আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শিশুর মানসিক পরিচর্যা

প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪
শিশুর মানসিক পরিচর্যা

সব বয়সী শিশুদের জন্যেই শীতকালটা বেশ নাজুক। তাই শিশুদের সাস্থ্য সুরক্ষায় মা-বাবাকে হতে হয় বিশেষ যত্নশীল। যেন কোন শিশুরই শীতের সময়ে কোনরকম অযতœ না হয় সে বিষয়েও মা-বাবা থাকেন যতেষ্ট কেয়ারফুল। তাছাড়া অন্যান্য সময়ের থেকে শীতে যেন শিশুদের প্রতি যতেœর ব্যাপারে তাদের ভাবনা আরও বেড়ে যায়। তাছাড়া শিশুরা বেড়ে উঠতে উঠতে ভীষণ চঞ্চল হয়ে ওঠে। তখন শিশুদের মধ্যে একটা হুল্লোড়, চঞ্চললতা পরিগ্রহ লাভ করে। এই সময়টাতে মা-বাবাকে ভীষণ কেয়ারফুল হতে হয়। যখন স্কুলে ভর্তি হয় শিশুটি তখন পা রাখে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে। নতুন একটা পর্যায় চলে আসে শিশুদের মাঝে। ধীরে ধীরে শিশুরা তখন নিজেদের পছন্দ ভাললাগা না লাগাটা অল্প অল্প বুঝতে শেখে। এ সময়টাতে অভিভাবককে অনেক সতর্কতার সঙ্গে শিশুদের সামলাতে হয়। খেলাধুলা প্রবণতাও তখন শিশুদের মেধ্যে প্রবলভাবে জেগে উঠে। ফলে পড়াশোনা, খাওয়া-দাওয়া, ঘুমের চেয়ে খেলাধুলার প্রতি একটা আগ্রহ তৈরি হয়। দুরন্তপনার প্রাবাল্যই শিশুদের তখন খুবই চঞ্চল করে তোলে। শিশুদের এই প্রহরটাকে মা-বাবার তখন খুব হিসেব করে মানিয়ে নেয়ার রেওয়াজটা সর্বজনাবিদিত। সুন্দর স্বাভাবিক-পরিচর্যা শিশুদেরর রাখে ভীষণ সতেজ। মা-বাবাকে এ বিষয়েও মনোনিবেশ দেয়াটা প্রয়োজন। শিশুর বেড়ে ওঠার বয়সে-বিশেষ করে স্কুল গোয়িং শিশুরা ভীষণ অভিমানী হয়। তাই তাদের ম্যানেজ করতে হয় খবু সন্তর্পণে। এই বয়সের শিশুদের আবদারে মাত্রাটাও বেড়ে যায় বহুগুণ। সবমিলিয়ে শৈশবের এই সময়টা চাঞ্চল্যে ঘেরা থাকে। শৈশবের চিত্রটা শহর এবং গ্রামে ভিন্ন হলেও এই সময়েই শিশুদের মানসিক গঠন তৈরি হয়। তাই প্রাণবন্ত পরিবেশটা শৈশবে বেশ দরকার যাতে করে একটি শিশু প্রাকৃতিক নিয়মে সুন্দর পরিচ্ছন্ন পারিপার্শ্বিকতায় বেড়ে উঠতে পারে। মা-বাবার বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ শিশুদের শৈশবে একটা অপরিহার্য বিষয়। এরা কী ধরনের ড্রেস পরতে ভালবাসে সেদিকটাও খেয়াল রাখতে হবে মাকে। তবে এক্ষেত্রে ভিন্নতার একটা বিষয় রয়েছে। বিশেষ করে ছেলেশিশু কিংবা মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে মা-বাবাকে আলাদাভাবে কেয়ার করতে হয়। সব থেকে জরুরী ব্যাপার হলো শিশুদের স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রাখা। শৈশবের সময়টাতে শিশুরা যদি পরিপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করতে পারে তাহলে এদের গ্রোথের দিকটা থাকে স্বাভাবিক। তাই পুষ্টিকর খাদ্যাভাসের দিকে এদের আকৃষ্ট করতে হবে। পরিহার করতে হবে বাইরের কেমিক্যাল জাতীয় যে কোন খাবার। সম্প্রতি ফ্র্টুস-এ ফরমালিনের অতিমাত্রার ব্যবহারের ফলে ফ্রুটস খাওয়াটাও হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্যের জন্য অসম্ভব ঝুঁকিপূর্ণ। মা-বাবাকে এদিকটায় অবশ্যই সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে। তাছাড়া শিশুদের শৈশবকালটা ভীষণ স্পর্শকাতর একটা সময়। এ সময়ে অল্পতেই শিশুরা ঠা-া, সর্দি, জ্বর জাতীয় অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তাই তাদের এ জাতীয় অসুখ-বিসুখ থেকে নিরাপদ রাখতে মায়ের ভূমিকা এক্ষেত্রে শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।

শৈশবকালটা সাধারণত বছর দশেকের গ-িতে থাকে পরিবৃত্ত। তারপর এ বয়স অতিক্রম হয়ে গেলে এদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায় এবং এদের মধ্যে এরকরকম প্রাকৃতিকভাবেই প্রাণবন্ত ভাবটা চলে আসে। সবমিলিয়ে শৈশবের এই শিশুতোষ প্রহরে মা-বাবাকে শিশুদের প্রতি হতে হবে নিবিড় মনোযোগী। মানসিক বিকাশ, ভাবনার পরিচ্ছন্ন আবহ এই সময়েই একটি শিশু প্রবলভাবে গ্রহণ করে। তাই ভবিষ্যতের সুন্দর পথ রচনার সোপানগুলো এ সময়ে যতটা শিশোপযোগী হবে। এদের জন্য সেটা ততই ভাল। শিশুদের লেখাপড়ার বাইরে টিভি, কম্পিউটারের পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেয়াটা অত্যন্ত জরুরী। শিশুকে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শিশুটিকে বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ, শিষ্টাচার শেখাতে মা-বাবাকে রাখতে হবে পূর্ণ অবদান।

মডেল : তুর্য, অহনা ও অপ্সরা

প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪

১৫/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: