মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ফিফা ব্যালন ডি’অর নিয়ে মাতামাতি!

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ গত মৌসুম শেষে মর্যাদার পুরস্কারটা হাতে তুলেছিলেন পর্তুগালের তারকা ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের এ তারকা ফুটবলার বর্ষসেরা ফুটবলার হিসেবে জিতেছিলেন ব্যালন ডি’অর। এবারও সেই স্বীকৃতিটা ধরে রাখার ব্যাপারে অনেক ফুটবলবোদ্ধাই ফেবারিট হিসেবে দেখছেন রোনাল্ডোকে। গত মৌসুমের তুলনায় এবার বিন্দুমাত্র কমেনি রোনাল্ডোর ফর্ম। আর সে কারণেই জাতীয় দল ও রিয়ালে তাঁর সতীর্থ পেপের দাবি রোনাল্ডো ব্যালন ডি’অর না জিতলে তা হবে কলঙ্কের সামিল। তিনি মনে করেন রোনাল্ডো সর্বকালের সেরা একজন ফুটবলার। গত মৌসুম ও চলতি মৌসুমে তিনি যা করেছেন অন্য কোন খেলোয়াড় ফিফা বর্ষসেরা হলে সেই ফুটবলারেরই লজ্জিত হওয়া উচিত হবে বলে দাবি পেপের। আবার তাঁকে রক্ষণভাগের ব্যূহ সামলানোর সময় আক্রমণে দূর থেকেই অবলোকন করেছেন রিয়াল ডিফেন্ডার মার্সেলো। তিনি দাবি করেছেন রোনাল্ডো যে ক্যারিশমা এবং কৌশল দেখান সেটা দলের অন্য খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত করে। রোনাল্ডো শুধু গোল করার দিকেই মনোযোগী থাকেন না। সবসময়ই তাঁর লক্ষ্য থাকে দলকেও প্রতিপক্ষের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার। আর তাঁর এমন মনোভাবই দলের বাকি সবাইকে প্রাণবন্ত রাখে। সে কারণে রোনাল্ডোর পাশাপাশি থেকে খেলাটা বেশ সহজ। ১০টি লা লিগা ম্যাচে এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১৮ গোল করেছেন তিনি। কিন্তু যখন রিয়ালের দখলে বল থাকে না তখনও রোনাল্ডো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকেন না। তাঁর দায়িত্বের বাইরেও তিনি প্রচেষ্টা চালিয়ে যান বল দখলের জন্য। এ বিষয়ে মার্সেলো বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে খেলাটা খুব সহজ। তিনি খুব ভাল করেই জানেন কখন বলটা অন্য একজনকে দিতে হবে এবং সেটা বেশ সূক্ষ্মভাবেই করতে পারেন তিনি। তিনি দারুণ সব পাস দিয়ে একইসঙ্গে দলের রক্ষণভাগকে এবং আক্রমণভাগকে সহায়তা করেন। মূল বিষয়টা হচ্ছে বেনেজেমা, ক্রিশ্চিয়ানো, ইসকো, বেল এবং রড্রিগুয়েজ যেভাবে খেলেন সেটা পুরো মাঠের জন্যই সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আর তাঁদের এমন প্রাণশক্তিই আমাদের সবাইকে কঠিন পরিশ্রম করার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে।’ সে কারণেই রোনাল্ডোকে নিয়ে দারুণ মুগ্ধ মার্সেলো। মার্সেলো শুধু রিয়ালে দেখেছেন রোনাল্ডোকে। কিন্তু রিয়ালের গ-ি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচেও তাঁকে ভালভাবেই দেখছেন দীর্ঘদির ধরে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার পেপে। এবার ব্যালন ডি’অর জয়ী কে হতে পারেন সে আলোচনায় যেতেই রাজি নন তিনি। তাঁর দাবি রোনাল্ডো ছাড়া অন্য কেউ এ পুরস্কারটা এবার পেলে তা হবে কেলেঙ্কারি।

এবারের (২০১৪ সাল) ফিফা ব্যালন ডি’অর পুরস্কার কে জিতবেন? মুকুট ধরে রাখবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো না লিওনেল মেসি পুনরুদ্ধার করবেন শ্রেষ্ঠত্ব? না এই দুই তারকার একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে নতুন কেউ বাজিমাত করবেন। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে এ নিয়ে গুঞ্জন ও আলোচনাও বেড়ে চলেছে। ফিফা ২৩ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করার পর থেকে বিভিন্নজন তাদের মতামত জানিয়ে চলেছেন। এক্ষেত্রে বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনাল্ডোর বাক্সেই পড়ছে বেশিরভাগ ভোট। এই যেমন এবারও মেসিকে টপকে রোনাল্ডো বর্ষসেরা হবেন বলে জানিয়ে দিলেন পর্তুগালের কোচ ফার্নান্ডো সান্টোস। পর্তুগীজ কোচের বিশ্বাস তার শিষ্যই এই পুরস্কারের যোগ্য। সান্টোস যেমন সিআর সেভেনকে এগিয়ে রাখছেন তেমনি আর্জেন্টিনার কোচ জেরার্ডো মার্টিনোও তার প্রিয় শিষ্য মেসিকে এগিয়ে রাখছেন। মার্টিনোও বিশ্বাস করেন, এবার রোনাল্ডোকে পেছনে ফেলে ফের ফিফা সেরা হবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মঙ্গলবার রাতে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের আগে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন দুই দলের কোচ। অক্টোবরের শেষভাগে ফিফা ব্যালন ডি’অরের জন্য ২৩ জনের তালিকা প্রকাশ করে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এই তালিকা থেকে সংক্ষিপ্ত তিন জনের নাম ঘোষণা করা হবে আগামী ১ ডিসেম্বর। আর ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারী সুইজারল্যান্ডের জুরিখে সেরা খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা করা হবে। এবারের ব্যালন ডি’অরের জন্য মার্টিনো তার ভোটটি দেবেন মেসির বাক্সে। বিষয়টি অকপটে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনার কোচ এক্ষেত্রে নিজের পক্ষপাতিত্বের কথাও অবলীলায় স্বীকার করে নেন। বলেন, সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়ায় আপনি এটা বাইরে রাখতে পারেন না যে, আমি একজন আর্জেন্টাইন। এরপর তিনি বলেন, আমি বস্তুনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত থেকে আবেগকে আলাদা করতে পারি না। মেসির মৌসুমটা যেমনই যাক, আমি ওকেই ভোট দেব। এদিকে ৬০ বছর বয়সী গ্রীসের সাবেক কোচ সান্টোস মনে করেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা রোনাল্ডো বর্তমানে নিজের সেরা ফর্মে আছেন। পর্তুগালের কোচ সাক্ষাতকারে বলেন, আমি ক্রিশ্চিয়ানোকেই ভোট দেব। আমি মনে করি এবারের মৌসুমে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় রোনাল্ডোই। অবশ্যই সব কিছুর পরও মেসিকে বিবেচনা করতে হবে। নিঃসন্দেহে সে একজন অসাধারণ খেলোয়াড়। আমি ইতোমধ্যেই বলেছি মেসি এবং রোনাল্ডো দুজনেই অসাধারণ খেলোয়াড়। কিন্তু এবারের মৌসুমে রোনাল্ডোই বেশি ভাল খেলেছে। তাই এবারও বিশ্ব সেরার পুরস্কারটা তারই প্রাপ্য।

অবাক করা বিষয় হচ্ছে, গত ছয়টি (২০০৮ থেকে ২০১৩) ফিফা সেরা ফুটবালারের পুরস্কার ভাগাভাগি করে নিয়েছেন মেসি ও রোনাল্ডো। ২০০৮ সালে রোনাল্ডো ফিফা সেরা হওয়ার পর ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত চারবার এই অ্যাওয়ার্ড জেতেন মেসি। ২০১৩ সালে আবারও শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করেন সিআর সেভেন। বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনাল্ডো এবারও এই পুরস্কারের জন্য টপ ফেবারিট। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরের জানুয়ারীতে আবারও ফিফা সেরা হবেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগীজ সুপারস্টার। তবে শ্রেষ্ঠত্বের এই মিশনে এবার মেসির সঙ্গে নয় রোনাল্ডোকে লড়তে হবে বিশ্বকাপজয়ী জার্মান ফুটবলারদের সঙ্গে। সর্বোচ্চ ৬ জন জার্মান ফুটবলার ২৩ জনের তালিকায় আছেন। এরমধ্যে শীর্ষ নাম টমাস মুলার, ম্যানুয়েল নিউয়ের ও ফিলিপ লাম। ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের জন্য ফিফার ২০৯টি সদস্য দেশের জাতীয় দলের অধিনায়ক, কোচ ও একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের ভোট দিয়ে থাকেন। ফিফা ফুটবল কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং ফ্রান্স ফুটবলের একটি বিশেষজ্ঞ দল যৌথভাবে ২৩ জন পুরুষ খেলোয়াড়ের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রণয়ন করেন। সেখান থেকে ভোটাররা তাদের শীর্ষ তিনজনকে বাছাই করে ভোট দেন। প্রত্যেক ফিফা সদস্য রাষ্ট্র থেকে তিনজন ভোটার থাকবেন। একজন সাংবাদিক, জাতীয় পুরুষ দলের কোচ ও অধিনায়ক। প্রত্যেক ভোটার নিজের প্রথম (৫ পয়েন্ট), দ্বিতীয় (৩ পয়েন্ট) ও তৃতীয় (১ পয়েন্ট) পছন্দের খেলোয়াড়কে ভোট দেন। তাদের ভোট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। এরপর প্রকাশ করা হয় তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকা। যেখান থেকে সেরাদের নাম ঘোষণা করা হয়। ব্যালন ডি’অরের প্রবর্তন ১৯৫৬ সাল থেকে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এ পুরস্কার দেয়া হয়।

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪

১৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: