কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাংলাদেশের দারিদ্রা-বৈষম্য-অসমতা একীভূত রাজনৈতিক অর্থনীতির তত্ত্বের সন্ধানে

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪
  • ড. আবুল বারাকাত

(পূর্ব প্রকাশের পর)

আমাদের দারিদ্র্য-বৈষম্য-অসমতা যেহেতু প্রধানত ৎবহঃ ংববশরহম উদ্ভূত এবং যেহেতু অন্যান্য অনেক ফ্যাক্টরের মধ্যে ধর্মভিত্তিক উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের অর্থনীতি ৎবহঃ ংববশরহম-এর শক্তিশালী প্রভাবক, সেহেতু আরও কিছু বিষয় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক-অর্থনীতির তত্ত্ব বিনির্মাণে বিবেচনায় রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি এরকমÑ সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী রাজনীতি কোন দুর্বল প্রতিপক্ষ নয় কারণ তারা ইসলামের মূলতন্ত্র পরিত্যাগ করে ‘অর্থনৈতিক ক্ষমতাভিত্তিক প্রক্রিয়া’কে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। ধর্মকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের এ কৌশল আসলে ধর্মের ‘সুঃযড়ং’-এর সঙ্গে বাস্তরেব ‘ষড়মড়ং’-এর সম্মিলনের এক আধুনিক পদ্ধতি মাত্র। এ পদ্ধতিতে ধর্মকে ‘রাজনৈতিক মতাদর্শে’ রূপান্তর করা হচ্ছে। ধর্মভিত্তিক এ রাজনৈতিক মতাদর্শ ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত। অর্থাৎ মূলধারার ৎবহঃ ংববশরহম-এর মধ্যে ধর্ম-ব্যবহারভিত্তিক ৎবহঃ ংববশরহম শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে রূপান্তর ঘটাতে সক্ষম।

সাম্প্রদায়িক জঙ্গিত্ব এখনই নির্মূল সম্ভব নয় কারণ যে ভিত্তির ওপর সে দাঁড়িয়ে আছে তা কয়েকদিন ভেঙ্গে ফেলা যাবে না। আর ভিত্তিটি নিঃসন্দেহে দেশের ভিত্তিটি নিঃসন্দেহে বহিঃস্থ উপাদান দেশের ভেতরের (রহঃবৎহধষ ভধপঃড়ৎবং) দারিদ্র্য-দুর্দশা-বঞ্চনা-বৈষম্য-অসমতাসহ বহিঃস্থ উপাদান (বীঃবৎহধষ ভধপঃড়ৎবং) সংশ্লিষ্ট। বাস্তবে যা সম্ভব তা হলো ‘ক্ষতি হ্রাসের কৌশল’ (ফধসধমব সরহরসরুরহম ংঃৎধঃবমু) দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

স্বল্প মেয়াদি সমাধান হিসেবে ‘ক্ষতি হ্রাস কৌশল’ হতে পারে একই সঙ্গে কয়েকটি কাজ করা : (১) ১৯৭১-এ যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ করেছে, যারাই মৌলবাদী জঙ্গিদের গডফাদার, তাদের বিচার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে শাস্তি কার্যকর করা, (২) জঙ্গিদের অর্থ ও অস্ত্রের উৎস সম্পর্ক সরকারের যা কিছু জানা আছে তা অতি দ্রুত গণমাধ্যমে প্রকাশ-প্রচার করা, (৩) জঙ্গী অর্থায়নের উৎসমুখ বন্ধ করা, (৪) মৌলবাদের অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের তৃতীয়-পরীক্ষা অডিটের মাধ্যমে জামায়াত-জঙ্গীসংশ্লিষ্টতা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, (৫) জঙ্গীদের সংশ্লিষ্ট সকল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, (৬) বাজেয়াপ্তকৃত এ সম্পদ সরকারের তত্ত্বাবধানে এনে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা শীহদ হয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, অসচ্ছল জীবন-যাপন করেছেন এবং পরবর্তীকালে যাঁরা মৌলবাদী জঙ্গিত্বের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং পঙ্গুত্ববরণসহ আহত হয়েছেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাদের দেয়া, সেসঙ্গে সামাজিক-সাংস্কৃতিক মানব উন্নয়ন কর্মকা-ে তা ব্যয় করা, (৭) জঙ্গী কর্মকা-ের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া, (৮) জঙ্গীদের অস্ত্রের উৎসমুখ বন্ধ করা এবং একই সঙ্গে অস্ত্র উদ্ধারে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, (৯) সরকারের মধ্যেই যারা জঙ্গিত-প্রমোটর তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া এবং সরকার থেকে তাদের বহিষ্কার করা, (১০) ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার আন্দোলন-সংগ্রাম জোরদার করা এবং (১১) ব্যাপক জনগণের মধ্যে জঙ্গীদের প্রকৃত চেহারা-লক্ষ্য-উদ্দেশ্য উন্মোচনে সিরিয়াস প্রচারণামূলক কর্মকা- করা যাতে জনগণই জঙ্গী নির্মূল প্রক্রিয়ায় স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ করেন। (চলবে)

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪

১৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: