মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

রাজশাহীর গগনবাড়িয়ায় গণকবর এখন গো-চারণভূমি

প্রকাশিত : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী থেকে ॥ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার গগনবাড়িয়ায় একাত্তরের নির্মম হত্যাকা-ের শিকার ১৮৫ শহীদের গণকবর এখন অযতœ অবহেলায় গো-চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। গণহত্যার স্মৃতি ধরে রাখতে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ তা অবহেলায় পড়ে আছে। শহীদ মিনারের জমি দখল করে লাগানো হয়েছে কলাগাছ। চাষ হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। অবাধে চরে বেড়ায় গরু-ছাগল।

জানা যায়, একাত্তরের ২২ অক্টোবর রক্তে রঞ্জিত হয় এ গ্রামটি। আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতায় রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে ধরে এনে গগনবাড়িয়া গ্রামে বেঁধে রাখে। পরের দিন শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে গগনবাড়িয়া গ্রামের একটি মাঠের মধ্যে নিয়ে গিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। শুধু তাই না গুলিতে আহত অনেক জীবন্ত মানুষকেও মাটি চাপা দেয়া হয়। ১৮৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকার সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয় ওইদিন।

দুর্গাপুর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধ সংসদের কমান্ডার আব্দুল করিম দাবি করেন, গণকবরে ২৮০ শহীদের লাশ আছে।

এ ঘটনার অনেক পরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এবং গণহত্যার স্মৃতি ধরে রাখতে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ তা অবহেলায় পড়ে আছে।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বজনদের অভিযোগ, সরকারীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না থাকার কারণে শহীদ মিনারটি দিনে দিনে দখলদারদের দখলে চলে যাচ্ছে। সেখানে অবাধে চরে বেড়ায় গৃহপালিত পশু। চাষ করা হয় বিভিন্ন ধরনের সবজি। এদিকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তারা ২০১১ সালের ৬ মার্চ গগনবাড়িয়া গ্রামে নারকীয় এ হত্যাযজ্ঞ ও জীবন্ত মানুষ মাটি চাপা দেয়ার গণকবরটি পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত অধরা থেকে গেছে অপরাধীন।

গগনবাড়িয়া গ্রামে গণহত্যার ঘটনায় নির্মিত শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ মিনার দখল করে স্থানীয় লোকজন কলা চাষ করছে। মিনারের প্রাচীরের ওপর মাচা তৈরি করে সেখানে শিম চাষ করা হচ্ছে। আর প্রাচীর ঘেঁষেই শহীদ আব্দুল করিম সরদারের কবরের পাশে গরুর গোয়াল বানানো হয়েছে। স্থানীয় মায়েন উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি শহীদ মিনারের জায়গা দখলে নিয়েছে। এর মধ্যে যুগিশো পালশা গ্রামের ৪২ হিন্দুকেও জীবন্ত পুড়িয়ে মারার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

উপজেলার যুগিশো গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা যদুনাথ সরকারের ভাতিজা ড. প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার জানান, স্বাধীনতার পরও গগনবাড়িয়া গ্রামে গণহত্যার স্থানটি সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ওই স্থানটিতে ২০০২ সালে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়।

প্রকাশিত : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪

১৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: