মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাশিয়ার পঞ্চম বাহিনী

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪
রাশিয়ার পঞ্চম বাহিনী

রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে ক্রিমিয়া দখল করে নেয়ার কয়েকমাস পর, গত জুলাই মাসে প্রেসিডেন্ট পুতিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত রুশ কূটনীতিকদের তলব করে তাদের নতুন অগ্রাধিকারের কথা জানিয়ে দেন। তা হলো, বিদেশে বসবাসরত রুশদের রক্ষা করতে হবে। তার জন্য যা যা করার দরকার সব কিছুই করতে হবে।

পুতিনের এই নির্দেশের অর্থ রাশিয়ার বাইরে ক্রেমলিনের প্রভাবলয় সক্রিয়ভাবে প্রসারিত করা। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, রুশ ভাষায় কথা বলে কিংবা নিজেদের রুশ বলে মনে করে এমন প্রতিটি সম্প্রদায়কেÑ তা তারা যেখানেই থাক না কেন- মস্কোর তরফ থেকে সাহায্য সহায়তা-দিতে হবে। প্রয়োজন হলে দিতে হবে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তাও ।

পুতিনের সেই নির্দেশের পর রাশিয়া পূর্ব ইউরোপে বসবাসরত প্রায় ১ কোটি রুশ জাতির ওপর ক্রেমলিনের প্রভাব বৃদ্ধির নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। পশ্চিম সীমান্তে নিজের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। করেছে যুদ্ধের মহড়া । প্রচার-প্রচারণা জোরদার করেছে। রুশ সামরিক কর্মকর্তাদের পরিভাষায় এগুলো হলো, এমন এক স্ট্র্যাটেজির অংশ, যার নাম হাইব্রিড যুদ্ধ। এতে প্রচার-প্রচারণা, কূটনীতি এবং পরিশেষে স্থানীয় বিদ্রোহী বাহিনীর ছদ্মবেশে বিদেশী ভূখ-ে কমান্ডো প্রেরণের ব্যবস্থাও রয়েছে। হাইব্রিড যুদ্ধ চালাতে হলে টার্গেট দেশটির ভেতরে এমন বিরোধী শক্তির অস্তিত্ব থাকতে হবে, যারা বিদেশী হামলা সমর্থন করতে উঠে দাঁড়াতে প্রস্তুত হবে। এরা পঞ্চম বাহিনী হিসেবে কাজে করবে।

রাশিয়া ইউক্রেনে এই কৌশল কাজে লাগিয়ে প্রভূত সাফল্য অর্জন করেছে। ক্রিমিয়া গ্রাস করেছে এবং ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ঘনীভূত করে তুলেছে। উভয় ক্ষেত্রে স্থানীয় রুশভাষী সম্প্রদায় পঞ্চম বাহিনী হিসেবে কাজ করেছে। সরকারী বাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে লড়াইয়ে ইতোমধ্যে ৪ হাজারের বেশি নিহত ও ১০ লাখেরও বেশি লোক উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার সহায়তায় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নভোরোশিয়া বা নয়া রাশিয়া নামে একটি আলাদা রাষ্ট্রের রূপরেখা তৈরি করেছে এবং ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলে তার শিল্পের প্রাণকেন্দ্র এলাকাটির হাতছাড়া হওয়া মেনে নিতে বাধ্য করছে।

এদিকে তিন বাল্টিক রাষ্ট্র -এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়ার পরিস্থিতি ইউক্রেনের চেয়ে স্থিতিশীল। এসব দেশে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের আশঙ্কা কম। তিনটি দেশই ন্যাটোর সদস্য। এদের যে কেউ রাশিয়ার দ্বারা আক্রান্ত হলে, যুক্তরাষ্ট্র তথা পাশ্চাত্য তাদের পাশে এসে দাঁড়াবে। কিন্তু তাই বলে রাশিয়ার দিক দিয়ে হাইব্রিড যুদ্ধ যে চালানো যাবে না, তা নয়। এবং ঠিক সেটাই ঘটছে। হাইব্রিড যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও পাশ্চাত্যের মধ্যে উত্তেজনা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর থেকে তা আর দেখা যায়নি। রুশ বিমানের ন্যাটো আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা গত বছরের চেয়ে বেড়েছে তিনগুণ । স্টকহোম দ্বীপপুঞ্জের জলরাশিতে রুশ সাবমেরিনের সন্দেহজনক আনাগোনা ঘটছে। এমন এক পটভূমিতে পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লিথুয়ানিয়া ও লাটভিয়ায় রাশিয়ার গোপন অনুপ্রবেশ ঠেকাতে চলতি শরতে ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যানসজ্জিত ৬০০ মার্কিন সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা সামরিক বিশেষজ্ঞদের হিসেবে নিতান্তই অপ্রতুল। এ প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে যে, গত ৫ বছরে ইউরোপের ন্যাটো দেশগুলো যেখানে প্রতিরক্ষা ব্যয় ২০ শতাংশ কমিয়েছে, সেখানে রাশিয়া এই ব্যয় বাড়িয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

বলাবাহুল,্য এই প্রতিরক্ষা ব্যয়ের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, বিশেষত বাল্টিক অঞ্চলে রুশভাষীদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষার নামে ব্যয় করা হবে। কেন এই স্বার্থ ও নিরাপত্তার কথা উঠছে? এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যে, বর্তমানে ইউরোপজুড়ে ফ্যাসিবাদী মানসিকতার জোয়ার বয়ে চলেছে। ঠিক যেমন ১৯৩০-এর দশকে বইছিল। ইউরোপকে এখন নব্য নাৎসিবাদের ভূত তাড়া করছে। অতএব এই নব্য নাৎসিবাদের হাত থেকে ইউরোপের রুশদের রক্ষা করার পবিত্র দায়িত্ব নিয়েছে রাশিয়া। আর রাশিয়ার সেই ঘোষণা শুনে শঙ্কিত বোধ করছে বাল্টিক দেশগুলো। লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট তো রাশিয়াকে সরাসরি সন্ত্রাদবাদী রাষ্ট্র আখ্যা দিয়েছেন। লাটভিয়া বলেছে যে, রাশিয়া যে যুক্তি প্রদর্শন করছে, তেমন যুক্তি হিটলার অস্ট্রিয়াকে গ্রাস করার আগে দিয়েছিলেন। সূত্র : টাইম

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪

১৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: