আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঢাকা এ্যাপারেল সামিট পোশাক শিল্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয়

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪
  • আরিফুর সবুজ

বিরাট ব্যাপারই বলতে হবে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বসেছে মহামিলনমেলা। সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ, বিদেশী দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, বিদেশী কূটনৈতিক, দেশীয় প্রতিনিধিদের পদচারণায় মুখরিত সম্মেলনস্থল। বলছি গত সপ্তাহের এই দিনে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ঢাকা এ্যাপারেল সামিটের কথা। ৯টি কর্ম অধিবেশন আর প্রদশর্নীর আয়োজন করা হয়েছিল এই সামিটে। পোশাক শিল্পকে আমাদের অর্থনীতির প্রাণ বলা হয়। রফতানি আয়ের আশি শতাংশই আসে এ খাত থেকে। একে তো অর্থনীতির প্রধান খাত, তার ওপর দেশে প্রথমবারের মতো এ খাতের আয়োজিত সামিট। তাই এই সামিট ঘিরে মানুষের আগ্রহের কমতি ছিল না। সামিটে পোশাক খাতের সমস্যা সম্ভাবনাসহ আরও অনেক গুরুত্বর্পূণ ইস্যু উঠে এসেছে। সেগুলো নিয়েই আজকের আয়োজন।

লক্ষ্য : সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া

সাত বছর পর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এই সময়ের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছে সরকার। এই স্বপ্ন পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে পোশাক খাত। বর্তমানে এ খাত থেকে বছরে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় হয়। আগামী সাত বছরের মধ্যে সেই আয়কে যদি ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হয়, তবে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া কঠিন হবে না। এই লক্ষ্য অর্জনের পথে পোশাকশিল্পের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে একটি মজবুত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং এদেশের পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্যই এই সামিটের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও, রানা প্লাজা ধসের পর বিশ্বব্যাপী এদেশের পোশাক খাত নিয়ে যে নেতিবাচক ভাবমূর্তি সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকে ক্রেতাদের দৃষ্টি ফেরানোর লক্ষ্যও এই সামিট আয়োজনের পেছনে কাজ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সামিটের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশী ক্রেতাদের পোশাক বেশি দামে ক্রয় করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা পণ্যের দাম বাড়ান। তাহলে শ্রমিকের মজুরি বাড়বে। শ্রমিকরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের অধিকারী হবে। আর তখনই সবাই উন্নয়নের সমান অংশীদার হবে।’ প্রধানমন্ত্রী দেশীয় উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। তাই টিকে থাকতে হলে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। ডিজাইনে নতুনত্ব আনতে হবে। নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে।’ এছাড়া তিনি তাঁর ভাষণে পোশাক শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে বিবেচিত দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি এই ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ, এটি অনেকের পছন্দ নয়। তাই তারা পোশাক খাতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এই দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে পোশাক মালিক, শ্রমিক, বিদেশী ক্রেতা ও ভোক্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পোশাক খাতের যে বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন, সেগুলো এই খাতটির উন্নয়ন ও বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আগুনে যেন পোড়ে না মানুষ

অগ্নি দুর্ঘটনা পোশাক খাতের জন্য অভিশাপ। আগুনে পুড়ে যায় প্রাণ, পোড়ে কারখানা। তাজরীন ফ্যাশনসের ভয়াবহ অগ্নিকা-ের পর বিদেশী ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নেয়া শুরু করলে, এ খাতের সংশ্লিষ্টরা নড়ে চড়ে বসেন। অগ্নিকা- প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতি মালিকদের উৎসাহিত করতে এই সামিটে অগ্নি নির্বাপণ ও ভবন নিরাপত্তার নানা প্রযুক্তি ও পণ্য নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল এক প্রর্দশনীর। এতে দেশী-বিদেশী ৫২টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। গার্মেন্টেস মালিকদের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রপাতি ক্রয়ে বেশ আগ্রহী দেখা যায়। অগ্নিপ্রতিরোধে সবচেয়ে আধুনিক ব্যবস্থাগুলোর একটি হচ্ছে স্প্রিংকলার। এটি আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা নিভিয়ে দেয়। একলাখ বর্গফুটের একটি ভবনে এটি স্থাপন করতে প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা খরচ পড়ে। ব্যয়বহুল এই স্প্রিংকলারের প্রতি বড় বড় কারখানার মালিকরা বেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে অধিকাংশ গার্মেন্টস মালিক ফায়ার ডোরের প্রতিই বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে। এগুলোর দাম আট’শ থেকে বারো’শ ডলারের মধ্যে। এছাড়া ফায়ার হাইড্রেন্ট এবং অ্যাড্রেসেবল ফায়ার ডিটেকশন সিস্টেমের প্রদর্শনী করা হয়েছে। এক লাখ বর্গফুট ভবনে ফায়ার হাইড্রেন্ট বসাতে খরচ হবে প্রায় সত্তর লাখ টাকা। এবং অ্যাড্রেসেবল ফায়ার ডিটেকশন সিস্টেমের জন্য প্রায় ত্রিশ লাখ টাকা। এগুলোর প্রতিও গার্মেন্টস মালিকরা প্রদর্শনীতে বেশ আগ্রহী ছিলেন। তবে শুধু আগ্রহ দেখালেই হবে না, এ্যাকর্ড আর এ্যালায়েন্সের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা গ্রহণের যে বাধ্যবাধকতা, তা পালনও করতে হবে।

সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি : ন্যায্যমূল্য

বিদেশী ক্রেতাদের শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি ও উপযুক্ত কর্ম পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বেশ লম্বা লম্বা কথা বলতে প্রায়ই দেখা যায়। দেখে মনে হয়, আহা কী দরদ! কিন্তু তারা যখন ন্যায্যমূল্যে পণ্য না কিনে কম দামে পণ্য কেনেন, তখন তাদের সেই লম্বা লম্বা কথাগুলো অসার কথায় পরিণত হয়। দরদ হয়ে ওঠে মায়াকান্না। ক্রেতাদের বেশি দামে পণ্য ক্রয়ের প্রতি তাই প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন। সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ‘দায়িত্বশীল নিরবচ্ছিন্ন পণ্য সরবরাহে অধিকতর সাহায্যকারী কি হতে পারে’, এমন প্রশ্ন সম্পর্কিত ভোটাভুটিতে ন্যায্যমূল্য পরিশোধের বিষয়টি অধিক ভোটে এগিয়ে থাকে। ৩৭.৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে সবার আগে জায়গা করে নেয় ন্যায্যমূল্য। এদেশের গার্মেন্টস মালিকরা ক্রেতাদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। আজ থেকে দশ বছর আগে যে দামে বিদেশীরা পোশাক কিনতো, এখনও সে দামেই কিনছে। একটু বেশি দাম চাইলেই তারা এদেশের বিক্রেতাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তাই বিক্রেতারা কম দামেই পোশাক বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। শ্রমিকদের বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। এতে মালিকরা হিমশিম খাচ্ছে। পোশাক খাতের সত্যিকার উন্নয়ন যদি ক্রেতারা চান, তাহলে তাদের বেশি দামে পণ্য ক্রয় করতে হবে। এই বিষয়টিই সামিটে বারংবার উঠে এসেছে।

শ্রমিকের নিরাপত্তায় চাই মানসম্মত কর্মপরিবেশ

পোশাক খাতের উন্নয়নের জন্য চাই মানসম্মত কর্মপরিবেশ। রানা প্লাজা ট্রাজেডি, তাজরীন ও স্পেকট্রাম দুর্ঘটনার পর থেকে এদেশের পোশাক কারখানাগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ উন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতা জোট এ্যাকর্ড অন বাংলাদেশ ফায়ার সেফটি এবং আমেরিকার ক্রেতা জোট অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি এদেশের কারখানাগুলোর পরিবেশ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নির্ণয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তারা ইতোমধ্যে ২১৯৩টি কারখানা পরিদর্শন করেছেন। এগুলোর ৯৮ শতাংশেরই কর্মপরিবেশ সম্পর্কে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তারা কোন সার্টিফিকেট ইস্যু করছেন না। এটা করা অত্যন্ত জরুরি। সামিটে সার্টিফিকেট ইস্যুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। কেননা অনেক ক্রেতাই কর্মপরিবেশের অজুহাত দিচ্ছেন। সার্টিফিকেট ইস্যু হলে ক্রেতাদের কর্মপরিবেশ নিয়ে দ্বিধা থাকবে না। এছাড়াও যে কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ এখনও ঠিক হয়নি, সেগুলোর কর্মপরিবেশ ঠিক করার প্রতিও সামিটে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

উন্নয়নের জন্য চাই অর্থ

পোশাক খাতের উন্নয়নের জন্য অর্থের বিকল্প নেই। পোশাক কারখানায় যে সংস্কার ও স্থানান্তরের কাজ চলছে, তার জন্য দরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ। একটি গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকা ও এর আশপাশের ২৮ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৪২ শতাংশ কারখানাই শেয়ার্ড ভবনে। আর এ কারণ দেখিয়ে ক্রেতারা পোশাক ক্রয় থেকে পিছপা হচ্ছেন। কারখানা স্থানান্তর করা তাই অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। একটি কারখানা সংস্কার বাবদ গড়ে প্রায় আড়াই লাখ ডলার প্রয়োজন। আর স্থানান্তরে এর চেয়েও বেশি অর্থের দরকার। বিপুল পরিমাণ এই অর্থের যোগান গার্মেন্টস মালিকদের জন্য বড় রকমের চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রায় হাজারখানেক কারখানা স্থানান্তরের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য দুই বিলিয়নের বেশি অর্থের প্রয়োজন। সংস্কার বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ মিলিয়ে আগামী পাঁচবছরে চার বিলিয়নের বেশি অর্থ দরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক, জাইকা, আইএলও, সরকার, এ্যালায়েন্স, আইএফসি, ভিএফ কর্পোরেশন এজন্য যে তহবিল বরাদ্দ দিয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। সামিটে আয়োজিত সেমিনারে এই বিষয়টি উঠে এসেছে। আশার কথা, ইতোমধ্যে দশটি ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিরা এ সংক্রান্ত তহবিলে অংশ নিতে রাজি হয়েছে। অন্য ব্র্যান্ডগুলোকেও এ তহবিলের অর্থ যোগানের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে এ সামিট থেকে।

শ্রমিক কল্যাণের জন্য দরকার কার্যকরী শ্রমিক ইউনিয়ন

পোশাক কারখানার প্রাণ শ্রমিক। সস্তা শ্রম এদেশের পোশাক শিল্পের প্রসারে সবচেয়ে বড় নিয়ামকের ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বলতেই হবে, শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে প্রায়ই বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ৫৩০০ টাকা করা হয়েছে। বর্তমান দ্রব্যমূল্যর উর্ধ্বগতিতে এটাও অপ্রতুল। অনেক কারখানায় বেতন সময়মতো দেয়া হয় না। যার ফলে শ্রমিকদের ব্যক্তিগত জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। মালিকরা শ্রমিকের শ্রমের ওপর ভর করে মুনাফা করছেন। তা মুনাফা করুক, যত ইচ্ছা তত বেশি করুক। কিন্তু শ্রমিকদের তো বাঁচিয়ে রাখতে হবে। দেখা যায়, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, চাকরির নিশ্চয়তা, সময়মতো বেতন প্রদান, ছুটিসহ বিভিন্ন অধিকার থেকে শ্রমিকরা এখনও অনেক কারখানায় বঞ্চিত হচ্ছে। এসব আদায়ে মালিকপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করতে পারে কার্যকরী শ্রমিক ইউনিয়ন। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী কার্যকরী শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন তাই সময়ের দাবি। কিন্তু এদেশের শ্রমিক ইউনিয়নে প্রকৃত শ্রমিকের উপস্থিতি কমই দেখা যায়। শ্রমিক না হয়েও শ্রমিক নেতা সেজে টাকা মেরে অনেকেই কাড়ি-কাড়ি টাকা বানাচ্ছেন। তাছাড়া রাজনীতিকীকরণ তো আছেই। এ কারণে এই সামিটের অধিবেশনে প্রকৃত শ্রমিক দিয়ে কার্যকরী শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের বিষয়টির ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি

পোশাক শিল্পের উন্নয়নের জন্য এই সামিটে অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পোশাক শিল্পের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কোনটি জরুরি, এমন প্রশ্ন সংক্রান্ত জরিপে দেখা যায় অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের কথা বলেছেন ৫৬.৬ শতাংশ। ভিয়েতনাম ১৩ লাখ শ্রমিক দিয়ে ১৭ বিলিয়ন ডলার আয় করে, আর আমরা ৪৪ লাখ শ্রমিক দিয়ে মাত্র ২৪ বিলিয়ন আয় করি। ভিয়েতনামের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত ব্যবস্থা, আর আমাদের দেশে বিদ্যুত ঘাটতি এই পার্থক্যর জন্য অনেকটা দায়ী। গ্যাস, বিদ্যুত, পরিবহন ও বন্দরের উন্নয়ন ঘটানো খুবই জরুরি। অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের জন্য প্রায় দশ হাজার কোটি ডলারের প্রয়োজন রয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নে পরিকল্পনা প্রণয়ন, অর্থসংগ্রহ ও তা বাস্তবায়নের জন্য এই সামিট থেকে সরকারকে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

ভাল কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার

সামিটে পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণের জন্য দেশের বারোটি পোশাক কারখানা এবং এ কাজে সহায়তাকারী এগারোজন পোশাক শ্রমিককে সোশ্যাল এ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। সোশ্যাল কমপ্লাায়েন্স ক্যাটাগরিতে সেরা প্রতিষ্ঠান হয়েছে অবন্তি কালার টেক্স, কুনটন এ্যাপারেলস, অনন্ত গার্মেন্টস, ইয়াসিন নিটেক্স, ইন্টারফাব শার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং। পরিবেশগত দক্ষতা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে ইন্টারসফট এ্যাপারেলস, ফখরুদ্দীন টেক্সটাইল মিলস, সায়হাম নিট কম্পোজিট, ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও। অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নে সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে বেক্সিমকো ফ্যাশনস ও ফখরুদ্দীন টেক্সটাইল মিলস। অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা ক্যাটাগরিতে সেরা প্রতিষ্ঠান হয়েছে এপিক গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স কোম্পানি ও ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও। এই পুরস্কার অন্যান্য কারখানাগুলোকেও তাদের কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে আগ্রহী করে তোলার জন্য করা হয়েছে।

শেষ কথা

জমজমাট কর্মচাঞ্চল্যতার মধ্যে দিয়ে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত ঢাকা এ্যাপারেলস সামিট শেষ হওয়ার পর, অনেকেই হিসেবের খাতা খুলে বসেছেন। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব কষছেন। কিন্তু হিসেবের সময় এখনও হয়নি। এই শিল্পে বর্তমানে যে কর্মদক্ষতা ও উৎপাদন দক্ষতা আছে, তার থেকে আর দশ শতাংশ দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলেই আগামী সাত বছরের মধ্যে পঞ্চাশ বিলিয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। আর তখনই বলা যাবে দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ঢাকা এ্যাপারলস সামিট সফল হয়েছিল। কর্মদক্ষতা ও উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য এই সামিটের ৯টি কর্ম অধিবেশনে যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো সমাধান করার জন্য সরকার, গার্মেন্টস মালিক, বিদেশী ক্রেতা ও দাতাদের এগিয়ে আসতে হবে এবং সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ধৎংঢ়ধঃঁধৎু@মসধরষ.পড়স

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪

১৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: