রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গৌরবময় রেকর্ডের পথে রিয়াল মাদ্রিদ

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪
  • অতশী আলম

রীতিমতো বিস্ফোরক ফর্মে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ পরাশক্তিরা চলমান মৌসুমে যেন সব রেকর্ড নতুন করে লেখার পণ করেছে! যে কোন আসরে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে সে সাক্ষরই রেখে চলেছে ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

স্প্যানিশ লা লীগায় সর্বশেষ ম্যাচ জিতে টানা ২০ জয়ের রেকর্ড গড়েছে রিয়াল। আলমেরিয়াকে হারিয়ে এ কৃতিত্ব দেখায় কার্লো আনচেলোত্তির দল। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে বুলগেরিয়ার ক্লাব লুডোগোরেটস রাজগার্ডকে হারিয়ে টানা জয়ের নতুন রেকর্ড গড়ে রিয়াল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে যা ছিল রিয়ালের টানা ১৯ জয়। এক্ষেত্রে তারা ছাড়িয়ে যায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সিলোনার টানা ১৮ জয়ের রেকর্ড। ২০০৫-০৬ মৌসুমে কিংবদন্তি ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের হাত ধরে রেকর্ডটি গড়েছিল ক্যাটালানরা। অপ্রতিরোধ্য ছন্দে থাকা রিয়াল দারুণ এই রেকর্ড গড়ে আরও কয়েকটি রেকর্ডের পথে পা ফেলেছে। এই যেমন সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে আর মাত্র এক জয় পেলেই নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে সর্বাধিক জয়ের রেকর্ড গড়বে দলটি। এক্ষেত্রে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের টানা ১২ জয়ে ভাগ বসাবে স্প্যানিশ পরাশক্তিরা। শেষ ষোলোর লড়াইয়েই এই সুযোগ পাচ্ছে আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যানইউ ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ওল্ডট্রাফোর্ডে টানা ১২ ম্যাচ জিতে রেকর্ডটি নিজেদের করে রেখেছে। টানা জয়ের রেকর্ডে বার্সাকে পেছনে ফেলার পর লস ব্লাঙ্কসদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ থাকছে। এই চ্যালেঞ্জটি হচ্ছে টানা ২৪ ম্যাচ জয়ের রেকর্ডের হাতছানি। যা করতে পারলে রিয়ালের নাম উঠবে গিনেস বুক অব রেকর্ডে। বর্তমানে এই রেকর্ডটির মালিক ব্রাজিলিয়ান ক্লাব কোরিটিবার। ২০১১ সালে এই ক্লাবটি গিনেস বুকে নিজেদের নাম লেখায়। একই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর গিনেস কর্তৃপক্ষ কোরিটিবাকে ‘মোস্ট ভিক্টোরিয়াস টিম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামে আখ্যায়িত করে। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের গিনেস বুকে নাম উঠাতে হলে জিততে ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। এরপর ফাইনাল ম্যাচ। পরের দুটি ম্যাচের প্রথমটিতে লা লীগায় ভ্যালেন্সিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের পর শেষ ম্যাচে স্প্যানিশ কাপে জিততে হবে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, রিয়ালের সামনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ছাড়াও আরও একটি রেকর্ডের হাতছানি। প্রতিযোগী দল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল দল লেকারস ১৯৭১-৭২ সালে সর্বোচ্চ ৩৩ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছিল। টানা ২৪ জয়ের রেকর্ড গড়তে পারলে নিশ্চিত করেই এই রেকর্ডে দৃষ্টি দেবে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও অন্যতম জনপ্রিয় ক্লাবটি। ২০০০ সালের কথা। ইউরোপের প্রভাবশালী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি হয়ে আসেন ফ্লোরেন্টিনো পেরেজ। এসেই এমন সব কা- শুরু করলেন যে পুরো ফুটবল বিশ্ব নিমেষেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল। দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি নজর দেন বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত সেরা তারকাদের দিকে। শুধু নজর দিয়েই ক্ষান্ত হননি, টেনে-হেঁচড়ে রিয়ালের তাবুতে ভেড়ান। পেরেজের হাতের নিখুঁত নিশানায় সান্টিয়াগো বার্নাতে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়েন ব্রাজিলিয়ান ফেনোমেনন রোনাল্ডো, ফরাসি জাদুকর জিনেদিন জিদান, সোনালি প্রজন্মের পর্তুগীজ প্রতিনিধি লুইস ফিগো, গ্ল্যামারাস ইংলিশ সুপারস্টার ডেভিড বেকহ্যামসহ আরও অনেক প্রতিভাবান তারকা।

এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে সমর্থকপুষ্ট ক্লাবকে চাঁদের হাটে পরিণত করেন। এই চাঁদের হাটের তারারা বেশ ক’বছর মুগ্ধতার পরশে আবদ্ধ রেখেছিল ফুটবলপ্রেমীদের। কিন্তু হঠাৎ করে ক্লাব থেকে পেরেজের বিদায়ে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে স্প্যানিশ জায়ান্ট। ফলস্বরূপ রিয়ালের নক্ষত্রপুঞ্জরাও ধীরে ধীরে হারিয়ে যান! এজন্যই সেই দাপুটে রিয়ালকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রিয় ক্লাবের এমন বেহাল অবস্থা দেখে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে সমর্থকরাও। তাইতো তারা রিয়ালের স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন থেকে শুরু করে অনশন পর্যন্ত করেন। টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। তারা অনেক ভেবেচিন্তে সেই চিরচেনা কা-ারীকেই বেছে নেন। অর্থাৎ দ্বিতীয়বারের মতো রিয়ালের প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসিয়ে দেয়া হয় ফ্লোরেন্টিনো পেরেজকে। কর্তৃত্ব হাতে পেয়েই আবার ‘জাদুর বাণ’ ছেড়ে দেন তিনি। এর ফলাফল কি হয়েছে তা নিশ্চয়ই অজানা নয় কারও। আবারও তিনি চাঁদের হাট বসান সে সময়ের বিশ্বের সেরা দুই ফুটবলার রিকার্ডো কাকা এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালাল্ডোকে রিয়ালে ভিড়িয়ে। এই ঘটনা ২০০৯ সালের। এরপর কয়েক বছরের সাফল্যের পর আবারও ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে পড়ে রিয়াল। বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সিলোনার সঙ্গে কিছুতেই পেরে উঠছিল না গ্যালাক্টিকোরা। টানা কয়েক বছর ব্যর্থতার পর গত মৌসুম (২০১৩-১৪) থেকে আবারও জেগে উঠেছে দলটি। এবারও ত্রাতা হিসেবে আছেন সেই পেরেজ। একে একে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, জাবি অ্যালানসো, গঞ্জালো হিগুয়াইনের মতো বড় তারকা দল ছাড়লেও পেরেজ দলে ভিড়িয়েছেন ব্রাজিল বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী কলম্বিয়ার জেমস রড্রিগুয়েজ, বিশ্বকাপজয়ী জার্মান মিডফিল্ডার টনি ক্রুস, ওয়েলস তারকা গ্যারেথ বেলের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের। যে কারণে রিয়াল মাদ্রিদ আবারও ফিরে পাচ্ছে তার হারানো গৌরব। গত মৌসুমে ইউরোপ সেরার তকমা পুনরুদ্ধারের পর এবারও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার পথে দুরন্ত ছন্দে আছেন রোনাল্ডো, বেল, বেঞ্জামারা। যে কারণে ফুটবলবোদ্ধারা বলছেন, স্বর্ণযুগ ফিরে পাওয়ার পথে আছে রিয়াল মাদ্রিদ।

রিয়াল মাদ্রিদ ২০০৬ সাল থেকে ছোট রোনাল্ডোকে কেনার পাঁয়তারা করে আসছিল। পাশাপাশি ব্রাজিলিয়ান প্রাণভোমরা কাকার দিকেও নজর ছিল তাদের। কিন্তু যোগ্য সেনানির অভাবে প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছিল না ক্লাবটির। অবশেষে পরীক্ষিত সৈনিক পেরেজের শরণাপন্ন হয়ে দু’তারকা কাকা ও রোনাল্ডোকে ৬ বছরের জন্য কব্জা করার মধ্য দিয়ে মনের খায়েশ মিটিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও তারকাবহুল ক্লাবটি। আর তাতেই রচিত হয়ে যায় রিয়ালের ইতিহাসের দ্বিতীয় গ্যালাক্টিকো যুগ। পাঁচ বছর পর রিয়াল মাদ্রিদ ফিরে পেয়েছে তার তৃতীয় গ্যালাক্টিকো যুগ। রোনাল্ডো, বেল, বেঞ্জামা, রড্রিগুয়েজ, ক্যাসিয়াসদের নিয়ে গড়া দলটি এখন বিশ্ব ক্লাব ফুটবল শাসন করে চলেছে।

যার প্রমাণ ভালমতোই দিচ্ছে রিয়াল। মৌসুমের প্রথম এল ক্ল্যাসিকোসহ সব প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে সাফল্যের সোনারদেশে ভেসে চলেছে গ্যালাক্টিকোরা।

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪

১৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: