মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মুক্তিযোদ্ধা বীরাঙ্গনা রোকেয়া এখন গৃহকর্মী

প্রকাশিত : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪

সাজেদ রহমান, যশোর থেকে ॥ বাঘারপাড়ার নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনা রোকেয়া এখন অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। নিজের বসতঘরের জমি নেই। বাস করেন অন্যের জমিতে। মাঠের জমিও নেই। স্বামী অসুস্থ । তাই কাজ করতে পারেন না। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যে টাকা পান, তা নিয়ে কোন রকম সংসার চলে রোকেয়ার। রোকেয়া খাতুনের বাড়ি বাঘারপাড়ার নাড়িকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের মালঞ্চী গ্রামে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঘারপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার ছিলেন কাওসার আলী। রোকেয়া জানান, নাড়িকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর স্কুল ও মালঞ্চীর সিদ্দিকুর রহমানের বাড়িতে মুক্তিফৌজদের দুটি ক্যাম্প ছিল। মালঞ্চী ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ, আর শ্রীরামপুর ক্যাম্প থেকে অপারেশন পরিচালনা করা হতো। মালঞ্চী ক্যাম্পে বাঙালী সেনা আকমল হোসেনের কাছ থেকে তাঁরা গ্রেনেড ব্যবহার ও থ্রি নট থ্রি রাইফেল চালনা প্রশিক্ষণ নেয়। পরে রোকেয়াকে শ্রীরামপুরের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৭১’র মে মাসে পাকসেনাদের হাতে আটক হবার পর যশোর ক্যান্টনমেন্টে বন্দি হন রোকেয়া ও তার দ্ইু সহযোগী ফাতেমা এবং হালিমা। সেখানে প্রায় ৮ মাস ধরে তাদের ওপর চলে পাশবিক নির্যাতন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও বীরাঙ্গনা হওয়ার কারণে ফাতেমা ও রোকেয়ার বিয়ে ভেঙ্গেছে কয়েকবার। পাকহানাদার বাহিনীর হাতে বন্দী থাকার জন্য ফাতেমার স্বামী তাঁকে তালাক দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে। রোকেয়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, বাঘারপাড়া বাজার ও এই সড়কের আরও দুটি ব্রিজ উড়িয়ে দেয়াসহ বেশ কয়েকটি বড় ‘অপারেশনে’ তিনি সম্মুখভাগে ছিলেন। সশস্ত্র যুদ্ধ ছাড়াও তিনি ছদ্মবেশে গোয়েন্দাগিরি, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খাবার সংগ্রহ ও তা ক্যাম্পে পৌঁছে দিতেন। এ কাজ করতে গিয়ে তিনি শত্রুপক্ষের নির্যাতনেরও শিকার হন।

বাঘারপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাসান আলী জানান, দেশ স্বাধীনের পর মুুক্তিযোদ্ধারা যশোর সেনা নিবাস থেকে রোকেয়াসহ ফাতেমা এবং হালিমাকে উদ্ধার করে। সেনানিবাসে আটক থাকার জন্য কেউ রোকেয়াকে বিয়ে করতে চায়নি। পরে মুক্তিযোদ্ধারা তাকে চাচাতো দুলাভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেন। তার দুই মেয়ের ইতোমধ্যে বিয়ে হয়েছে। এক মেয়ের স্বামী মারা গেছে। সেজন্য, মেয়ের সংসারও দেখতে হয় রোকেয়াকে। ফলে অনেক কষ্টের মধ্যে আছে রোকেয়া। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সশস্ত্র যোদ্ধা রোকেয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়ে সক্ষম হলেও সমাজ-সংসার জীবনে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হচ্ছে।

প্রকাশিত : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪

১৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: