কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বিক্ষোভকারীদের বিতাড়ন, হাঁফ ছাড়ল বেজিং

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪
  • হাল ছাড়তে রাজি নয় হংকংয়ের গণতন্ত্রীরা

হংকংয়ের পুলিশ বৃহস্পতিবার তরুণ বিক্ষোভকারীদের তাদের বিক্ষোভস্থল হটিয়ে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনা হংকংয়ের আঞ্চলিক সরকার ও তার বেজিংয়ের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের জন্য একটি সুখবর। কারণ বিনা রক্তপাতে হটিয়ে দেয়া গেছে ১১ সপ্তাহ ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকা বিক্ষোভকারীদের। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস।

পুলিশের বেষ্টনীর মধ্যে তড়িঘড়ি করে আটকাপড়া নিজেদের খাটানো তাঁবু গুটিয়ে নিচ্ছিলেন আরকি ফেং নামে এক বিক্ষোভকারী। তিনি কাপড় চোপড় ও অন্যান্য জিনিসত্র গুছিয়ে একটি ব্যাগে ভরে নিচ্ছিলেন। বয়স ২০-এর কোটার ফেং পেশায় এক সময়কর্মী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলছিলেন, ‘আমরা আবার ফিরে আসব।’ তার কথায় আমাদের কর্মসূচীর ধরণ ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তারা আবার ফিরে আসবে।

বৃহস্পতিবার পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে ২০৯ জনকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে। আন্দোলন অব্যাহত রাখতে ইচ্ছুক শত শত বিক্ষোভকারী গ্রেফতার হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছে। ১৯৮৯ সালের তিয়ানানমেন বিক্ষোভের পর এটি ছিল বেজিংয়ের কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিক্ষোভকারীরা দুমাসের বেশি সময় ধরে শহরের ব্যস্ততম এ্যাডমিরালটি এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে বসেছিল। বৃহস্পতিবারের পুলিশী অভিযানকে বেজিং সমর্থিত হংকং সরকারের বিক্ষোভকারীদের আপোস না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসাবে দেখা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি ২০১৭ সালে দ্বীপটি সে নির্বাচন হবে সেখানে হংকংবাসীকে স্বাধীনভাবে তাদের নেতা বেছে নেয়ার সুযোগ দিতে হবে। আগস্ট মাসে চীন ঘোষণা দিয়েছিল সব ভোটারই স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে তবে প্রার্থীদের বেজিং অনুমোদিত হতে হবে। ১৯৯৭ সালে ব্রিটেন থেকে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি কাছে হংকংকে হস্তান্তর করে। সাবেক ব্রিটিশ উপনিবিশ দ্বীপাঞ্চলটিতে বৃহত্তর গণতন্ত্রের দাবি বেজিং সরকার ও হংকংয়ের কর্তৃপক্ষ বারংবার প্রত্যাখ্যান করে চলেছে। বিষয়টিকে তারা নিজেদের জন্য বড় এক বিজয় হিসেবে দেখছে। কারণ আন্দোলনকারীদের বিতাড়ন করতে তিয়ানানমেনের মতো রক্তপাতের ঘটনা ঘটেনি। ওই ঘটনার জন্য বেজিং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা মুখে পড়েছিল।

অন্যদিকে গণতন্ত্রের জন্য বিক্ষোভকারী ছাত্র সমাজ আপতত কিছু অর্জন করতে না পারলেও ক্ষমতাসীনদের চ্যালেঞ্জ করার সক্ষমতা যে তাদের রয়েছে সেই পরিচিতিটি তারা অর্জন করতে পেরেছে। চীন শাসিত অঞ্চলে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা একটি বিরল ঘটনা। বিশ্লেষকরা মনে করেন, হংকংয়ে আগামী নির্বাহী বেজিংয়ের পছন্দ মতো হলেও আর্থিকভাবে সবচেয়ে অগ্রসর দ্বীপটিতে রাজনীতিতে যে মেরুকরণ ঘটেছে সমাজ জীবনেও তার একটি প্রভাব পড়তে পারে।

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪

১৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: