রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ওঁরা প্রাধ্যক্ষ, ওয়ার্ডেন ও আবাসিক শিক্ষক, ছাত্ররা চেনে না

প্রকাশিত : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪
  • ঢাবির অন্ত ১৭ জনের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ

মুহাম্মদ ইব্রাহীম সুজন ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার দা সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, একটি বিভাগের চেয়ারম্যান, একটি অনুষদের ডিন, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট প্রতিনিধিসহ অন্তত দশটি পদের দায়িত্ব একাই পালন করছেন। এ কারণে কোন দায়িত্বই ঠিকমতো পালন করা হচ্ছে না তাঁর। প্রাধ্যক্ষরুমে এসে মাঝে মাঝে হাজিরা খাতায় সই করেই প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব শেষ করেন তিনি। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ১৭ হল ও হোস্টেলের দায়িত্বে থাকা প্রাধ্যক্ষ, ওয়ার্ডেন ও আবাসিক শিক্ষকরা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছেন না এবং তাঁদের গাফিলতির বিষয়টিও স্পষ্ট। আবাসিক শিক্ষকরা হলে রয়েছেন নামেমাত্র। মোট ২১ আবাসিক হলে দুই শতাধিক শিক্ষক নিয়োজিত থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষকরা হল ছাত্রদের কাছে অচেনা। হলে অবস্থানরত ছাত্ররা ভুলে গেছে আবাসিক শিক্ষকদের কাজ কী। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশে তাঁদের দায়িত্ব সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও এখন তা প্রকৃত অর্থে অকার্যকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল পরিচালনায় প্রণীত বিধিতে উল্লেখ রয়েছে- দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা প্রতিদিন রাত নয়টায় নিজেদের ফ্লোরে উপস্থিত থেকে ছাত্রদের হাজিরা পর্যবেক্ষণ করবেন। ছাত্ররা হাজিরা খাতায় সই করবেন আবাসিক শিক্ষকদের উপস্থিতিতে। হল প্রাধ্যক্ষকেও নিজের আবাসিক শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা এবং প্রতিদিনের হাজিরা খাতায় তার উপস্থিতিতে স্বাক্ষর করার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিধিতে রয়েছে। এ নিয়ম থাকলেও তার কোন প্রয়োগ নেই। তবে ছাত্রীদের হলে মাঝে মধ্যে হাজিরা ডাকা হয়ে থাকে। সেখানে অন্যান্য বিষয়েরও তদারকি রয়েছে। ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে প্রাধ্যক্ষ এবং আবাসিক শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন সম্পর্কে ৪৫ বিষয় রয়েছে। ১৯৮৫ সালের জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির পর আবাসিক শিক্ষকদের দায়িত্ব-কর্তব্যে নতুন করে আলোকপাত ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবাসিক শিক্ষকদের পাঁচটি দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন। বিভিন্ন হল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী আবাসিক শিক্ষকদের হলে কমপক্ষে ১০ ঘণ্টার অধিক অবস্থান করার কথা। ২০১২ সালে এটি কমিয়ে রাত নয়টা থেকে একটা পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এরপরেও এই সময়ে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২৩ আবাসিক হল ও হোস্টেলের দায়িত্বে ২৩ জন প্রাধ্যক্ষ ও ওয়ার্ডেন রয়েছেন। আবাসিক শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় ২১৫। গড়ে প্রতিটি হলে প্রায় ১০ শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক শিক্ষকই তাদের অন্যতম কর্তব্য মেস ও ক্যান্টিন পর্যবেক্ষণে যান না। এ অবস্থা ছাত্রদের হলগুলোতে বেশি। এই দায়িত্ব শিক্ষকদের পদমর্যাদার উন্নতির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আবাসিক শিক্ষকরা দায়িত্ব পালনের সুবাদে প্রতিবছর একটি করে পয়েন্ট অর্জন করেন, যা তাদের প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতিতে কাজে লাগে। হলটির প্রাক্তন আবাসিক ছাত্র কাজল আবদুল্লাহ জনকণ্ঠকে জানান, ডিজিটাল করার নামে হলের ছাত্রদের সঙ্গে হল প্রাধ্যক্ষ তামাশা করেছেন।

প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন আবাসিক শিক্ষকরা। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা পালন করা হয় না বলে স্বীকার করেন তিনি।

প্রকাশিত : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪

১৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



ব্রেকিং নিউজ: