কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পাকিস্তানের খ-ীকরণ

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪
  • এ এ কে নিয়াজি
  • অনুবাদ : আন্দালিব রাশদী

[১৯৭১-এর প্রবল পরাক্রান্ত দুর্বিনীত পাকিস্তানী সেনাবাহনী ইস্টার্ন কমান্ডের প্রদান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজির নেতৃত্বে ১৬ ডিসেম্বর অপরাহ্ণে নিঃশর্ত আত্ম-সমর্পণ করে। পরাস্ত সেনানায়ক নিয়াজি লিখেছেন ‘দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান’Ñ হোক নিয়াজির গা-বাঁচানো গ্রন্থ, এতে কিছু সত্যকথনও রয়েছে। ইতিহাস পরাজিত শত্রুর ভাষ্যকেও উপেক্ষা করে না, ইতিহাসে কিছু উপদান তো তাতে রয়েছে। গ্রন্থটির একাদশ অধ্যায়ের একাংশ অনূদিত হলো।]

যখন মুজিব ও ভুট্টোর সঙ্গে আলোচনা চলছে তখন যাঁরা কর্মকৌশল প্রণয়ন করেছেন তাঁরা হচ্ছেন ইয়াহিয়া, এ্যাডমিরাল আহসান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল পীরজাদা এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াকুব। এ্যাডমিরাল আহসান প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার কাছে অভিযোগ করলেন, তাঁরা যা-ই পরিকল্পনা করেন সঙ্গে সঙ্গে তা ভুট্টোর জানা হয়ে যায়। বিশ্বাস করা হতো পীরজাদা ভুট্টোকে অবহিত রাখতেন এবং সেভাবে ভুট্টো তাঁর পদক্ষেপ নিতেন।

ষড়যন্ত্রে ভুট্টোকে হারানোর সাধ্য কারোই ছিল না। তিনি গুল হাসানকে আশ্বস্ত করলেন যে তাঁকে কমান্ডার-ইন চীফ বানাবেন আর এয়ার মার্শাল রহিম বিমানবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। ১৯৭১ সালের নবেম্বরে তাঁরা যখন একত্রে চীন সফরে গেলেন তখন ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের পর তিনি তাঁদের এ আশ্বাস দেন। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ নিয়ে গুল হাসানের কোন আগ্রহ ছিল না। আমি যখনই ফোন করেছি তিনি আমার সঙ্গে কোন কথা বলতেন না। এই দ্বন্দ্বসঙ্কুল সময়ে এয়ার মার্শাল রহিম নিজেকে এবং বিমানবাহিনীকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। এতসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমরা ভালই লড়ে যাচ্ছিলাম এবং ভারতের পক্ষে বারো দিনের যুদ্ধে আমাদের পরাস্ত করা সম্ভব ছিল না। এ সময়ে গুল হাসান ইয়াহিয়াকে পশ্চিম রণাঙ্গনে বিলম্বিত এবং অযাচিত আক্রমণ চালাবার পরামর্শ দিলেন, যাতে পূর্বাঞ্চলের পতন ত্বরান্বিত হয়। কারণ তিনি রহিমকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছেন ভুট্টোকে ক্ষমতায় বসাবেন আর সে জন্য পূর্ব পাকিস্তানের পতন ও বিচ্ছিন্ন হওয়া অত্যাবশ্যকীয় হয়ে ওঠে।

ভুট্টো টিক্কাকেও চীফ বানাবার প্রতিশ্রুতি দিলেন। বিশেষ সেবাদানের জন্য মেজর জেনারেল ফরমানকেও পুরস্কৃত করার আশ্বাস দিলেন। পর্দার পেছনে যাঁরা ঘুঁটি চালিয়েছেন তাঁদের মধ্যে ফরমান হচ্ছে ধূর্ততম। লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুল হাসানের চেয়ে জ্যেষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও গুল হাসানকে চীফ অব আর্মি স্টাফ করা হয়। গুল হাসানের জ্যেষ্ঠ সকল জেনারেল তাঁর অধীনে কাজ করতে অসম্মতি জানিয়ে পেনশন গ্রহণ করেন। ব্যতিক্রম কেবল টিক্কাÑ স্বাভাবিক অবস্থায় এমন হবার কথা নয়। নিজের স্বার্থ যেখানে জড়িত জেনারেল টিক্কা খানের বিবেক সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। পূর্ব পাকিস্তানে চরম ব্যর্থতা, সংরক্ষিত বাহিনীর আক্রমণ পরিচালনায় ব্যর্থতা এবং ভুট্টো জাতীয় যুদ্ধে (১৯৬৫, ১৯৭১) পশ্চিমাঞ্চলে তাঁর অদক্ষতার রেকর্ড সত্ত্বেও তাঁকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চীফ অব আর্মি স্টাফ করা হয়। ১৫ ডিসেম্বর (১৯৭১) হেলিকপ্টারে তাঁর ঢাকা ত্যাগের আবেদন যদি প্রত্যাখ্যান না করতাম তা হলে তিনিও বড় পুরস্কার পেতেন। শেষ পর্যন্ত ঘটনাচক্রে পাকিস্তানে ফিরে গিয়ে তিনি বড় পুরস্কার পেলেন। ডিরেক্টর জেনারেল মিলিটারি ট্রেনিং পদÑ যে পদে কাজ করার কোন প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা তাঁর আদৌ ছিল না। পরে তাঁকে পাকিস্তান ফৌজি ফাউন্ডেশনের প্রধান করা হয় যেখানে বীরত্বের সঙ্গে লড়েছেন, বিপদের মোকাবেলা করেছেনÑ এমন অনেককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিতে হয়েছে। ফরমানকে মন্ত্রীর পদেও বসানো হয়। আমি পরে জানতে পেরেছি পরিকল্পনা মতোই এ সব করা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ভুট্টো রাজনৈতিক দিকও দেখতেন। কেবল জাতীয় জনমত কিংবা আন্তর্জাতিক কার্যক্রমই নয় পররাষ্ট্র দফতর ও জাতিসংঘ যেন পাকিস্তানের ভেঙ্গে যাওয়াটা ঠেকাতে চেষ্টা না করে তাও।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুল হাসান নিশ্চিত করলেন বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলীয় গ্যারিসনে যুদ্ধরত সৈন্যদলকে যেন কোন সামরিক সহায়তা প্রদান করা না হয়। এয়ার মার্শাল রহিম নিশ্চিত করলেন মূল কিংবা সামুদ্রিক যুদ্ধে যেন বিমান সহায়তায়া না যায়। আমি এটাও বিশ্বাস করি আমার ১৪ ডিভিশনের মেজর জেনারেল কাজীকে গুল হাসান বশীভূত করে ফেলেছিলেন। কাজী তার পক্ষেই কাজ করেছেন, বিশেষ করে যুদ্ধের শেষ অধরাগুলোতে আমার অপারেশন প্ল্যান নতুন করে করতে বাধ্য করেছেনÑ যাতে গর্ভনমেন্ট হাউসে (বঙ্গভবন) আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যুদ্ধে অন্তর্ঘাতমূলক ব্যবস্থা নেয়া, যা তিনি ধূর্ততা ও সাফল্যের সঙ্গে সম্পাদন করেছেন।

ফরমান নিজেকে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্য ব্যক্তি হিসেবে চিত্রিত করতে চেষ্টা করেছেন, যা গিয়ে বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসন আবর্তিত হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে সামরিক বিষয় ও সামরিক অপারেশন নিয়ে তার কিছুই করার ছিল না। ফরমান তাঁর বইয়ে আমার সিগন্যালের উদ্ধৃতি দিয়েছেন কিন্তু বেশ সুবিধাজনকভাবে যা এড়িয়ে গেছেন তা হচ্ছে এই সিগন্যাল গবর্নর মালিকের জন্য তার হাতেই ড্রাফট করা। এই সিগন্যাল প্রেসিডেন্টের কাজে পাঠিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছেন। পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধের এক বিষন্ন ছবি উপস্থাপন করেন এবং প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা বলে এমন আতঙ্কজনক পরস্থিতির সৃষ্টি করেন যে, প্রতিকূলতায় নয় মাসে তিনি একবারের জন্যও তাঁর নিজের জনগণ ও সৈন্যবাহিনীকে দেখতে না আসার অজুহাত সৃষ্টি করেছেন। ৭ ডিসেম্বর আমি জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে আমার টেক্টিক্যাল কনসেপ্ট পাঠালাম এবং ৮ ডিসেম্বরের সিগন্যালে তা অনুমোদিত হলো। আমার অজ্ঞাতসারে গবর্নর ৭ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্টকে একটি সিগন্যাল পাঠান। এতে বলা হয়েছেÑ

পূর্ব পাকিস্তান পরিস্থিতি আপনার দৃষ্টির গোচরে আনা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। আমি জেনারেল নিয়াজির সঙ্গে আলোচনা করেছি তিনি জানিয়েছেন সৈন্যরা কোন গোলন্দাজ কিংবা বিমানবাহিনীর পর্যাপ্ত সহায়তা ছাড়া প্রবল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে। বিদ্রোহীরা পেছনে ধ্বংস করা অব্যাহত রেখেছে। যে অস্ত্র ও লোকবলের ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করা যাবে না, পূর্ব ও পশ্চিম সেক্টর ভেঙ্গে পড়েছে। মেঘনা নদীর পূর্বাংশের পুরো করিডর হাতছাড়া হয়ে যাওয়া এড়ানো সম্ভব ছিল না। যশোরের পতন ঘটেছে, তা পাকিস্তানপন্থীদের মনোবলে প্রচ- আঘাত করে থাকবে। যোগাযোগ না থাকায় বেসামরিক প্রশাসন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। খাদ্য ও অন্যান্য রসদের যোগান কমে এসেছে। চট্টগ্রাম থেকে কিংবা প্রদেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ স্থগিত হয়ে আছেÑ এমনকি সাত দিন পর ঢাকাও পুরোপুরি খাদ্যশূন্য হয়ে পড়বে। জ্বালানি এবং তেল ছাড়া জীবনে পূর্ণ স্থবিরতা নেমে আসবে। সেনাবাহিনী যে সব অঞ্চল ছেড়ে এসেছে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ সেখানে বিদ্রোহীরা হাজার হাজার পাকিস্তানপন্থীকে ধরে ধরে জবাই করেছে। লাখ লাখ অবাঙালী ও অনুগত পাকিস্তানী এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছে। কোন ধরনের মৌখিক সহানুভূতি এবং এমনকি বিশ্বশক্তিসমূহের বস্তুগত সহায়তায়ও কোন কাজ হবে না যতক্ষণ না তারা সরাসরি সরেজমিন হস্তক্ষেপ করছে। যদি এটা প্রত্যাশিত হয়ে থাকে আমাদের কোন বন্ধু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে তাহলে সুফল পেতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা করতে হবে। যদি কোন সাহায্যের সম্ভাবনা না থাকে তাহলে আপনার কাছে আমার সনির্বন্ধ প্রার্থনা বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ একটি হস্তান্তর ঘটুক যাতে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচবে এবং অবর্ণনীয় দুর্দশা এড়ানো সম্ভব হবে। যখন পরিণতি অনিবার্য মনে হয় তার জন্য বিসর্জন মূল্যহীন নয়। যদি সাহায্য আসে পরিণতি যাই হোক আমরা লড়াই করে যাব। অনুরোধ, কী ঘটছে আমাদের অবহিত রাখবেন।

এই সিগন্যাল আমার কাছ থেকে নয়, গর্ভনর হাউস থেকে উদ্ভূত আর ফরমান নিজেই এর খসড়া করেছেন। বার্তায় উল্লেখিত পূর্ব-পশ্চিম সেক্টর ভেঙ্গে পড়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুল। ১৬ ডিভিশনের মেজর জেনারেলের নজর অত্যন্ত সক্রিয়, এখনও হিলি সীমান্তে তীব্র লড়াই চলছে। শত্রুদের ৬ ডিভিশনকে দিনাজপুর, সৈয়দপুর এবং রংপুরে আর এগোতে দিচ্ছে না। ৯ ডিভিশন এলাকায় ব্রিগেডিয়ার মঞ্জুর কুষ্টিয়ার দিকে এগিয়ে একটি ভারতীয় ডিভিশনের সঙ্গে লড়ছেন। ব্রিগেডিয়ার হায়াত গিয়েছেন খুলনার দিকে অপর একটি ভারতীয় ডিভিশনের মোকাবিলা করেছন। ১১ কোরের প্রধান অংশ এবং মধুমতি নদী সীমানা একই রকম অক্ষত রয়েছে। ফরিদপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার, আশুগঞ্জ, ময়নামতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে আশঙ্কার কোন কারণ নেই। গ্যারিসনগুলো বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী রণাঙ্গনের সৈন্যরা শেষ যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রেখেছেন।

সকল সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, বিভাগীয় সদর দফতর এবং ফেরিঘাট আমাদের দখলেই রয়েছে। কমান্ডাররা সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ করছেন। শত্রুরা গ্রামের দিকে সরে যাচ্ছিল, তবে প্রধান প্রবেশ পথগুলোতে তাদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। ৭ ডিসেম্বর যদি ফ্রন্টের পতন হয়ে থাকে তাহলে সি-ইন-সি আমাকে ৮ ডিসেম্বর অভিনন্দন জানাতেন না। বার্তায় বলা হয়েছে :

আমি আপনাকে ও আপনার সৈন্যদের নিয়ে গঠিত। প্রবল প্রতিকূল অবস্থার বিরুদ্ধে সাফল্যই সবচেয়ে প্রশংসনীয়। আমি বিশ্বাস করি আপনার কমান্ডের অধীনে এই সাফল্য অব্যাহত থাকবে। যেখানে সম্ভব, প্রয়োজন দেশের অংশ দিয়ে হলেও প্রতিরক্ষা ব্যুহ প্রস্তুত করুন। গবর্নরের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সব ধরনের সম্ভাব্য পন্থা অবলম্বনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অধিকন্তু ভারতীয় জেনারেল ডিকে পালিত তাঁর গ্রন্থ ‘দ্য লাইটনিং ক্যাম্পেইন’-এ উল্লেখ করেছেন শেষ পর্যন্ত সীমান্ত অক্ষত ছিল। আর একটি বিষয় স্মরণ করা যেতে পারেÑ খাদ্য মজুদের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে খাদ্য পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক ভাল ছিল। এমনকি ১৬ ডিসেম্বরের পরও খাদ্যের অভাবের কথা শোনা যায়নি। আমি মনে করি পাকিস্তানকে খ-ীকরণের পরিকল্পনার সাথে তাল মিলিয়ে যৌক্তিকরণের জন্যই ফরমানের মাথা থেকে এই বার্তা রচিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ৭ ডিসেম্বর গবর্নরকে যে জবাব দেন, তা হচ্ছেÑ

সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপই এখন হাতের মুঠোয়। পশ্চিমাংশে পুরোদস্তর তিক্ত যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ব শক্তিসমূহ যুদ্ধবিরতির জন্য বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে চেষ্টা করে যাচ্ছে। নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার গুণ গুণ ভেটো প্রয়োগের পর বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উত্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দলকে ত্বরিত নিউইয়র্কে পাঠানো হচ্ছে। আশ্বস্ত থাকুন আপনারা যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মোকাবেলা করছেন আমি সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত। যে সামরিক কর্মকৌশল অবলম্বন করতে হবে, তা জেনারেল নিয়াজিকে জানিয়ে দেয়ার জন্য আমি চীফ অব স্টাফকে নির্দেশ দিয়েছি। আপনার নিজের এবং আপনার সরকারের পক্ষে যুদ্ধকালীন অবস্থা খাদ্যের রেশন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, যাতে পতন বেকিয়ে সর্বাধিককাল টিকে থাকা যায়। আল্লাহ আপনার সহায় হোন। আমরা সকলেই প্রার্থনা করছি।

উপরের সিগন্যালে যে কর্মকৌশলের কথা বলা হয়েছে চিফ অব আর্মি স্টাফ তা কখনও আমাকে পাঠাননি।

৭ ডিসেম্বরের পর থেকে গবর্নর হাউসে আমি অস্বাভাবিক কাজকর্ম চলতে দেখেছি। সেখানে বিষণœতা ও হতাশা বিরাজ করছিল। স্বাভাবিক কারণে গবর্নর মালিক বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং পাকিস্তানের এ কথা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, কিন্তু জেনারেল হেড কোয়ার্টার্স কিংবা প্রেসিডেন্ট’স হাউসে এ নিয়ে কোন জরুরী উদ্যোগ ছিল না।

আমি চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল গুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি কিন্তু তিনি আবার আমার সঙ্গে কথা বলা এড়িয়ে যান। মিলিটারি অপারেশন্সের ডিরেক্টর ব্রিগেডিয়ার রিয়াজ যুদ্ধের গোটা সময়টাতে একবারের জন্যও আমার সঙ্গে বা আমার স্টাফ অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তার ডেপুটি কর্নেল কোরাইশি দায়িত্বে ছিলেন বলে মনে হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দেবার মতো যোগ্যতা তার ছিল না। চিফ অব আর্মি স্টাফ অধিকাংশ সময় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পড়ে থাকতেন। কাজেই দায়িত্বশীল কারও সঙ্গেই আমার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারিনি।

রাজনৈতিক পর্যায়ে তথাকথিত উদ্যোগ আসলে একটি প্রহসন। জাতিসংঘে আমাদের বন্ধুর সংখ্যা অনেক কিন্তু ২১ নবেম্বর ভারত যখন পূর্ব পাকিস্তান আক্রমণ করে, আমাদের পক্ষে কেউই বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থাপনের আগ্রহ দেখায়নি। যদি ক্ষতিগ্রস্ত ও অসন্তুষ্ট পক্ষ নিজেই যখন আগ্রহহীন অন্যরা তার উদ্ধারে কেন এগিয়ে আসবে? ভুট্টোর নেতৃত্বে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধি দল নিউইয়র্ক ছুটছেÑ ভুট্টো মনে হচ্ছে তার উচ্চাশার ট্যাফিক জ্যামে দৃশ্যত ছড়িয়ে পড়েছেন, পরিস্থিতির গভীরতা ও সমাধানের অত্যাবশ্যকতা নিয়ে তার কোন উদ্বেগ নেই। ভুট্টো সেভাবেই চেয়েছেন যাতে তিনি ‘এম এম আহমদ’ পরিকল্পনা সুসম্পন্ন করতে পারেন। তিনি কাবুল ও তেহরান হয়ে প্রথম গেলেন ফ্রাঙ্কফুর্ট, তারপর রোম এবং সবশেষে ১০ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক পৌঁছেছিলেন। কয়েক ঘণ্টার পথ যেতে তিন দিন লাগিয়ে দিলেন এবং পৌঁছেই অসুস্থতার ভান (সাধারণ ঠা-া) করে পড়ে রইলেন। যাবার পথে লন্ডনে পূর্ব পাকিস্তানের চিফ সেক্রেটারি মুজাফফর হোসেনের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বললেন, তাঁর স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। অবাক হবার কিছু নেই। আসলে আত্মসমর্পণে বাধ্য তিনিই চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছিলেন। সে ক্ষেত্রে মুজাফফর হোসেন যুদ্ধবন্দী হলে তাঁর ফিরতে বিলম্ব হবারই কথা। সম্মানজনক অস্ত্রবিরতির দিকে এগিয়ে আত্মসমর্পণের গ্লানি থেকে পাকিস্তানকে রক্ষা করার কোন উদ্যোগে তিনি নিলেন না। তাঁর চাওয়া ছিল আত্মসমর্পণ, সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ও বিশ্বাযোগ্যতা এমনভাবে ধূলিসাত করা যেন জনগণ ইয়াহিয়ার অপসারণের জন্য শোরগোল শুরু করে দেয়। ভুট্টো তাঁর উস্তাদি এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন। দেশের এক নম্বর ব্যক্তি হবার খায়েশের কাছে পাকিস্তান নামের রাষ্ট্রকে বলি দিলেন।

গবর্নের পাঠানো সিগন্যালের সংখ্যা সাহস বেড়ে গেল এতে তিন ভয়াবহ পরিস্থিতর বিবরণ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই সঙ্গে তার মনোবল ভেঙ্গে দিতে ফরমানের চেষ্টা আমার স্টাফদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছিল। কুয়াশা কাটতে শুরু করলে যে ষড়যন্ত্রে ইঙ্গিত আমার চিফ অব স্টাফ আগে দিয়েছিলেন তার চূড়ান্ত রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করল। আমি সতর্ক হলাম। ৯ ডিসেম্বর একজন কর্মকর্তা জানালেন, পরের দিন অস্ত্রবিরতি হবে বলে মেজর জেনরেল ফরমান তাঁকে জানিয়েছেন। ৭ ডিসেম্বর জেনরেল হেড কোয়ার্টার্সে আমার পাঠানো সিগন্যালে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবার সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবেই জানিয়েছি। ইস্টার্ন কমান্ডেই হোক কিংবা অন্যত্র অস্ত্রবিরতির আলোচনা কোথাও হয়নি। অন্তত গবর্নর এ নিয়ে আমাকে কিছু বলেননি কিংবা এই লক্ষ্যে কোন পদক্ষেপও গ্রহণ করেননি।

মেজর জেনারেল ফরমান আলীর গ্রন্থে অনেক কিছুই উটে এসেছেÑ এ সম্পর্কে আমি মোটেও অবহিত ছিলাম না, আর আমার বিষয়ে যা যা লিখা হয়েছে, তা কখনও আমাকে জানানো হয়নি। আমি অন্ধকারেই ছিলাম। মনে হতেই পারে ভারতীয় কমান্ডার-ইন এবং একই সঙ্গে রাশিয়ানদের একটি সমান্তরাল প্রশাসনের মাধ্যমে তিনি যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিলেন। নতুবা কেমন করে তিনি ৯ ডিসেম্বর আমার স্টাফকে বললেন, পরদিন থেকে অস্ত্রবিরতি কার্যকর করা হবে। যেখানে জাতিসংঘের জন্য গবর্নরের নোট ১০ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ভারতের মেজর জেনারেল নাজার আমাকে যা বলছেন ফরমানের বই তারই নিয়ন্ত্রণ করেছে। নাগরা আমাকে বলেছেন, ডিসেম্বরই তাঁরা জানতেন যে যুদ্ধ শেষ হয়ে আসছে। দৃশ্যত ফরমান রুশ যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতীয় বিষয়গুলো দেখাশোনা করছিলেন, জেনারেল মানেক শ আমাদের ১৫ ডিসেম্বরের বার্তার জবাবে লিখেছেন আমাদের সৈন্যবাহিনীকে আত্মসমর্পণ করার জন্য দুটো বার্তা আগেই ফরমানকে পাঠিয়েছিল। আমার ডিভিশন কমান্ডারদের ব্যাপারে কোন কিছু করার কর্তৃত্ব তার ছিল নাÑ বিশেষ করে যে শত্রুরা আমাদের সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছে তাদের মোকাবেলার প্রশ্নে। তাহলে তিনি তাঁর এসব যোগাযোগ আমার কাজ থেকে এবং গবর্নর ও জেনারেল হেড কোয়ার্টার্স থেকে গোপন রাখলেন কেন?

৭ ডিসেম্বর পলাশবাড়িতে ১৬ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল নাজার হোসেন এবং ব্রিগেডিয়ার তোজাম্মেল হোসেনকে এ্যামবুশ করা হয় এবং তারা অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। একজন বেসামরিক ব্যক্তি নাজারকে রক্ষা করে। তাদের উদ্ধার করার জন্য প্রতি আক্রমণ করা হলে ৩২ বালুচ রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুলতান মাহমুদ নিহত হন। এই আক্রমণ শুত্রুদের চব্বিশ ঘণ্টা পিছিয়ে দেয়। রাতের বেলাই ডিভিশনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মেজর জেনারেল জামসেদকে পাঠানো হয়, কিন্তু তিনি অবতরণ করতে না পেরে ঢাকা ফিরে আসেন। আমি চেয়েছিলাম ফরমানকে পাঠাতে। কিন্তু তিনি কোথাও লুকিয়ে যান, তাকে পাওয়া যায়নি। সে জন্য আমার সেকেন্ডে-ইন-কমান্ড জামসেদকে পাঠাতে হয়। গোটা যুদ্ধকালীন তখনই মাত্র একবারের জন্য ফরমানকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফরমান হালকা বাতাসে উড়ে যেন গায়েব হয়ে গেল। অথচ তাকে সব সময় গবর্নর হাউসে পাওয়া যেত।

৯ ডিসেম্বর আমি জেনারেল হেড কোয়ার্টার্সকে জানালাম, জনগণ শত্রুভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে, এমনকি রাতের বেলায় চলাচলও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা ভারতীয়দের সমগ্র সহায়তা করছে এবং বিভিন্ন ফাঁকফোকর দিয়ে যাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে আসছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী আমাদের জেটি, ফেরি এবং নৌযান ধ্বংস করে দিয়েছে। শত্রুদের বিমান আক্রমণে আমাদের ভারি অস্ত্র ও রসদের ভয়াবহ ক্ষতি সাধিত হয়েছে। নির্ঘুম কুড়ি দিনের কষ্ট ও ক্লান্তিতে সৈন্যদলের কর্মস্পৃহা শেষ হয়ে গেছে তার পরও কতগুলো জায়গায় সঙ্কটাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আমি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চেয়েছি। আমার পক্ষে যতটা সম্ভব সবটাই করতে পেরেছি। আমিও বিমান আক্রামণের এবং উড়োজাহাজে সৈন্য প্রেরণের জন্য হেড কোয়ার্টার্সকে অনুরোধ করলে সাড়া পাইনি। আমাকে বলা হয়, চাইনিজরা সাহায্য করতে শুরু করেছে। কিন্তু পরে প্রমাণিত হয় তাদের সব কথাই মিথ্যে। আমেরিকার নৌবাহিনীর সহায়তা লাভের উদ্যোগ নিয়ে চট্টগ্রাম ও চালনা সমুদ্রবন্দর আমার দখলে রেখেছি, কিন্তু কোন আমেরিকান সাহায্য আসেনি। আমি সহজেই চালনা বন্দর পরিত্যাগ করে বাহিনী খুলনায় নিয়ে আসতে পারতাম।

৯ ডিসেম্বর গবর্নর যে বেতার বার্তা পাঠালেন তাতে ঢাকাকে মুক্ত শহর ঘোষণার প্রস্তাব রাখেন। এ প্রস্তাবের বিভিন্নমুখী ফলাফল গবর্নর বিবেচনায় আনেননি। আমার সৈন্যদের অসহায় অবস্থায় ঢাকার বাইরে পরিত্যাগ করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমি গবর্নরকে বললাম, আমি তার প্রস্তাবে সঙ্গত নই, তাছাড়া এ ধরনের প্রস্তাব রাখা সমীচীন নয়। বস্তুনিষ্ঠতা ও ন্যায্যতার স্বার্থে এই বার্তাটি রাও ফরমান আলীর প্রকাশ করা উচিত ছিল, কিন্তু তিনি তা করেননি।

প্রেসিডেন্টকে পাঠানো গবর্নরের বেতার বার্তাটি ছিলÑ

৪৬৬০ ড়ভ ০৯১৮০০ : প্রেসিডেন্টের জন্য :

সামরিক পরিস্থিত হতাশাব্যঞ্জক। শত্রুরা পশ্চিমে ফরিদপুরের দিকে এগোচ্ছে। কুমিল্লা ও লাকসামে আমাদের বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে পূর্ব দিক দিয়ে মেঘনা নদী পর্যন্ত এসে গেছে। সমস্ত নদীপথ রুদ্ধ করে শত্রুরা চাঁদপুর দখলে নিয়ে গেছে। বাইরের কোন সাহায্য যদি অবিলম্বে না পৌঁছে শত্রুরা যেকোন দিন ঢাকার উপকণ্ঠে এসে পৌঁছেবে। ঢাকায় অবস্থানরত জাতিসংঘ মহাসচিবদের প্রতিনিধি বেসামরিক জনগণ বিশেষ করে অবাঙালীদের জীবন রক্ষার্থে ঢাকাকে মুক্তাঞ্চল ঘোষণার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি এ প্রস্তাব গ্রহণ করার পক্ষে রয়েছি। এই প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য আমি জোর সুপারিশ করছি।

জেনারেল নিয়াজি এ প্রস্তাব বিবেচনা করতে রাজি নন, তিনি মনে করেন তাঁর আদেশ শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়াÑ আর এর মানে ঢাকার পতন।

নিয়াজির পথে এগোলে সমস্ত সেনাবাহিনী হত্যাযজ্ঞের শিকার হবে। আরও শিকার হবে এখনকার পশ্চিম পাকিস্তানী পুলিশ অবাঙালী এবং অনুগত স্থানীয় নাগরিকগণ। আমাদের রিজার্ভে কোন নিয়মিত বাহিনী নেই, শত্রুরা একবার গঙ্গা (পদ্মা) বা মেঘনা পাড়ি দিয়ে চলে এলে, আজকের মধ্যে যদি চীন কিংবা আমেরিকা নৌ ও আকাশপথে সহায়তা না দেয়, আমদের প্রতিরোধের চেষ্টা ব্যর্থ হবে। আমি অবিলম্বে আপনার কাছে যুদ্ধবিরতি অনুমোদনে এবং রাজনীতিক সমাধানের সবিনয় অনুরোধ করছি। অন্যথায় কয়েকদিনের মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ভারতীয় সৈন্যের প্রয়োজন ফুরিয়ে এলে পশ্চিমাঞ্চল বিপদাপন্ন হয়ে পড়বে।

দয়া করে অনুধাবন করতে চেষ্টা করুন যে অধিকৃত এলাকায় স্থানীয় জনগণ ভারতীয় সৈন্যদের স্বাগত জানিয়েছে এবং তাদের সর্বাধিক সম্ভব সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। বিদ্রোহীদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় আমাদের সৈন্যরা নিজেদের প্রত্যাহার করে আক্রমণ চালানোর জন্য পুনর্গঠিত হবার সুযোগ পাচ্ছে না। পূর্ব পাকিস্তানীদের এই পক্ষপাতের কারণে পশ্চিম পাকিস্তানের আত্মত্যাগ অর্থহীন হয়ে পড়েছে।

৯ ডিসেম্বর ১৯৭১ সিগন্যাল এ০০০১-এ প্রেসিডেন্ট যে জবাব দিলেন তাতে গবর্নরের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়। গবর্নরের কাছে পাঠানো বার্তা :

আপনার পাঠানো ৯ ডিসেম্বরের দৃষ্টি আকর্ষণী বার্তা অ ৪৬৬০ পেয়েছি এবং ভালভাবে বুঝেছি। আপনার পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী কাজ করতে আমি আপনাকে অনুমতি দিচ্ছি। আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে আমি প্রচেষ্টা চালিয়েছি এবং তা অব্যাহত রেখেছি। কিন্তু আমরা পরস্পরের নিকট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন বলে পূর্ব পাকিস্তানের ব্যাপারে যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ আমি আপনার শুভবুদ্ধি ও বিচারের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। আপনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন আমি তা-ই অনুমোদন করব, একই সঙ্গে আমি জেনারেল নিয়াজিকে নির্দেশ দিচ্ছি তিনি যেন আপনার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বেসামরিক জনতার ওপর কা-জ্ঞানহীন হত্যাযজ্ঞ রোধ করতে এবং বিশেষ করে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনি যে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তাতে আমার সম্মতি থাকবে ...। আপনি এগিয়ে যান এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের বিরোধী পক্ষের সঙ্গে যে ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে মনে করবেন, আপনি তা-ই অবলম্বল করবেন।

শেষ পর্যন্ত এ এ কে নিয়াজিকে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ মেনে নিয়েছেন এ ছাড়া আর কোন পথও খোলা ছিল না। ১৬ ডিসেম্বর অপরাহ্ণে ঢাকার রেসকোর্সে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে পাকিস্তানের খ-ীকরণ চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪

১৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন



ব্রেকিং নিউজ: