কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মুক্তিযোদ্ধা নবী হোসেনের এখন গলার কাঁটা তিন কন্যা

প্রকাশিত : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪

১৯৭১-এর রণাঙ্গনে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন সূর্য সন্তান নবী হোসেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বীর মুক্তিযোদ্ধার দিন আজও কাটে সকাল থেকে রাত্র পর্যন্ত রিক্সার পেডেল ঘুরিয়ে। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই ব্যক্তির ক্লান্তিহীন দিন কাটে ১১ সন্তানের আহার যোগাতে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বালিকান্দি গ্রামের মুগাই নদীর পাড়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাস করেন নবী হোসেন। রেডিওতে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর জ্বালাময়ী ভাষণ তাকে উজ্জীবিত করেছিল যুদ্ধে যেতে। কিন্তু মায়ের নিষেধ বাদ সাদে সেখানে। যুদ্ধ শুরুর কিছুদিন যেতে না যেতেই তাদের গ্রামে হানা দেয় পাক-হায়নারা। তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকারদের সহায়তায় চোখের সামনে সম্ভ্রম হারাতে দেখেন নিজ প্রিয় স্বজনদের। তারপর স্থানীয় মুগাই নদী পার করে দেয়ার দায়িত্ব পড়ে নবী হোসেন ও তার দুলাভাইয়ের ওপর। নদী পার করার সময় ৭ জন পাকহায়নাকে নৌকা ডুবিয়ে মারেন তাঁরা দু’জন। শুরু হয় যুদ্ধ যাত্রা। যোগ দেন মেজর মোতালিবের অধীনে ৫নং সেক্টরে।

রণাঙ্গনের যুদ্ধাহত এই মুক্তিযুদ্ধার বয়স এখন ৬৩ বছর। আজও এতটুকু মনোবল হারাননি তিনি। এই বয়সে এসেও কারও কাছে হাত পাততে শেখেননি এই সংগ্রামী মানুষটি। কারও দয়া বা অনুগ্রহও চান না তিনি। আর তাই সুনামগঞ্জ শহরে এখনও রিক্সা চালান। ‘৭১-এর যুদ্ধ শেষ হলেও জীবন-যুদ্ধ চলছে এখনও।

১১ সন্তানের বাবা নবী হেসেনই সংসারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তি। ৬ কন্যা ও ৫ পুত্র সন্তানের তিন কন্যা বিবাহ দিয়েছেন রিক্সা চালনার সীমিত আয় থেকে। ভাল বিয়ে দিতে পারেননি তাদের। তাই এখন এরাও তার সংসারে বসবাস করছে। এটাকেও নিজের নিয়তি হিসেবেই মানছেন নবী হোসেন। আরও ৫ ছেলে ও তিন কন্যার ভরণ-পোষণ করে বিবাহ দিতে পারাটাই এখন তার মূল লক্ষ্য। আর তাই বাকি দিনগুলো কর্ম করে খেতে চান এই বীরসেনা। কিন্তু আজ বয়সের কাছে সাহস হারছে বার বার। এখন প্রায়ই অসুস্থ হয়ে রিক্সা বন্ধ রাখতে হয়। প্রতিদিন তার সংসারে খরচ হয় ২-৩শ’ টাকা। মাথা গোঁজার ভিটে ছাড়া কিছুই নেই তাঁর। মেয়েদের বিয়ের জন্যও প্রতিদিন টাকা জমাতে চান নিজ আয় থেকে। কিন্তু এখন আর তা পারেন না। বৃদ্ধের রিক্সায় যাত্রী উঠতে চায় না। তাই আয়ও কমে গেছে। মেয়েদের কিভাবে বিয়ে দেবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছেন এই মুক্তিযোদ্ধা।

-এমরানুল হক চৌধুরী,

সুনামগঞ্জ থেকে

প্রকাশিত : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪

১৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: