মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, ঘাতকদের ফাঁসি দাবি

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪
  • নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ “আজ এই ঘোর রক্ত গোধূলীতে দাঁড়িয়ে/ আমি অভিশাপ দিচ্ছি তাদের/ যারা আমার কলিজায় সেঁটে দিয়েছে/ একখানা ভয়ানক কৃষ্ণপক্ষ/’....কিংবা ‘একঝাঁক ঝাঁ ঝাঁ বুলেট তাদের বক্ষ বিদীর্ণ করুক/ এমন সহজ শাস্তি আমি কামনা করি না তাদের জন্য’......।”

দেশের প্রধান কবি প্রয়াত শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় এভাবেই জাতির সূর্যসন্তানদের হন্তারক দেশদ্রোহী রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের শাস্তি কামনা করেছেন। শুধু প্রয়াত এ শ্রেষ্ঠ কবিই নন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া দেশের সকল প্রান্তে একাত্তরের রণধ্বনির মতোই একই আওয়াজ উঠেছে- “আর দেরি নয়, বুদ্ধিজীবী হন্তারক সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- চাই।”

দেশের প্রধান কবির দাবি আজ পূরণের পথে। তাই শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে এবার যোগ হয়েছে ভিন্নমাত্রা। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধীরা আজ সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি। বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী নরঘাতক কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। আরেক ঘাতক মুহাম্মদ কামারুজ্জামান যে কোন সময় ঝুলবে ফাঁসির দড়িতে। একাত্তরের ঘাতক প্রধান গোলাম আযম কারাগারে বন্দী অবস্থায় মরে গিয়ে বেঁচে গেছেন। ঘাতক মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সাকা চৌধুরী, মীর কাশেম আলী, বাচ্চু রাজাকার, চৌধুরী মাইনুদ্দিন আশরাফ হোসেন, মোবারক হোসেন, খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের রায় ঘোষণা করেছে। কারাগারের ফাঁসির সেলে মৃত্যুর প্রহর গুনছে একাত্তরের এসব ঘৃণ্য ঘাতক। কেউবা দেশ থেকে পালিয়ে ফেরারি অপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকরের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমোচন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

আজ সেই চৌদ্দই ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নিধনের মর্মন্তুদ স্মৃতিঘেরা এক দিন। বাঙালীর মেধা-মনন-মনীষা শক্তি হারানোর দিন আজ। ইতিহাসের পাতায় কালো আখরে উৎকীর্ণ বেদনা বিধুর কালবেলা। স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পরে হলেও গোটা জাতি আজ অধীর আশায় বুক বেঁধেছে, ঘৃণ্য নরপশু সব বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে, বিচারের রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতি আরেকটি কলঙ্কের হাত থেকে মুক্তি পাবে।

এবার এক ভিন্ন রকম পরিস্থিতিতে জাতি পালন করছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। শত ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও বাধার মুখেও বর্তমান সরকার তাদের বাকি মেয়াদেই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন ও রায় কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে। তবে এতদিন রাখঢাক রাখলেও পুরো জাতিকে হতবাক করে এখন বিএনপি প্রকাশ্য যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় মাঠে নেমেছে। খালেদা জিয়ার নির্দেশে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে চিহ্নিত এসব কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর মুক্তি এবং বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবি জানানো হচ্ছে। পুরো বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে হাজার হাজার কোটি টাকা লগ্নি করে বিদেশে লবিস্ট পর্যন্ত নিয়োগ করেছে। এ ঘটনায় পুরো জাতি আজ বিস্মিত, বিক্ষুব্ধ। ইতোমধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় ষড়যন্ত্র-চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে একাত্তরের মতো পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির নগ্ন অবস্থানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লাখো মানুষ।

১৯৭১ সালের নয় মাস রক্তগঙ্গা পেরিয়ে গোটা জাতি যখন উদয়ের পথে দাঁড়িয়ে, পূর্ব দিগন্তে টগবগিয়ে বিজয়ের লাল সূর্য উদিত হচ্ছে, দেশ যখন স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে- ঠিক তখনই বাঙালীর কৃতী সন্তানদের নৃশংসভাবে হত্যা করে পরাজয়ের গ্লানিমাখা পাক হানাদার আর তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা। বধ্যভূমিতে বড় অসহায় দশায় নিঃশেষে প্রাণ দেন আমাদের সেরা শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা।

রণক্ষেত্রে বীর বাঙালীর হাতে নাস্তানাবুদ হয়ে শেষে এ জাতিকে মেধাশূন্য করতে সুদূরপ্রসারী ঘৃণ্য নীলনকশা আঁকা হয়েছিল। ঘাতকরা চেয়েছিল জাতির মেরুদ- ভেঙ্গে দিতে। স্বাপদীয় জন্তুর মতো আঁধারে নেমেছিল দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ। এ রাতেই তালিকা ধরে ধরে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে বুদ্ধিজীবীদের নেয়া হয় অজ্ঞাত স্থানে। হত্যা করে ফেলে রাখা হয় নিস্তব্ধ ভুতুড়ে অন্ধকারে। জাতি হারায় তার অসংখ্য মেধাবী সন্তানকে। পরদিন ঘুম থেকে জেগে প্রায় ছুঁই ছুঁই স্বাধীনতার আনন্দে উদ্বেল মানুষ জানতে পারে এ নৃশংস হত্যাযজ্ঞের কথা। মুহূর্তে স্থবির হয়ে যায় সব আনন্দ-কোলাহল। অন্যদিকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে উল্লাসে ফেটে পড়ে এ দেশীয় নরঘাতকরা।

স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও প্রয়াত কবি শামসুর রাহমানের মতো গোটা বাঙালী জাতি একই দাবি নিয়ে আজ গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছে দেশের শহীদ কৃতী সন্তানদের। শোকাহত মানুষের ঢল নামবে সেদিনের সেই হত্যাযজ্ঞের স্মৃতিবিজড়িত রায়েরবাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিস্তম্ভে। সেখানে অর্পণ করা হবে পুষ্পার্ঘ্য। শোকে আপ্লুত বাঙালী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে প্রয়াত বুদ্ধিজীবীদের। বেদীমূল ঘিরে থাকবে তাদের পরিবারের সদস্য, ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীদের চাপা কান্না ও অশ্রুতে ভিজে উঠবে স্বজনের আনা ভালবাসার অর্ঘ্য। দেশের সর্বত্র আজ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। শোকের প্রতীক কালো পতাকাও উড়বে।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় যখন অবশ্যম্ভাবী, তখন নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে মরিয়া পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের আজ্ঞাবহ দেশদ্রোহী প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মান্ধ ঘাতক রাজাকার, আলবদর, আলশামস গোষ্ঠীর লোলুপ হিংস্র হায়েনারা উন্মত্ত মৃত্যুকামড় দিয়েছিল এদিন। সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে রাতের আঁধারে কাপুরুষের মতো জল্লাদরা হত্যা করেছিল দেশমাতৃকার শ্রেষ্ঠ কৃতী সন্তানদের। কুচক্রী ঘাতকগোষ্ঠীর হীন লক্ষ্য ছিল, লড়াকু বাঙালী জাতি স্বাধীনতা অর্জন করলেও যেন বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পঙ্গু, দুর্বল ও দিকনির্দেশনাহীন হয়ে থাকে। দেশটির স্বাধীনতা আটকানো না গেলেও শিশুরাষ্ট্রটি জ্বরা আর অপুষ্টিতে মুখথুবড়ে মারা পড়বে। সেই টার্গেট থেকেই হায়েনারা বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল এদিন।

পৃথিবীর অনেক জাতি যুদ্ধ করে, অনেক জীবন ও রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে; কিন্তু এত প্রাণক্ষয় কোন জাতির ভাগ্য ঘটেনি। শুধু তাই নয়, জাতির বিবেক বলে পরিচিত বুদ্ধিজীবীদের এমন নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাও ইতিহাসে বিরল। বাঙালী জাতির মুক্তি সংগ্রামে এসব বুদ্ধিজীবী নিজেদের মেধা, মনন ও লেখনীর মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগঠকদের প্রেরণা জুগিয়েছেন। পথ দেখিয়েছেন মুক্তির। উদ্দীপ্ত করেছেন অধিকার আদায়ে। আর সেটিই কাল হয়ে দাঁড়াল তাঁদের জন্য। পুরো সপ্তাহজুড়ে এ দেশীয় নরঘাতকদের করা তালিকায় একে একে উঠে এলো অসংখ্য বুদ্ধিদীপ্ত সাহসী মানুষের নাম।

স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম কিছুতেই সহ্য হচ্ছিল না স্বাধীনতাবিরোধী কুলাঙ্গার চক্রের। তাই ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য নৃশংস হত্যাযজ্ঞের গোপন ফন্দি আঁটে এরা। কৃতী বৃদ্ধিজীবীদের তালিকা তুলে দেয় তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর সশস্ত্র ক্যাডার গ্রুপ কুখ্যাত আলবদর ও আলশামস বাহিনীর হাতে। পেছন থাকে পূর্ব পাকিস্তানের দায়িত্বে থাকা পাক জেনারেল জল্লাদ রাও ফরমান আলী। ডিসেম্বরের ১০ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত সে তালিকা ধরে বৃদ্ধিজীবী হত্যার ঘৃণ্যতম অপকর্মটি করে এই ঘাতকচক্র। সান্ধ্য আইনের মধ্যে রাতের আঁধারে তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের বাসা থেকে চোখবেঁধে রায়েরবাজার এবং মিরপুর বধ্যভূমিতে নিয়ে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বিজয় অর্জনের পর স্বাধীন বাংলাদেশে রায়েরবাজার, মিরপুরসহ কয়েক জায়গায় পাওয়া যায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ক্ষতবিক্ষত বিকৃত লাশ।

একাত্তরের আলবদর বাহিনীকে তুলনা করা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির হিটলারের ফ্যাসিস্ট নাৎসী বাহিনীর গেস্টাপো বা এসএস ফোর্সের সঙ্গে, যাদের কাজ ছিল ইহুদী বুদ্ধিজীবী হত্যা। তারা মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাহিত্যিক-সাংবাদিক হত্যা করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং দেশের প্রধান সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, অধ্যাপকদের হত্যা করেছিল।

একাত্তরের ডিসেম্বরে হত্যাযজ্ঞের শিকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা এখনও নিরূপণ করা হয়নি। প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাপিডিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের যে সংখ্যা দাঁড় করানো হয়েছে সে অনুযায়ী একাত্তরে শহীদ বৃদ্ধিজীবীদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ জন শিক্ষাবিদ, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ চিকিৎসক, ৪২ আইনজীবী এবং ১৬ জন শিল্পী, সাহিত্যিক ও প্রকৌশলী।

এঁদের মধ্যে রয়েছেন ড. জি সি দেব, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য. ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক মুনীরুজ্জামান, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, ড. গোলাম মোর্তজা, ড. মোহাম্মদ শফি, শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজউদ্দিন হোসেন, নিজামুদ্দিন আহমেদ লাডু ভাই, খন্দকার আবু তালেব, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, নাজমুল হক, আলতাফ মাহমুদ, নূতন চন্দ্র সিংহ, আর পি সাহা, আবুল খায়ের, রশীদুল হাসান, সিরাজুল হক খান, আবুল বাশার, ড. মুক্তাদির, ফজলুল মাহি, ড. সাদেক, ড. আমিনুদ্দিন, সায়ীদুল হাসান, হাবিবুর রহমান, মেহেরুন্নেসা, সেলিনা পারভীনসহ আরও অনেকে।

যথাযোগ্য মর্যাদায় শোকের আবহে আজ রবিবার পালিত হচ্ছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। এ উপলক্ষে রায়ের বাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্তান এলাকায় নেয়া হয়েছে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নিয়েছে নানা কর্মসূচী। এর মধ্যে রয়েছে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনাসভা, গান, আবৃত্তি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন।

কর্মসূচী

যথাযোগ্য মর্যাদায় ও শোকের আবহে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন নিয়েছে বিস্তারিত কর্মসূচী। অনুষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষার্থে ডিএমপি পুলিশ ভিআইপিদের পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় মাইক না বাজানো এবং তাঁদের গমনাগমনের পথে তোরণ নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

সকালে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। আজ সকাল ৮টা ৫ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং পরে ৮টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধারাও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবেন। এরপরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এছাড়া একইসঙ্গে রায়ের বাজার বধ্যভূমিতেও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবেন কৃতজ্ঞ বাঙালী জাতি।

মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রতিবারের মতো এবারও দেশবাসীর সঙ্গে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্য্য সহকারে এই শোকাবহ দিনটি স্মরণ ও পালন করবে। আওয়ামী লীগের গৃহীত কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে- ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পাতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, সকাল সোয়া ৮টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে, পৌনে ৯টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং সোয়া ৯টায় রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। বিকেল ৩টায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনাসভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, গণফোরাম, জাকের পার্টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, বঙ্গবন্ধু একাডেমী, উদীচী, ন্যাপ ভাসানী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, খেলাঘরসহ অজস্র সংগঠন পৃথক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বেগবান ও দ-িত যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর করার দাবিতে আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় রায়ের বাজার স্মৃতিসৌধের সামনে শহীদ পরিবারের সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করবে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম।

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪

১৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: