কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রবীন্দ্রনাথ ও নেহরু কীর্তির চেয়ে মহৎ, পরিবেষ্টনের চেয়ে সত্য

প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪
  • জাফর ওয়াজেদ

জ্যৈষ্ঠের দুপুরে শান্তিনিকেতনের শ্যামলীতে বসে রবীন্দ্রনাথ পড়ছিলেন জওহরলাল নেহরুর ‘আত্মজীবনী’ গ্রন্থ। দ্রুত পাঠ শেষ হলে, বসলেন নেহরুকে পত্র রচনায়। ১৯৩৬ সালের ৩১ মে, ‘প্রিয় জওহরলাল’কে লিখলেন, “এই মাত্র আমি তোমার মহাগ্রন্থ পড়া শেষ করেছি। তোমার এই কীর্তির দ্বারা আমি গভীরভাবে প্রভাবিত ও গৌরবান্বিত। গ্রন্থের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের মধ্য দিয়ে মনুষ্যজাতির এমন এক নিগূঢ় ধারা প্রবাহিত যা সত্যের জটিলতা অতিক্রম করে সেই ব্যক্তির কাছে নিয়ে যাবার যিনি তাঁর কীর্তির চেয়ে মহৎ এবং পরিবেষ্টনের চেয়ে সত্য। তোমার একান্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।” রবীন্দ্রনাথের এই প্রশংসাপত্র পেয়ে উদ্বুদ্ধ নেহরু। চিঠি পেয়ে মুগ্ধতায় নেহরু ১০ জুন ১৯৩৬ সালে কবিকে জবাব পাঠালেন। লিখলেন, “অনেক বন্ধু আমার বইয়ের প্রশংসা করেছেন। কেউবা আমার সমালোচনাও করেছেন। কিন্তু আপনার প্রশংসাবাণী আমাকে আনন্দিত ও শক্তিশালী করেছে। আপনার আর্শীবাদ পেলে আমি বোধহয় এক বিরুদ্ধ পৃথিবীর সামনে দাঁড়াতে পারি।” নেহরুর মনে যেমন সবসময়ই রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বিরাজিত, তেমনি রবীন্দ্রনাথের মনেও ছিল নেহরুর আনাগোনা। রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতন তথা বিশ্বভারতীর স্থায়িত্ব রক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন মহাত্মা গান্ধীর হাতে। এ সম্পর্কে বলেছিলেন নেহরুকেও। নেহরুও পুরোপুরি অবহিত ছিলেন বিষয়টি। শান্তিনিকেতন কোনো কারণেই যাতে অতীত গৌরব হারিয়ে না ফেলে সে জন্যে কবিগুরুর তিরোধানের পরপরই তিনি শান্তিনিকেতনের হাল ধরেছিলেন। তারই কর্মকুশলতায় বিশ্বভারতী স্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ১৯৫১ সালে স্বীকৃত পেয়েছিলো। নেহরু হলেন বিশ্বভারতীর আচার্য। সেই থেকে বিশ্বভারতীর প্রায় প্রতিটি সমাবর্তনে তিনি যোগ দিয়েছেন। তার কন্যা, শান্তিনিকেতনের ছাত্রী, রবীন্দ্রনাথের প্রিয়দর্শিনী ইন্দিরাও ছিলেন বিশ্বভারতীর আচার্য। তার পুত্র রাজীব গান্ধীও ছিলেন আচার্য। তিন প্রজন্ম শান্তিনিকেতনের প্রতি ছিলেন নিবেদিত।

রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় নেহরু শান্তিনিকেতনে গিয়েছেন পাঁচ বার, রবীন্দ্রপ্রয়াণের পর দশবার। বিশ্বভারতীর মর্মস্থলে রবীন্দ্রনাথের যে আদর্শ কাজ করে; ভারতের মর্মে মর্মে নেহরু সেই আদর্শের প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। নেহরুর কাছে শান্তিনিকেতন ছিল এক স্বপ্নরাজ্য। লিখেছেনও তাই, “যখনই এখানে আসি, আমার সাহস বাড়ে আমি পুনরুজ্জীবিত হই। যেন আমার কানে আসে গুরুদেবের কন্ঠস্বর। তাঁর বাণী প্রতিধ্বনিত হয় আমার মনে। আমি তাতে উৎসাহিত হই এবং এখান থেকে ফিরে যাই। আশা করি যেমন আমি এসেছিলাম তার চেয়ে একটু উন্নত হয়ে ফিরছি।”

শান্তিনিকেতন আর রবীন্দ্রনাথ তো সমার্থক। রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনের অসংখ্য গুণগ্রাহী ছিলেন, যাদের মধ্যে গান্ধী ও নেহরু উল্লেখযোগ্য। গান্ধীর কাছে ‘শান্তিনিকেতনই ভারতবর্ষ’ ছিল। বলেছেনও, “আমি যেখানেই থাকি না কেন শান্তিনিকেতন সবসময় আমার হৃদয় জুড়ে থাকে।” আর নেহরু বলেছিলেন, ‘শান্তিনিকেতন হচ্ছে আমার কাছে ‘নিঃস্ব মরুস্থলীর মধ্যে এক মরুদ্যান’। শান্তিনিকেতন নিয়ে বোধহয় রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নের সঙ্গে নেহরুর স্বপ্ন এক হয়ে গিয়েছিল। নেহরু কন্যা ইন্দিরাকে নিয়ে শান্তিনিকেতনে পৌষ মেলায় নাগরদোলায়ও চড়েছেন।

ভারতে ঊনিশ শতকের শেষদিক থেকে এই একুশ শতক পর্যন্ত রাজনীতিতে নেহরু পরিবার এখনো বিদ্যমান। স্বনামধন্য আইনজীবি ও রাজনীতিক পন্ডিত মতিলাল নেহরুর একমাত্র সন্তান পন্ডিত জওহরলাল নেহরু জন্মেছিলেন ১৮৯০ সালে ১৪ নভেম্বর। আর রবীন্দ্রনাথ জন্মেছিলেন ১৮৬১ সালের ৮ মে। নেহরু বয়সে ২৯ বছরের ছোট হলেও রবীন্দ্রনাথের খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছিলেন নিজের কর্মকুশলতায়। এমনিতে প্রাচুর্যের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠা কাশ্মীরী বংশোদ্ভূত শৈশবে ইংরেজ গবর্ণেস এবং কৈশোরে ইংরেজ গৃহশিক্ষকের তত্বাবধানে বিদ্যার্জন করেছেন। এরপর ইংল্যান্ডের বিখ্যাত পাবলিক স্কুলে হ্যারোতে এবং পরবর্তী পর্যায়ে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতকোত্তর এবং ইনার টেম্পল থেকে বার-এট-ল পরীক্ষায় কৃতিত্ব দেখান। ১৯১১ সালে স্বদেশে ফেরার পর লাহোর হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করেন। কিন্তু আইন পেশার চেয়ে রাজনীতি তাকে প্রভাবিত করে গভীরভাবে। কারণ পিতার রাজনৈতিক কর্মতৎপরতা তখন কেবল উত্তর ভারত নয়, গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের সঙ্গে একযোগে স্বরাজ্য পার্টি গঠন করেছিলেন। পুত্রের সক্রিয় রাজনৈতিক তৎপরতা, তাকে দ্রুত শীর্ষে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ভারতের শাসন ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য সাইমন কমিশন ১৯২৮ সালে ভারতে আসেন। ভারতের ভবিষ্যৎ শাসনতন্ত্রের একটি রূপরেখা তৈরির জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়, তাতে সভাপতি পিতা মতিলাল এবং সম্পাদক পুত্র জওহরলাল। পিতা-পুত্র উভয়ে ‘নেহরু রিপোর্ট’ই প্রণয়ন করেছিলেন। যাতে প্রাচ্যে গণতান্ত্রিক শাসন পদ্ধতির প্রস্তাব ছিল।

নেহরুর রাজনৈতিক ধ্যান ধারণায় অপরিসীম প্রভাব বিস্তার করেছিলেন মহাত্মাগান্ধী। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস প্রমুখ মনিষীর চিন্তাধারাও তাকে যথেষ্ট অনুপ্রাণিত করেছিল। অনেক ক্ষেত্রে গান্ধীর মত ও পথ গ্রহণে দ্বিধাবোধ করেছিলেন। তারপরও গান্ধীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ অটুঁট রেখেছিলেন। নেহরু শুধু রাজনীতিক নয়, মানব সভ্যতার ইতিহাস এবং প্রাচ্য ও প্রতীচ্য দর্শনেও ছিল তার গভীর জ্ঞান। ১৯৩৬ সালেই প্রকাশিত হয় তার আত্মজীবনী। এছাড়া ‘ইন্ডিয়া এন্ড দি ওয়ার্ল্ড’, ‘দি ইউনিট অব ইন্ডিয়া’, ‘গ্লিম্পসেস অব ওয়ার্ল্ড হিষ্ট্রি’, ‘ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া’, ‘সোভিয়েত রাশিয়া-ইন্ডিপেন্ডেন্স এন্ড আফটার’ ইত্যাদি গ্রন্থ তাঁকে একজন ‘পন্ডিত’ হিসেবে অভিধা দিয়েছে। গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে ১৯২০ সালে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই যাত্রা থেকে কংগ্রেসের চারবার সভাপতি শুধু নন, টানা ১৭ বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু কখনো জনগণের শ্রদ্ধা হারান নি। আধুনিক ভারতের তথা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের প্রধান স্থপতি হিসেবে তিনি স্বরিত হয়ে আসছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘জোট নিরপেক্ষে আন্দোলন’ তথা ‘ন্যাম’ গড়ার অন্যতম কারিগরও ছিলেন তিনি। এক কৃতি মানুষের আবরণে আচ্ছাদিত ছিলেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ এবং নেহরু দু’জনেই সোভিয়েত রাশিয়া সফর শেষে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিয়ে গ্রন্থ লিখেছেন। নেহরু প্রথম রাশিয়া সফর শেষে এসে লিখলেন গ্রন্থ, ‘সোভিয়েত রাশিয়া’। আর রবীন্দ্রনাথ লিখলেন ‘রাশিয়ার চিঠি’। একজন রাজনীতিক এবং অপরজন কবি ও মনীষী। দু’জনের দৃষ্টিভঙ্গীতেও আছে পার্থক্য। উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে মতবিনিময়ও করেছেন। আইন অমান্য আন্দোলনকালে গ্রেফতার ও কারাদন্ডে দন্ডিত হন। কারাগারে তিনি মার্কসীয় দর্শনের উপর প্রচুর পড়াশোনা করেন। তাই তার রাজনৈতিক চেতনায় সমাজতান্ত্রিক আবহ প্রাধান্য পেয়েছিল। জেলখানা থেকে কন্যা ইন্দিরাকে লেখা পত্রগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব শুধু নয়, সাহিত্যমূল্য আজো বিবেচ্য।

নেহরু দেশে ফেরার দু’বছরের মাথায় রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পান এবং বিশ্বকবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তার সাহিত্য বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে দেশÑবিদেশে প্রকাশিতও হচ্ছে তখন। নেহরুর দৃষ্টি স্বাভাবিকভাবেই রবীন্দ্র রচনার প্রতি আকৃষ্ট হয়। ১৯১৫ সালে শান্তিনিকেতনে গান্ধী-রবীন্দ্রনাথ সাক্ষাৎকারের পরের বছর নেহরু সান্নিধ্যে আসেন গান্ধীর। আইন ব্যবসা ছেড়ে রাজনীতিতে নেমে এলেন নেহরু। গান্ধীই তাঁকে পথ দেখালেন। ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল অমৃতসরের জালিনওয়ালাবাগে সংঘটিত হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ বৃটিশ শাসক প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি বর্জন করেন। ভারতের বড়লাটকে ১৯১৯ সালের ৩০ মে লেখা রবীন্দ্রনাথের পত্রটি সংবাদপত্রে ছাপা হয়। নেহরু তা পাঠ শুধু নয়, সে সম্পর্কে প্রতিক্রিয়াও তার দিনপঞ্জিতে তুলে রাখেন। “রবীন্দ্রনাথ রাজনীতিবিদ ছিলেন না, কিন্তু সূক্ষèগ্রাহী ছিল তার মন, এমন তীব্র আকাঙ্খা দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর ছিল যে, কবিতা ও গানের ভাবলোক থেকে তাকে বারেবারে বেরিয়ে আসতে হতো। যখনই কোনো পরিস্থিতি তাঁর দুর্বিষহ মনে হয়েছে তখনই তিনি তাঁর কবিজনোচিত নেপথ্য থেকে ইংরেজ সরকার কিংবা স্বদেশের লোকদের প্রতি বজ্রনির্ঘোষে তার সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছেন। বিশ শতকের প্রারম্ভে বঙ্গদেশে স্বদেশী আন্দোলনের ঝড় উঠলে পর দুর্গম পথযাত্রীদের পুরোধা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। অমৃতসরের হত্যাকান্ডের পর যখন তিনি ‘নাইট’ উপাধি বর্জন করেন। সেই সময় রাজনৈতিক ভারতবর্ষের পুরোভাগে আর এশবার তাঁর দৃপ্ত মূর্তি দেখা গেলো।” নেহরু রাজনৈতিক ভারতের পুরোভাগে রবীন্দ্রনাথকে স্থাপন করেই ক্ষান্ত হন নি, ভারতবাসীর শিক্ষা-সংস্কৃতির কর্ণধাররূপেও কবিকেই কল্পনা করেছিলেন। কবির শান্তিনিকেতনকে তার শিক্ষাদর্শ মনে হয়েছিল। “শিক্ষার গঠনমূলক যে কাজ তিনি নিভৃতভাবে লোকচক্ষুর অন্তরালে শুরু করেছিলেন, আজ তার ফলে ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থানরূপে স্বীকৃত হয়েছে শান্তিনিকেতন। ভারত মানসের উপর বিশেষত দেশের তরুণ সমাজের উপর তাঁর অসাধারণ প্রভাব পড়েছে।” নেহরু যখন এই প্রতিক্রিয়া লিপিবদ্ধ করেন, তখনো রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তার পরিচয় হয় নি। তবে রবীন্দ্রসান্নিধ্য নিশ্চয় তার বাসনায় ছিল। সে সুযোগও মিলে গেল বছরখানেক পর কলকাতায় যখন কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশন বসে। ১৯২০ সালের ৪ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অধিবেশন চলে। গান্ধীর সঙ্গে যোগ দিলেন নেহরু। অধিবেশন শেষে ফেরার পথে গান্ধীর সঙ্গে ১৩ সেপ্টেম্বর শান্তিনিকেতনে যান। এই প্রথম তার শান্তিনিকেতন দর্শন। আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন, “কলকাতায় কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশন সেরে ফিরে যাবার পথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর অতিপ্রিয় জ্যেষ্ঠভ্রাতা ‘বড়দাদা’র (দ্বিজেন্দ্রনাথ) সঙ্গে দেখা করতে আমরা শান্তিনিকেতন গেলাম। আমরা সেখানে কয়েকদিন ছিলাম। আমর আরও মনে পড়ে সি.এফ. এন্ডরুজ আমাকে কতকগুলো বই দিয়েছিলেন, সেগুলি আমাকে আনন্দ দিয়েছিল এবং গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।” তবে প্রথম শান্তিনিকেতন দর্শন হলেও নেহরুর আর প্রথম রবীন্দ্রদর্শন হয় নি। রবীন্দ্রনাথ তখন ইউরোপে সফররত। রবীন্দ্রবিহীন শান্তিনিকেতনে নেহরু কয়েকদিন কাটালেন দ্বিজেন্দ্রনাথ এবং এন্ডরুজের সঙ্গে। যাদের অসাধারণ সরলতা নেহরুকে আকৃষ্ট করেছিলো। দ্বিজেন্দ্রনাথ তাকে ‘শান্তিনিকেতন প্রশাস্তি ‘শান্তিনিকেতন না যদি দেখিলে/ নয়ন তবে কি কারণ’ আবৃত্তি করে শুনিয়েছিলেন। গান্ধীর সঙ্গে তার স্ত্রী, কনিষ্ঠপুত্র দেবদাসও ছিলেন। তাদের আমন্ত্রণ উপলক্ষে ‘বাল্মীকি প্রতিভা’ মঞ্চস্থ হয়েছিল।

রবীন্দ্রনাথ-নেহরু প্রথম দেখা করে কোথায় কখন সে নিয়ে কেউ উল্লেখ করেন নি। নেহরু লিখেছেন, “রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আমার প্রথম বা দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের সাক্ষাতের কথা মনেই পড়ে না। আমার শুধু অস্পষ্টভাবে মনে পড়ে আমি তাঁর কাছে গিয়েছিলাম।”

জালিনওয়ালাবাগের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথের লেখা পত্র প্রকাশের পর ভারতবর্ষে আরো অনেক ঘটনা ঘটে। ১৯২১ সালে গান্ধীর প্রভাবিত অসহযোগ আন্দোলন নিয়ে রবীন্দ্রনাথ-গান্ধীর মতৈক্য বেশিদিন টেকেনি। ১৯৩৪ সালে বিহারে ভূমিকম্পজনিত দূর্ঘটনা সম্পর্কে গান্ধীর বিবৃতির প্রতিবাদ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। গান্ধী বলেছিলেন, ‘অস্পৃশ্যতার পাপের ফলে বিধাতার কোপ’ এই ভুমিকম্প। রবীন্দ্রনাথ ১৯৩৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এর প্রতিবাদে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, “অস্পৃশ্যতার পক্ষে যাহারা হত বা আহত হইয়াছে, যাহাদের গৃহাদি ধংস হইয়াছে, বিধাতার শাস্তি তাহাদের উপর পড়িল, আর সারাদেশে যাহারা স্পর্শদোষ মানিয়া চলিতেছে তাহারা তো দিব্য বাঁচিয়া রহিল-এ কবি কেন, কাহারও পক্ষে মহাত্মাজীর এই যুক্তি মানিয়া লওয়া সম্ভব নয়ে।” (চলবে)

প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪

১২/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: