কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সময়-অসময়ে পাশে থাকা শামিমা আক্তার রিমা

প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪
সময়-অসময়ে  পাশে থাকা শামিমা আক্তার রিমা

আমার স্বামী সজল ভীষণ নার্ভাস প্রকৃতির মানুষ। মেয়ের স্কুল থেকে ফিরতে দেরি হওয়া আমার সর্দিজ্বর বা পায়ের হাঁটুর ব্যথার মতো প্রত্যেকটি তুচ্ছাতিতুচ্ছ ব্যাপারেই ও প্রচ- টেনশন করে। ওর চিন্তার চোটে প্রথমে আমরা চিন্তিত, তারপরে বিরক্ত হতে শুরু করি। ওর জন্য মেয়েকে একা খেলতে যেতে দিই না। আমি নিজে কোন কাজে বের হলেও হাজারবার ফোন করে আমাদের লোকেশন জানতে চায়। এখন এমন একটা অবস্থা দাঁড়িয়েছে, ওকে বেশিরভাগ কথা না জানিয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিই। পাছে ও আবার চিন্তায় পড়ে যায়। এতে টেনশন খুব বিরক্তিকর হলেও আমরা মানিয়ে নিয়েছি। আসল সমস্যাটা দেখা দেয় সঙ্কটের মুহূর্তে। তখন আমার স্বামী মানসিকভাবে এতই দুর্বল হয়ে পড়েন যে পুরো সমস্যাটা সমাধানের ভার নিতে হয়। আমাকেই অসুস্থ পরিজনকে ডাক্তার দেখানো, হাসপাতালে ছোটা, মেয়েকে স্কুলে পাঠানো, সংসার সামলানো কোনটাই বা বাদ যায়। সেই সময় ওর জবুথুব অবস্থা দেখে কিছু বলতেও ইচ্ছে করে না। আবার একা সব করতে হয় বলে মেজাজ খারাপ থাকে। রাগের মাথায় এমন সব কথা মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায় যা আমার বলা উচিত নয়। জানি কারও দুর্বলতা নিয়ে অপমান করা উচিত নয়। কিন্তু না করেও তো পারি না আমরা যাকে নার্ভাস বলি, সেটা আসলে আত্মবিশ্বাসের অভাব। আপনার সঙ্গীর এই দুর্বলতা থাকলে তাঁকে এড়িয়ে যাওয়া বা হেয় করা কোনটাই সঠিক সমাধান নয়। হয়ত ছেলেবেলায় বেশি মাত্রায় সুরক্ষিত থাকার ফলে বা অন্য কোন ঘটনার জন্য তাঁর মনে ইনসিকিতরিটি বাসা বেঁধেছে বলেই তিনি এত টেনশন করেন। সেই কারণটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।

ওকে ক্রমাগত সাহস যোগান। আপনি যে ওর পাশেই আছেন, ওকে সাহায্য করতে সর্বদা প্রস্তুত এটা ওর মনে গেথে দিন। যদি মনে হয় যে ওকে কোন অকারণ, ভয় বা ফোবিয়া তাড়া করছে, তাহলে কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন। মানসিক দুর্বলতা না হয়ে অসুখ হলে ডাক্তারী চিকিৎসা দ্বারা নিরাময় সম্ভব। একজন মানুষ টেনশন করেন বলে তাঁকে কোন দায়িত্ব না দেয়া কিন্তু তাঁর কাজ করার বাসনাকে আরও দমিয়ে দেয়া। উনি যে কাজটা করতে কমর্ফটেবল, তাছাড়াও ওকে অনুরোধ করুন আপনার কাজে সাহায্য করতে। শুধু কাজের কথা ছাড়াও নিছক গল্প করে সময় কাটান। ওর জীবনের এ্যাচিভমেন্টের গল্পগুলো জানতে চান ওর ভাল গুণগুলোর প্রশংসা করুন। কৌশলে জানিয়ে দিন ওর কাছ থেকে আপনার প্রত্যাশা কতখানি। আপনি সহানভূতির সঙ্গে ওর সমস্যা বুঝতে চাইলে, উনিও আপনার চাপ লাঘব করতে চাইবেন।

যা করবেন :

* বিপদের মুহূর্তে যাঁর মাথা ঠাণ্ডা থাকে। তাঁরই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। তবে আপনার নার্ভাস সঙ্গীকে অবশ্যই কিছু দায়িত্ব দিন। তিনি যতটা পারেন। ততটাই করতে দিন। ভুল করলে সমালোচনা করবেন না। পরে কোন সময় নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নিন। কোথায় ভুল হয়েছিল।

* প্রতিদিন বাড়ি ফিরে এসে সবাই মিলে খানিকক্ষণ সময় কাটান। সারাদিন কে কী করলেন তাই নিয়ে আলোচনা করুন। আপনার বন্ধুবান্ধব, কলিকদের সঙ্গে সঙ্গীর আলাপ করিয়ে দিন, যাতে প্রয়োজনে সবাই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার চেনাশোনা সার্কেলের সঙ্গে সঙ্গী পরিচিত থাকলে অযথা টেনশন করবেন না। জীবনটাকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখুন। মানসিকভাবে দুর্বল হলেও তাঁর গায়ে নার্ভাস, ভিতু ইত্যাদি তমকা এঁটে দেবেন না। বরং নতুন মানুষদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিন। চেনা-জানার পরিধি বাড়লে নার্ভাসনেস অনেকটাই কেটে যায়।

প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪

১৫/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: