কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দুই যুগ পরেও ॥ বরিশাল বিভাগীয় দফতর খুলনায়

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪
  • গত এক বছরেও উন্নয়নেও ভাটা লেগেছে

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ স্বাধীনতার ৪৩ বছরেও কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হয়নি বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের। ফলে উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের শিকার এ অঞ্চলে দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদী ভাঙনসহ একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে এতদঞ্চলের মানুষ ছুটে চলেছেন অন্যান্য শহরে। অসংখ্য পরিবারের ঠাঁই হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন বস্তিতে।

সূত্রমতে, এ অঞ্চলে বিগত ৪৩ বছরেও তেমন কোন শিল্প কল-কারখানা গড়ে ওঠেনি। দু’যুগ পূর্বে বরিশালকে বিভাগ ঘোষণা করা হলেও অনেক বিভাগীয় দফতর এখনও রয়েছে এ অঞ্চলের পূর্বের বিভাগ খুলনায়। এখানকার মানুষকে দু’যুগ পরেও ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন, পেট্রোল পাম্প ও জ্বালানি তেল ক্রয়-বিক্রয়, বিস্ফোরক লাইসেন্স অনুমোদন ও নবায়নের জন্য ছুটতে হচ্ছে খুলনায়। বিভাগ ঘোষণার পর বাংলাদেশ বিমানের সার্ভিস চালু করে নগরীর হাসপাতাল রোডে বিমানের একটি অফিস খোলা হয়েছিলো। বিগত সেনাসমর্থিত (ওয়ান ইলেভেনের) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিমান সার্ভিসের সঙ্গে সঙ্গে গুটিয়ে নেয়া হয় বিমানের কার্যালয়টি। আমদানিকারকদের পণ্য শুল্কায়নের জন্য এখানকার ব্যবসায়ীরা এনবিআর-এর কর্মকর্তাদের কাছে বছরের পর বছর ঘুরে স্থানীয় ভ্যাট অফিসকে কাজে লাগিয়ে শুল্কায়ন করতে পারছেন না। তাদের ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্য শুল্কায়নের জন্য পণ্যবাহী জাহাজ নিয়ে পুনরায় ছুটতে হচ্ছে খুলনায়।

বরিশাল শহরের রূপ-সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে একসময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বরিশালকে আখ্যায়িত করেছিলেন ‘প্রাচ্যের ভেনিস’। শহরের সেই রূপ-সৌন্দর্য দিনে দিনে ম্লান হলেও প্রয়াত সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরণের ক্ষমতার ৫ বছর নগরীর ২৫ কিলোমিটার পুরনো এলাকায় আধুনিকতার ছোঁয়া দেয়া হয়েছিল। গত এক বছরে তাতেও ভাটা লাগতে শুরু করেছে। সরকার দলীয় সিটি মেয়র নির্বাচিত না হওয়ায় আর্থিক সংকটে নতুন প্রকল্প গ্রহণ তো দূরের কথা পুরনো কার্যক্রমও মুখ থুবড়ে পড়তে শুরু করেছে। সিটি কর্পোরেশনের বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ২৩০ কোটি টাকার বাজেট দেয়া হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ২৯ কোটি টাকার। পরের অর্থ বছরে বাজেট দেয়া হয় ২২১ কোটি টাকার। কাজ হয় ৩০ কোটি টাকার। এরকম ধারাবাহিকতায় এখন বাজেট দাঁড়িয়েছে ৪শ’ কোটি টাকার ওপরে। কখনই ১শ’ কোটি টাকার ওপরে কাজ করা সম্ভব হয়নি। বাজেট অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে এখানকার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আমলে মেয়রসহ নগর ভবন পরিষদের দায়িত্ব পালনকারী জনপ্রতিনিধিরা একই মতামত ব্যক্ত করেছেন। এ পর্যন্ত সকল মেয়রই দায়িত্ব পালনকালে প্রতিবছর বাজেট বক্তৃতায় একটি ট্রাক টার্মিনাল ও আধুনিক পার্ক নির্মাণের ঘোষণা দিলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পানি সঙ্কট নিরসনের জন্য বহুল প্রত্যাশিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ চলছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শুরু থেকে। আজও শেষ কাজ চলমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কবে শেষ হবে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ তা বলতে পারছেন না কেউ। নগর উন্নয়ন সম্পর্কে সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল জানান, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ২৫ থেকে বেড়ে ৫৮ কিলোমিটার হয়েছে। আর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আয়তন মাত্র ২৬ কিলোমিটার। অথচ সরকারী বরাদ্দের সময় দু’টি কর্পোরেশনকেই একই বাজেটের অনুদান দেয়া হয়। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের শুরুতে যেসব সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে তা এখন বার বার সংস্কার করার জন্য ব্যয় বেড়েছে। একইসঙ্গে নতুন নতুন সড়ক, সেতু ও কালভার্টসহ নানান স্থাপনা নির্মাণ করা জরুরী হয়ে পরেছে। ফলে নগর ভবনের ব্যয় বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। সেই তুলনায় সরকারী বরাদ্দ বা রাজস্ব বাড়েনি। ফলে স্বাভাবিক কারণেই কাক্সিক্ষত উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪

১৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: