মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

এখনও শত্রুকে ক্ষমা?

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪
  • সুশান্ত মজুমদার

এ-দেশের স্তরবিশেষ মানুষ মাত্রই ধোয়া তুলসী পাতা তা মনে করার কোন কারণ নেই। কখনও কখনও কেউ না কেউ ফৌজদারি অপরাধ করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত এই ফৌজদারি মামলার রায়ে বিজ্ঞ আদালত আসামিকে মৃত্যুদ- দিচ্ছে। জীবনবিনাশ এমন চূড়ান্ত শাস্তি নিয়ে দেশের মানিজন, প্রকৃতপক্ষে মানকচু মানের সুশীল বা বিদেশের মেকি উত্তমের প্রতিক্রিয়া কখনও দেখা যায় না। আমাদের ফৌজদারি রায় প্রসঙ্গে যে-সব দেশ মৃত্যুদ-ের বিরুদ্ধে তাদেরও চাঞ্চল্যের প্রভাবজনিত কোন টু শব্দটি শোনা যায় না। আন্তর্জাতিক কুলীন মহল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মানবাধিকার নিয়ে উচ্চগ্রামের স্বর তোলা মার্কিন ভুঁইয়ের দাগি ধবল প্রৌঢ়রাও নিশ্চুপ। অথচ বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের বর্তমান বিচার নিয়ে এদের ঘোরতর আপত্তি। তাৎক্ষণিক বিরুদ্ধ বিবৃতিদানে এরা ওস্তাদ। এদেরই মনোনীত, আশ্রিত, সমর্থনপুষ্ট এবং প্রযোজিত প্রচারমাধ্যম শেয়ালের ধূর্ততায় যুগলবন্দী রচনা করে। কেউ কেউ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ন্যায্যতা নিয়ে নিচু কণ্ঠে মাথা নাড়লেও মৃত্যুদ-ের বিধান নিয়ে অহেতুক অসম্মতির বিতর্ক জমাতে খুব পছন্দ করে। ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদ-ের রায় প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় তাদের জটিল কোলাহল। বাংলা মুল্লুকের বিচারালয় অশুদ্ধ কোন কাজ যেন করে ফেলেছে। তাঁদের স্বরের ময়লা সরিয়ে আমরা সাফ সাফ বুঝতে পারি, অবৈধ সহায়তা প্রদান বাবদ গোপন পারিতোষিক নেয়া অর্থলোলুপ এ-সব বিদেশী একাত্তরে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিরপরাধ লাখ লাখ মানুষ হত্যাকান্ডে যারা সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ছিল, অন্যায্য মৃত্যু, নির্যাতন কর্মে যারা সহায়তাকারী, প্রকাশ্যে মানুষ খুনের আদেশ-নির্দেশদাতা, ঘাতকদের প্ররোচিত করেছে তাদের পক্ষাবলম্বন করছে। আমরা নিকট বা দূরের ভিন্ন মেরুর বিচার ব্যবস্থার সার কথা নিয়ে ওয়াকিবহাল। তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা, শাসন-ভাষণ-মীমাংসা-তত্ত্বনির্ণয়-নিষ্পত্তি নিয়ে আমাদের কলহ-কণ্ঠের কোনো সমালোচনা নেই, অথচ পাশ্চাত্যের মার্কামারা কুক্রিয়াশীলরা গায়ে পড়ে সস্তা উপদেশ সরবরাহ ও অবান্তর বাচনিক বিবাদে বেশ সরব।

মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আছে বলে মানবতার উত্থান। মানুষের গুণ, মনুষ্যত্ব, মনুষ্যধর্ম, মানবের ভাব ইংরেজীতে হিউম্যানিটি যোগে মানবতা। এই মানবতা মানুষ লঙ্ঘন করেছে, আবার মানুষই রক্ষা করেছে। রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর গণতন্ত্র চর্চা, কর্মে ও চিন্তায় ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নিরপেক্ষ ভাবনার অনুশীলন মানবতাকে অধিকতর শক্তিশালী করেছে। কিন্তু আদমের সঙ্গে সঙ্গে শয়তানের জন্ম। এই পূর্ববঙ্গের অবহেলিত, পশ্চাৎপদ, পরনির্ভরশীল, শোষিত-বঞ্চিত মানুষ যখন সংঘবদ্ধ হলো, স্বাধিকার থেকে কালক্রমে স্বাধীনতার জন্য বজ্রপ্রতিজ্ঞ, তখন লড়াকু মানুষের বিরুদ্ধে শুরু হলো শয়তানের রক্তাক্ত শয়তানি। একাত্তর সালে সমগ্র পৃথিবীই দেখেছে এই ভূখন্ডে ধর্মের ধ্বজাধারীদের মানবতাবিরোধী ইতিহাসলাঞ্ছিত চরম হত্যাযজ্ঞ। তাদের চোখের পল্লবে এখনো জীবন্ত আছে নিহত মানুষের ছবি, লাশ নিয়ে শকুনের ভোজ-উৎসব, যুদ্ধের শেষাংশে আল বদরের বুদ্ধিজীবীদের মেরে ফেলে রাখা বধ্যভূমির দৃশ্য। যে মানুষ পরম মমতায় শস্য উৎপাদন করেছে তাঁর মৃতদেহ পড়ে থেকেছে প্রান্তরে, যে গ্রামীণ নারীর হাতে গৃহস্থ-জীবনের শ্রীবৃদ্ধি তাঁর বেয়নেটবিদ্ধ ছিন্নভিন্ন শরীর ধারণ করে রাঙা হয়েছে বাংলার শ্যামল মাটি, উৎপাদন মনোযোগী যে শ্রমিকের পিঠ বেয়ে নেমে এসেছে ঘামের মুক্তা তাঁর মৃতদেহ পড়ে থেকেছে কংক্রিটের রাস্তায়। চিকিৎসকের হাত, লেখকের আঙুল, বুদ্ধিজীবীর জিহ্বা কেটে ফেলা হয়েছে। এই স্মৃতি এখনো জাতির জীবনে জাজ্ব¡ল্যমান।

আজ অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, গ্রাম ও শহর উজাড় করে, মানুষের জীবনের দামে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া কর্মচঞ্চল আছে। মানবতাবিরোধীদের এই বিচার নিয়ে আমরা যেন ঘোর অন্যায় কাজ করছি এমন শোরগোল-কুতর্ক-প্রতর্ক-নিয়মকানুন নিয়ে বাকবিত-ার অন্ত নেই। একাত্তরে আমাদের শ্রেষ্ঠকর্ম, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার মহান মুক্তিযুদ্ধ নস্যাত করতে যখন লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, কোটি মানুষকে ভূমি-উৎখাত করে পররাজ্যে শরণার্থীর মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য করা হয়েছিল, পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করা হয়েছিল, বাঙালী নারীদের অসহ্য সভ্যতাবিরুদ্ধ লাঞ্ছনার শিকার করা হয়েছিল তখন কোথায় ছিল পাপিষ্ঠ আদমিদের পক্ষের মায়াকান্না করা এখনকার মূঢ়জনরা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী দেশের কিছু সংখ্যক ক্রূর, শঠ, কপট, কুটিলচিত্তের জীব দাঁতে ধার দিয়ে খুবই চেঁচামেচি করছে। বিষয় কি? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে। এই মান নিয়ে আজ অবধি কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ তাদের থেকে পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামির জন্য আপিল, রিভিউর কোন সুযোগ ছিল না। যুদ্ধাপরাধীদের বয়সও বিচার বা রায় প্রদানে বিবেচনার বিষয় ছিল না। খুব দ্রুতই আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। নিজেরা যে ব্যবস্থা, সুযোগ গ্রহণ বা প্রদান করেনি তা বাংলাদেশের বিচারে বিতরণ করার জন্য এরা অহর্নিশ উপদেশের তুবড়ি ছোটাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা নির্যাতনের ভয়ঙ্কর সব কৌশল দেখেছি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরমতম সব ঘটনা দেখেছি। একা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এ-সব করেছে দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুমোদন নিয়েই। তাদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। ২০০১ সালের নাইন-ইলেভেনের হামলার পর আটক বন্দীদের ওপর জিজ্ঞাসাবাদের নামে এরা নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছে। সরকারী কর্মকর্তা, প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ-কর্তা অপরাধমূলক কাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছেন। এমন দাবিও উঠছে যে, মার্কিনীদের অপরাধমূলক কাজের ন্যায্যতা দেয়া ঠিক হবে না। সত্য প্রকাশের প্রক্রিয়া কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর দিকে না গড়ায়, তবে ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টরাও নির্যাতনকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ পাবেন।

এরা নিজেদের চলার পথ সংশোধন করে না এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সনদগুলো নিবিড়ভাবে মেনে চলে না। এমন কি সি আই এ-র অমানবিক নির্যাতনের বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মুখ বুজে থাকে। ইরাকের প্রাক্তন অন্যায়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে কোরবানির ঈদের দিন ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। তাঁকে প্রদত্ত মৃত্যুদ-ের ছবি পর্যন্ত দ-দাতারা প্রচার করেছে। নিন্দনীয়, জঘন্য, ধর্ম ও সমাজবিরুদ্ধ আচার নিয়ে তখন তো শব্দ করা হয়নি। লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফির প্রকাশ্য হত্যাকা-কে অনুমোদন করেছে। ক’মাস আগে ইসরাইল ফিলিস্তিনী অসংখ্য শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারী হত্যা করেছে। ওই নিষ্ঠুর ছবি এখনও আমাদের স্মৃতিতে জেগে আছে। তখন কোথায় ছিল আন্তর্জাতিক মহলের খবরদারি, আপত্তি-বিরোধিতা। ঠুঁটো জাতিসংঘ পর্যন্ত জোরালো নিন্দামন্দের এক লাইন প্রস্তাব পর্যন্ত নেয়নি। তাহলে বাংলাদেশ যখন তেতাল্লিশ বছর আগে তার স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী চিহ্নিত খুনীদের ন্যায়সঙ্গত বিচার করতে চায় তখন সর্বপ্রকার নিয়মবিধি মেনে তৈরি ট্রাইব্যুনালকে এরা কেন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়?

আমরা জানি, এত বিলম্বে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার চার দশক পর কেন হচ্ছে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার? এত বছর পর কেন কলঙ্ক মোচনের প্রয়াস? এত সময় ব্যয়ের প্রয়োজন হলো কেন? বিগত তেতাল্লিশ বছরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে অনেক বধ্যভূমি, মাটি ও ঘাস শোষণ করে নিয়েছে শহীদের রক্ত। চরাচর থেকে মুছে গেছে মৃত্যুযন্ত্রণাকাতর মানুষের আকাশবিদীর্ণ করা আর্তনাদ, ধর্ষিতার চেহারা যারা বাংলার অর্ধেক আকাশ। যুদ্ধ করে পাওয়া দেশের বহু বীর মুক্তিযোদ্ধা কোন প্রত্যাশা না রেখে চিরঘুমে চলে গেছেন তাঁরই রেখে যাওয়া স্বাধীন মাটির গভীরে। এঁরা কেউই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখে যেতে পারেননি। এখনও যাঁরা বেঁচে আছেন তাঁরা দেশের বিরুদ্ধ প্রতিবেশে, পরাজিত শত্রুদের তৎপরতা, শক্তিবৃদ্ধি, ক্ষমতারোহণ দেখে মানবতার শত্রুদের বিচার আর আশা করেননি। বিধবা পল্লীর কান্না ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়েছে।

আমরা জানি, পঁচাত্তরে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে দেশের যাবতীয় গণতান্ত্রিক ইনস্টিটিউশন, সংবিধান, রাষ্ট্রনীতি, সর্বস্তরের সুস্থতা-সুবুদ্ধি শোভনভাবে স্থাপিত অর্থ-বিত্ত-মান-যশ-প্রভাব-স্বীকৃতি সব হত্যা করা হয়। এই নিন্দনীয় ক্ষমার অযোগ্য গোপন ষড়যন্ত্র করে সংঘটিত রক্তাক্ত অধ্যায়ের বেনিফিসিয়ারিদের হাত ধরে একাত্তরের মৃতদেহ খেয়ে বেঁচে থাকা অন্ধকারদ-িত মুখ, গৃহ দুশমন, পরাস্ত প্রতিপক্ষ পুনর্প্রতিষ্ঠার সুযোগ গ্রহণ করে। শেকড় ছড়াতে পারলে গাছ গজাবে, ডালপালা মেলবে-স্বাধীনতাবিরোধীরা এমনই উপযোগী রস আহরণ করেছে সামরিক শাসন, একের পর এক খুনোখুনি অস্থিতিশীল অগণতান্ত্রিক পরিবেশ থেকে। এদের দম্ভ-আস্ফালন-মিথ্যার বেসাতি, ধর্মের অপব্যবহার, নষ্ট শক্তি দেখানোর শোরগোল এত উঁচুতে ওঠে যে বুঝি চিরদিনের জন্য এরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে। এই অপশক্তি জানে না -ক্ষমাশূন্য অপরাধ আর হত্যাকা-ের দায় থেকে স্বাভাবিক মুক্তির উপায় নেই, মানুষের ঘৃণা-প্রতিবাদ-প্রতিরোধ, শেষাবধি ন্যায্য বিচারের মৃত্যু মেনে পরিণতি হয় নিন্দনীয় বিদায়।

স্বাধীনতার চারদশক পর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রায় ষোলোআনার বয়স বেড়েছে, তাঁদের উৎসাহ-উদ্দীপনার অভাব, তাঁরা শারীরিকভাবে আর শক্ত-সোমত্ত নেই, অভাব-অনটন, বঞ্চনা, অবহেলার কারণে তাঁরা রাজনীতিবিমুখ। নতুন প্রবংশ মুক্তিযুদ্ধের কিছুই জানে না। তাদের একাত্তরের স্বাধীনতা নিয়ে আগ্রহ-চিন্তা-জানার আদৌ কোন চেষ্টা নেই। অতএব, যুদ্ধে পরাস্ত দানবদের দুষ্কর্মের খোঁজ আর কে রাখে! তাদের কখনও চরম পরিণাম আর ভোগ করতে হবে না। এই পৃথিবীর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বদ্বীপ ছোট এক ভূখ-ে সর্বোচ্চ, তীব্র, চ- মানববিধ্বংসী অপকর্মের জন্য আর তাদের শাস্তি বরাদ্দ হবে না। গণজাগরণ মঞ্চ আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, ‘দিনে দিনে বহু বাড়িয়েছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ।’ একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধী পরপীড়ক পরাজিত বৈরীর যাবতীয় বিক্রম দাপট নিজস্বতা নস্যাত করে দিয়েছে ওই গণজাগরণ মঞ্চের যুদ্ধপরবর্তী প্রজন্ম। দেশের নবীন যুবারা হাতে হাত ধরে ইতিহাসের পক্ষে দাঁড়িয়ে যায়। তারা আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছে একাত্তর পূর্বাপর বাঙালীর জাগরণের মহান উচ্চারণ-জয় বাংলা। অতএব মাভৈ। আমাদের নীরক্ত কশেরুকা, হাড়, শিথিল পেশীতে এখন তেজ, জাগরণের প্রতি সংহতি।

আমরা এখন দাবি করতে পারি, জাতির আস্থা-আকাক্সক্ষার সঙ্গে অটুট মিশে গেছে মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ বিচারের ট্রাইব্যুনাল। এই বিচারের প্রয়োজনীয়তা এখন নিঃশ্বাসের মতো জরুরী। কোন ভ্রান্ত বিবেচনা-কূটতর্ক, ষড়যন্ত্রের জাল, গৃহ ও বিশ্বের দশদিগন্তের দুষ্টচক্র সভ্যতার শরিক এই বিচারালয় ও গৃহীত ব্যবস্থাকে অস্তিত্বহীন করতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ-দৃঢ়-সাহসে অবিচল থাকি তবে কেউই একাত্তরের শত্রুর অপরাধ মার্জনা করতে পারবে না।

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪

১৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন



ব্রেকিং নিউজ: