রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাংলাদেশকে কঠিন প্রতিপক্ষ ভাবছে জাপান! রেকর্ডের পথে রিয়াল মাদ্রিদ

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪
বাংলাদেশকে কঠিন প্রতিপক্ষ ভাবছে জাপান! রেকর্ডের পথে  রিয়াল মাদ্রিদ
  • বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি দু’দল

রুমেল খান ॥ প্রতিপক্ষ যত দুর্বলই হোক, সে যদি অজানা প্রতিপক্ষ হয়, তাহলে কিছুটা হলেও জেতার ব্যাপারে সংশয় রয়েই যায়। এই যেমন রয়েছে কেন মাতসুবারার, ‘আমরা হচ্ছি অনুর্ধ-২১ জাতীয় দল আর বাংলাদেশ হচ্ছে জাতীয় দল। যদিও বাংলাদেশ দল সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণা নেই। তারপরও আমি মনে করি আমাদের চেয়ে তারাই শক্তিশালী দল। মনে হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে জয় পাওয়াটা এত সহজে হবে না। লড়াই হবে কঠিন। আমরা সমীহই করছি বাংলাদেশ দলকে।’ মঙ্গলবার বিমান থেকে নেমে বিমানবন্দরে বসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এভাবেই বাংলাদেশ ফুটবল সম্পর্কে নিজের অভিমত ব্যক্ত করলেন জাপান অনুর্ধ-২১ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক-ডিফেন্ডার কেন মাতসুবারা। যদিও তিনি প্রথমে কথাই বলতে চাননি। শুধু তিনি নয়, গোটা দলেরই অনীহা ছিল মিডিয়ার মুখোমুখি হওয়ার। কারণ হিসেবে তারা দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্লান্তি ও ভিসা পেতে দেরির বিড়ম্বনার কথা জানান। তাদের শুধু ছবি তোলা হবে এবং ভিডিও করা হবে, এই কথা বলে অনেকটা কৌশলেই মিডিয়ার সামনে হাজির করা হয় জাপান দলের হেড কোচ মাকোতো তেগুরামোরিকে (খেলোয়াড়ি জীবনে জাতীয় দলে না খেললেও খেলেছেন অনুর্ধ-২০ দলে)। তিনি আবার ইংরেজী বলতে পারেন না বলে বেকায়দায় পড়তে হয়। এ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন মোটামুটি ইংরেজী জানা দলের মিডিয়া অফিসার নাওতো তাকানো। আর অধিনায়ক মাতসুবারার কথাগুলো ইংরেজীতে ভাষান্তর করতে সাহায্য করেন টিম এডমিনিস্ট্রেটর তোমোকাজু আইকেবে।

মাতসুবারা বাংলাদেশকে যত সমীহই করুন না কেন, বাস্তবতা বলেছে এটি হতে যাচ্ছে দু’দলের মধ্যে এক অসম দ্বৈরথ। জাপানীদের দুরন্ত গতি আর ক্ষিপ্রতার সঙ্গে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হবে স্ট্যামিনার অভাবে ভোগা বাংলাদেশী ফুটবলারদের। এ জন্য কদিন আগে বাংলাদেশের কোচ সাইফুল বারী টিটু বলেছিলেন, ‘ড্র করাটাই হবে আমাদের জন্য সম্মানজনক রেজাল্ট।’ ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে জাপান ৫৩, এশিয়াতে ১, একাধিকবার খেলেছে বিশ্বকাপ। আর বাংলাদেশের ফিফা র‌্যাঙ্কিং ১৬৩, এশিয়াতে ৩৩। বিশ্বকাপ তো দূরের কথা, সাফ অঞ্চলেই এখনও ভালভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। দ্বৈরথে সুস্পষ্ট ফেবারিট নিঃসন্দেহে ‘ব্লু সামুরাই’ বাহিনীরাই। তারপরও নিজেদের মাটিতে খেলা হচ্ছে বলে স্বাগতিক বাংলাদেশের লক্ষ্য ম্যাচটা অন্তত ড্র করা। নিজেদের খরচেই জাপান দলটি এসেছে এই প্রীতি ম্যাচ খেলতে। বাফুফে তাদের হোটেলে থাকার খরচ দিতে চাইলেও সেটি নেয়নি তারা। আগামী ১৮ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে দু’দল। চ্যানেল নাইন খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে। এছাড়া রেডিও ভূমিতে শোনা যাবে এ খেলার সরাসরি ধারাবিবরণী। জাপানের দলটি অনুর্ধ-২১ দলের ২২ জনের মধ্যে ২১ জনই খেলেন জাপানের ‘জে’ লীগে। এর মধ্যে ফরোয়ার্ড মুসাশি সুজুকি হচ্ছেন জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত এবং এক সময় খেলতেন জ্যামাইকান লীগে। আরেক ফরোয়ার্ড ইউইয়া কুবো খেলছেন সুইস লীগে (বিএসসি ইয়ং বয়েস)। খেলোয়াড়দের মাসিক বেতন ৫ হাজার ডলার করে। কোন ম্যাচ জিতলে তারা জনপ্রতি পান ৩ হাজার ডলার বোনাস। অচিরেই এই দল থেকে জাতীয় দলে ঢোকার অপেক্ষায় একাধিক ফুটবলার। মূলত আগামী ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য এখন থেকেই এই দলটিকে গড়ে তুলছে জাপান ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন। বাংলাদেশে প্রীতি ম্যাচ খেলা তাদের সেই প্রস্তুতিরই অংশ। বাংলাদেশে আসার আগে থাইল্যান্ডের অনুর্ধ-২২ দলের সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে এসেছে জাপান দল (সেখানে তারা জিতেছে ২-০ গোলে)। জাপানের হেড কোচ মাকোতো তেগুরামোরি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশ সফর হচ্ছে ২০১৬ রিও অলিম্পিককে মাথায় রেখে। আমরা জানি আজ দেশটির বিজয় দিবস। বাফুফের আমন্ত্রণ পেয়ে এদেশে এমন দিনে আসতে পেরে আমরা খুশি।’ অধিনায়ক মাতসুবারা হচ্ছেন দলের একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি জাপান জাতীয় দলে খেলেছেন (১টি ম্যাচ)। দলে আরও ৫ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন, যারা অচিরেই জাতীয় দলের হয়ে অভিষিক্ত হবেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচটি খেলে দেশে ফিরে যাবে জাপান দল। এরপর মার্চে তারা অলিম্পিকের বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে যাবে মালয়েশিয়ায়। বাংলাদেশে আসার আগে এ পর্যন্ত ৬ ম্যাচ খেলেছে জাপান-যুবারা। এর মধ্যে ৫টি ম্যাচ ইনচন এশিয়ান গেমসে এবং একটি থাইল্যান্ড অ-২২ দলের সঙ্গে (পূর্বে বর্ণিত)। জাপান অনুর্ধ-২১ দলের বিশেষত্ব হচ্ছে, এই দলটির অনেকের উচ্চতা ছয় ফুটের বেশি। গোলরক্ষক ছয় ফুট চার ইঞ্চি, একজন স্ট্রাইকার ছয় ফুট দুই ইঞ্চি। দুই সেন্টারব্যাকও ছয় ফুটের বেশি।

ম্যাচ শুরুর আর মাত্র একদিন বাকি। এর মধ্যে প্রায় সবরকম প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আপাতত কোন ম্যাচ না রেখে যতটা সম্ভব প্রস্তুত করা হচ্ছে। জাপানের মতো দলের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ম্যাচটি উপভোগ করতে মুখিয়ে আছেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। দর্শকদের জন্য ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ১০টি ভ্যানগাড়ি দিয়ে ম্যাচের টিকেট বিক্রি করার ব্যবস্থা করেছে বাফুফে। ম্যাচের টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে সাধারণ গ্যালারি ৩০ এবং ভিআইপি ৬০ টাকা। ম্যাচের প্রতিটি টিকেটের সঙ্গে একটি করে বাফুফে লটারির টিকেটও ফ্রি পাবেন দর্শকরা! বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ২৫ হাজার।

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪

১৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: