কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কবিতা

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪

মোগল-ঐশ্বর্য যার

দুখু বাঙাল

তুমি ঠিক মা নও- হয়তো বা জননীর বড় কোনো

বোন। তুমি এক চেনো বুঝি আগুনের দেশ।

কত সাধনায় তাই এনে দিলে পৃথিবীকে সভ্যতার

প্রথম আগুন। আগুনের চেয়ে বেশি আগুন হয়ে

জ্বলে উঠলো অরণ্য-মানুষ। তোমার বৃক্ষের ডালে

নেচে-গেয়ে লাল হলো পাখি। পাতা-ছাওয়া

ছায়াঘন গুঁটিটির পাশে এসে দুই মিলে এক হলো

বাঘ ও বাঘিনী। দলবলে বাঁচালে নুহুকে। তারপর

কেটে গেছে শতকোটি কাল। আজো এই খেলা চলে,

আজো তাই বিধাতার মুখে ফোটে প্রসন্ন হাসি।

এখন তুমি সারি সারি পড়ে থাকো করাতের ঘরে।

তবু তুমি ধন্য চিরকাল। তোমার দেহের পরে

সবুজ দম্পতি যেমন মেতে ওঠে রমণ-বিলাসে।

অথবা শিশুর উল্লাসে যখন দুলে ওঠে তোমার

কঙ্কাল। যদিও বা কদাচিৎ দাবদাহে নিজেকে

নিঃশেষ করো মানে-অভিমানে। সৃষ্টির প্রথম সাক্ষী

জলরাশিÑঢেউয়ের চূড়ায় যার ছড়ায় মহত্ত্বগাথা

তোমার নামের; মোগল-ঐশ্বর্যে তুমি চিরঅম্লান।

মহান মুক্তিযোদ্ধা

মারুফ রায়হান

এখনও পূর্ণিমায় চরাচর জুড়ে

রূপালী আঁচল জড়ায় মায়ায়

শুধু তোমারই জন্যে

ঊষর বিশুদ্ধ হৃদমন্দিরে বৃষ্টি নামে

তোমার নামে

এখনও মৃত্তিকায় হায়েনা আকাশে শকুন

আর পালে পালে বাড়ে ইবলিশ

তার বিপরীতে জাগে আসাদ, নূর হোসেন

লক্ষ খুদিরামÑতোমারই সৌজন্যে

এখনও যে নদী খিলখিল হেসে ওঠে

আচমকা চমকায় শোভা অলৌকিক বজরায়

শুভ্র শাদা ফুলে গান গায় সবুজের সমারোহ

সে তোমারই জন্যে

এখনও বাংলায় কাইয়ুমের পাখি

মেঘে মেঘে উড্ডীন পতাকাডানায়

এখনও শুদ্ধতা-ধোয়া নক্ষত্র অক্ষরে

মৌনী মহান নতুন দিনের আবুল হাসান

আর সদ্ভাব গড়ে যতো ভাব ও ভাবুক

সে তোমারই জন্যে

এখনও অন্ধকারে ঝড়ে ও ঝঞ্ঝায়

মাটি ফুঁড়ে জাগে আলোক সুন্দর

এখনও আশা জাগে, ভাষা ফোটে টগবগ

নবীনের ঠোঁটে সকাল-সন্ধ্যায়

সে তোমারই জন্যে

সোনার বাংলার ষড়ঋতু ঘিরে

এখনও মৌলবাদ এখনও ষড়যন্ত্র

ভ্রান্তির জাল ছিঁড়ে তবু বেরিয়ে আসে

সত্য সুন্দর স্বপ্ন অঙ্গীকার

তোমারই জন্যে, শুধু তোমারই জন্যে...

দেশপ্রেম

ফারুক মাহমুদ

কে কাকে? তোমাকে আমি, না-কি চিরসখা তুমি আঁকড়ে আছ আমার জীবন!

না, কেউ কাউকে নয়

বরং এটাই সত্য, তুমি আমাকে, তোমাকে আমি

আগলে আছি নিরবধিকাল...

আমাদের পায়ে পায়ে কত নদী রক্তনদী হল

বয়ে গেল পতনের মৌন সাক্ষী হয়ে;

অভিন্ন দড়িতে বাঁধা পিতা ও পুত্রের বোবা আর্তনাদের স্রোতে

ভেসে গেছে পর্যুদস্ত মা এবং মেয়ের শরীর

মানুষের চিন্তাকে করেছে

বিকলাঙ্গ-বোবা

দৃষ্টির বৃত্তটি ঘিরে অমূলক বসিয়েছে বিষের আড়ৎ

এত কিছু! এত, এত কিছু!

এখনো মানুষ দেখে, আলোর পশ্চাতে আলো, ‘আলো, আরো আলো’

এখনো মানুষ ভাবে, আসন্ন বর্ষার জলে ধুয়ে-মুছে যাবে

ধর্ষণের নাগচিহ্নগুলো

এখনো তোমার সঙ্গে আছি

এখনো আমার সঙ্গে তুমি...

সবুজ প্রান্তর আছে। রক্তবৃত্ত। কণ্ঠে কণ্ঠে বজ্রবীর্যগান

এবার আকাশ চাই। তুমি দিয়ো মানবিক রঙের যোগান

চোখেমনে এঁকে নেব মেঘের হƒদয় থেকে জেগে-ওঠা অবিচল রোদের আকাশ

০৯.১১.২০১৪

অদৃশ্যগুচ্ছ

শিহাব শাহরিয়ার

১৬.

মৃত্যুরা যদি দল বেঁধে নামে

ভূমি-দস্যুরা কী তবে

ছেড়ে যাবে কবরের জমিন

১৭.

গণিকা আগুনে পুড়ে গেলে ঘর

চুম্বনের চিহ্নগুলো

ছুঁয়ে যাবে ওষ্ঠ-দ্বার

১৮.

তুমি বেদুঈনের মাতাল মধ্যাহ্নের মতো

ছুটে গেলেÑ আমি মৌনতা নিয়ে

দাঁড়িয়ে থাকবো সন্ধ্যার সিঁড়িতে

১৯.

দাবদাহের দরোজা দিয়ে আমি বেরিয়ে গেছি

আমাকে রঙিন নেশায়

ডুবিয়েও না আর

২০.

আমার অবস্থান কেবল

তোমার মুখ ও মননের চৌহদ্দিতে নয়

আমি টিকে যেতে পারি

তাদের জন্য

আহসানুল হক

তাদের জন্য সেখানে কেউ প্রদীপ জ্বেলে রাখেনি।

পথের ধুলো জঞ্জাল দূর করারও কেউ ছিল না।

নিকষ অন্ধকারে খানাখন্দ ডোবাগর্ত,

শেয়ালের চিৎকার আর কুকুরের আর্তনাদ।

ওরা সাহসী ক’জন সেখানে গিয়েছিল,

বুকের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতার মায়াবি ফুল ফোটাতে!

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪

১৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন



ব্রেকিং নিউজ: