কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়

প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪

‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।’ এ কথাটি আমরা গানের মধ্যেও প্রতিনিয়ত শুনি। প্রতিবন্ধী শব্দটি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গেও আমরা অতিপরিচিত। প্রতিবন্ধীরাও মানুষ। সে প্রতিবন্ধী নারী হোক, পুরুষ হোক অথবা শিশু বা বৃদ্ধ হোক। কিন্তু বাস্তব চিত্র হচ্ছে প্রতিবন্ধীদের আমরা আলাদা করে দেখছি।

গত ৩ ডিসেম্বর ছিল আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। এ দিবসটি অন্য দিবসের মতো অনেকটা জাঁকজমক করে পালন করা হয় না। আমরা সব সময়ই প্রতিবন্ধীদের কাছ থেকে একটু এড়িয়ে চলি। আর নারী প্রতিবন্ধীদের কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। নারীরা এমনিতেই পারিবারিক-সামাজিকভাবে অবহেলিত। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, নারীর প্রতি সহিংসতা আর বৈষম্য তো রয়েছেই।

প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়। তারাও সমাজের একজন। তাদেরও সমাজের অন্য সবার মতো স্বাধীনভাবে চলার ও বসবাস করার মৌলিক অধিকার রয়েছে। প্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধীদের মৌলিক অধিকারের ব্যাপারে বর্তমান মানুষ সমাজে চরম উদাসীনতা এবং অবহেলা লক্ষ্য করা যায়। প্রতিবন্ধীদের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে সরকার ও বিশিষ্ট্য ব্যক্তিবর্গের খুব বেশি সাড়া পাওয়া যায় না।

২০১১ সালের আদম শুমারিতে প্রথম প্রতিবন্ধী জরিপের বিষয়টি সংযুক্ত হয়েছে। আদম শুমারির হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা এক দশমিক চার শতাংশ। তিন বছরের কম বয়সি শিশুদের ছয় ধরনের সমস্যার চিহ্নিত করে ২০১০ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিবারের আয় ও ব্যয়ের জরিপ অনুযায়ী (এইচআইইএস) অনুযায়ী দেশে প্রতিবন্ধী সংখ্যা নয় দশমিক শূন্য সাত ভাগ। বিশ্বের ৭০টি দেশ নিয়ে একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড কোশ্চেন’এর ভিত্তিতে ২০১১ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা ১৫.৭ শতাংশ।

২০০৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬১তম অধিবেশন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদ অনুমোদন করে। ১৪০ দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এই সনদের ৫০টি ধারা ও ১৮টি ঐচ্ছিক প্রতিপালনীয় বিধিবিধানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশ্বব্যপী তাদের প্রতি নানামুখী বৈষম্য, দমনপীড়ন, অবহেলা, নির্যাতনের অভিজ্ঞতায় তাদের মানবাধিকারের প্রতি সাড়া দিয়ে একটি পূর্ণ মানবাধিকারের আইন তৈরি করা হয়। শত সীমাবদ্ধতা আর সমালোচনা সত্ত্বেও এটিই প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার শীর্ষ দলিল। মানুষের অধিকার নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে অনেক সনদ অনেক আইন-নীতিমালা করা হয় কিন্তু বাস্তব রূপ আমরা দেখতে পাই না। আর বাস্তবায়িত হয় না বলেই আমাদের মানুষিকতার পরিবর্তন হচ্ছে না।

প্রতিবন্ধীরাও সমাজের মানুষ। তারা সমাজের একটি বড় অংশ। তাই আসুন আমাদের বিবেক, বুদ্ধি ও মনুষত্বকে সঠিকভাবে কাজে লাগাই। মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে সমাজের প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের পাশে দাঁড়াই। আমাদের একটু সহানুভূতিতে প্রতিবন্ধীরা পেতে পারে সুন্দর একটি জীবন। সমাজ পেতে পারে একটি সুন্দর মানুষ।

শফিকুল ইসলাম খোকন

প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪

১২/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: