাঙালী। ওই থিম মিউজিকটা বেজে উঠলেই বাঙালীর মনে একটা কিছু হয়। কিন্তু তা-ও বলছি, আমার কাছে আবীর মানে ব্যোমকেশ। আর আমার মতে বাঙালীর সেরা ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ। আর তা ছাড়া শরদিন্দুর লেখার সাহিত্যগুণ অনেক বেশি।

দেখা যাক, বাঙালী চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কে বেশি মোহিত করতে পারে, ব্যোমকেশ নাকি ফেলুদা?

নিবিড় লতিফুল বারী

প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪

১৮/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: