কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধের অমর গাথা

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লিটু খান

মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদান অপরিসীম। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানী বাহিনীর আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল অন্যতম।

ভয়াল কালরাত ॥ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ঢাকায় পাকিস্তানী বর্বর হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অপারেশন সার্চলাইটের নামে একযোগে ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালায় তৎকালীন পুলিশ (ইপিআর) সদরদফতর, রাজারবাগ পুলিশলাইন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে। এছাড়াও, তারা গোলা নিক্ষেপ করে মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রাবাসে। ১৮নং পাঞ্জাব, ২২নং বেলুচ এবং ৩২নং পাঞ্জাব রেজিমেন্টের বিভিন্ন ব্যাটেলিয়ন হায়নার মতো হামলে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। নিরস্ত্র বাঙালীর সামনে নেমে আসে বিভীষিকাময় কালরাত। ঘটে ইতিহাসের নির্মম গণহত্যা।

শিক্ষক হত্যা ॥ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ১৯ শিক্ষক ও এক কর্মকর্তা। বাংলা বিভাগের আবু নয়ীম মোহম্মদ মুনীর চৌধুরী, মুহম্মদ আনোয়ার পাশা ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী; ইংরেজী বিভাগের জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা ও এসএসএ রশিদুল হাসান; ইতিহাস বিভাগের গিয়াস উদ্দিন আহমদ, মো. আবুল খায়ের ও সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য; শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ন আ ম ফয়জুল মহী, মো. সাদাত আলী ও সিরাজুল হক খান; ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য; পরিসংখ্যান বিভাগের এএনএম মুনীরুজ্জামান; ভুতত্ত্ব বিভাগের এমএ মুকতাদির, দর্শন বিভাগের গোবিন্দচন্দ্র দেব; মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের ফজলুর রহমান খান; পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আতাউর রহমান খান খাদিম; গণিত বিভাগের সরাফত আলী; ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষক মোহাম্মদ সাদেক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোর্তজা শহীদ হন। ১৫ মার্চ কালরাতেই ৯ জন শিক্ষককে হত্যা করা হয়।

শিক্ষার্থী হত্যা ॥ ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানী বাহিনীর হামলার শিকার হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্রাবাসগুলো। বিশেষ করে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল (তৎকালীন ইকবাল হল), জগন্নাথ হল ও বেগম রোকেয়া হলে চলে নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ। পাকিস্তানী বাহিনী মেতে ওঠে নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞে। ‘স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের’ কর্মকা- পরিচালনার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছিল অপারেশন সার্চলাইটের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু। ওই রাতে শুধু জহুরুল হক হলেরই প্রায় ২০০ ছাত্র নিহত হন।

পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আক্রমণের অন্যতম শিকার হন জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও আবাসিক শিক্ষকবৃন্দ। জগন্নাথ হলের ৩৪ ছাত্র সে রাতে শহীদ হন। ঢাকার মার্কিন কনসাল আর্চার কে ব্লাডের লেখা ‘দি ক্রুয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ’ বই থেকে জানা যায়, সেই কালরাতে পাকিস্তানী বাহিনী ছাত্রীদের আবাসিক হল বেগম রোকেয়া হলে অগ্নিসংযোগ করে। ছাত্রীরা জীবন বাঁচাতে হল থেকে দৌড়ে বের হওয়ার সময় তাঁদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। অনেক ছাত্রীকে আটক করে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়। ডাকসু সংগ্রহশালার তথ্য মতে, ১০১ জন শিক্ষার্থী শহীদ হলেও, নাম না-জানা আরও কতজন যে প্রাণ হারিয়েছেন, তা জানা যায়নি।

বুদ্ধিজীবী হত্যা ॥ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ। এই দিনে এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সুপরিকল্পিত নিধনযজ্ঞের নির্মম বলি হন প্রগতশীল শিক্ষক, শিল্পী-সাহিত্যিক, সাংবাদিক তথা বুদ্ধিজীবীরা। ডিসেম্বর মাসে স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্তিম পর্যায়ে এসে পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর আল-বদর বাহিনী দেশকে সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে পঙ্গু করে দেয়ার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী হত্যার নীল নকশা অঁাঁকে। পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা বাঙালীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন ও হত্যা করে। ডিসেম্বরের ১০ তারিখ থেকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকা-ের প্রস্তুতি নেয়া হয়। মূলত ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পনার মূল অংশ বাস্তবায়ন করা হয়। বাঙালীর মুক্তির মন্দির সোপানতলে সহস্রাধিক বুদ্ধিজীবী হন বলিদান। বাংলাপিডিয়ার সূত্র মতে, ৯৯১ জন শিক্ষাবিদ, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবী এবং ১৬ জন শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রকৌশলী রয়েছেন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায়। তাঁদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ জন শিক্ষকও রয়েছেন।

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪

১৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: