কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঋণের শস্য মাল গুদাম থেকে উধাও

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪
  • ৭৩ চাষীকে ৫১ লাখ টাকা ঋণে গুদাম বন্ধ রাখে কৃষি ব্যাংক

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর, ১৩ ডিসেম্বর ॥ জেলায় মধুখালী পৌরসভা কার্যালয় সংলগ্ন শস্য বিপণন অধিদফতরের আওতায় শস্য গুদাম ঋণের আওতায় চাষীদের রক্ষিত প্রায় ৬৫ লাখ টাকার শস্য হঠাৎ রহস্যজনকভাবে উধাও হয়েছে। ওই পরিমাণ শস্যর জন্য মধুখালী কৃষি ব্যাংক শাখা ৭৩ জন চাষীকে ৫১ লাখ টাকা ঋণে গুদামে বন্ধক রাখে। এ ব্যাপারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা করলে গুদাম রক্ষক মোতাহার হোসেনকে পুলিশ আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।

জানা গেছে, শস্য বিপণন অধিদফতরের আওতায় সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী এলাকায় বন্ধকী ঋণের আওতায় এলজিইডি থেকে ভাড়া করা গুদামে চাষীদের উৎপাদিত শস্য চীনাবাদাম, খেসারি মসুর জাতীয় মালামাল কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে শস্য বন্ধক রাখা হয়। হঠাৎ ২৪ নবেম্বর গুদাম থেকে মালামাল উধাও হয়। নিয়মনুযায়ী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও গুদাম রক্ষক যৌথভাবে গুদামের চাবি ব্যবহার করার কথা। অথচ কিভাবে মালামাল উধাও হলো বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে শস্য গুদাম ঋণ প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর খান জানান, লোকাল কৃষক কমিটি, স্টোর কিপার এবং ব্যাংক ম্যানেজার মালামালের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকে। আমরা শুধু চাষীদের ১৮ মাস প্রশিক্ষণ করে ছেড়ে দেয়। ব্যাংক যেহেতু ঋণ প্রদান করেন সেটা তাদেরই দায়িত্ব। স্থানীয় কৃষক কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, আমি অসুস্থ, ব্যাংক ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পরে জানাব।

মধুখালী কৃষি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ ইউনুস মিয়া বলেন, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী শস্যগুদাম ঋণ প্রকল্পে আওতায় গুদাম কর্মকর্তা, স্টোরকিপার এবং গুদাম ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গুদামে রক্ষিত চাষীদের মালামালের ৮০% বন্ধকী ঋণ প্রদান করা হয়। কিন্তু নিয়ম ভঙ্গ করে গুদাম রক্ষক মোতাহার হোসেন মালামাল ছাড় করে। বিষয়টি জানার পরে মধুখালী থানায় নিজেই বাদী হয়ে ৪০৮ ধারার অপরাধে একটি মামলা দায়ের করি। তিনি আরও জানান, শস্যগুদাম কর্মকর্তা আবু জাফর খান, কৃষক সভাপতি নুরুল ইসলাম কৃষি ব্যাংকে স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে মালামালের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন গুদামরক্ষকের একার উপর। তাদের দুই জনের অঙ্গীকারনামায় বলা আছে, মালামাল হারিয়ে বা চুরি হলে তাদের দু’জনেই ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকিবে। তবে তিনি বলেন, ঋণের কিস্তি তোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্ত চলছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কৃষিব্যাংকের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আকবর আলী বিশ্বাস বলেন, শষ্য বন্ধক রাখা তালিকাভুক্ত কৃষক প্রতিনিধি ও গুদামরক্ষকই গুদামের সব দায়দায়ত্বি পালন করে। এ ব্যাপারে ব্যাংক শাখার কোন দায়দায়িত্ব নেই।

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪

১৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: