কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কারুশিল্পী আরতি রানীর কথা

প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪

মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার খালিয়া কারুপল্লী গ্রামের বাসিন্দা আরতি দাস। বয়স ৪০। স্বামী সুবাস দাস আর এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। স্বামী অন্যের বাঁশবেত কারখানায় কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। কারখানা থেকে যে টাকা পেতেন তা দিয়ে কোন রকমে তাদের সংসার চালাত।

নিত্য অভাবের সংসারে স্বামী শ্বশুর-শাশুড়ির যন্ত্রনা সহ্য করতে হতো তাকে। কারণ কারখানা থেকে যে বেতন পেতেন তাতে সংসারের খরচাপাতি, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া কোনটাই ভালভাবে চালিয়ে যাওয়া যায় না। নুন আনতে পানতা ফুরানোর অবস্থা, একদিকে সামাল দিলে অন্যদিকে বেহাল অবস্থা। আরতি সাংসারিক অসচ্ছলতার হাত থেকে রেহাই পেতে নিজেই এগিয়ে এলেন খুব সামান্য মূলধন নিয়ে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র বানানোর কাজে। কারণ বাঁশের তৈরি কুলা, চালনা, ডালা বানানো ছাড়া অন্য কোন হাতের কাজ তার জানা ছিল না। তবে অদম্য উৎসাহ আর কঠিন পরিশ্রমের ফলে সামান্য পুঁজি নিয়ে তিনি একদিন আয়ের মুখ দেখলেন। গ্রামগঞ্জে পাটি, কুলা, চালনা, ডালা বাজারের এসব নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি শুরু করেন। এসব তৈরি করতে কাঁচাবাঁশের দরকার হয়। কাঁচাবাঁশ থেকে চিকন করে বাতা (বাঁশের চিকন ফালি) তুলে সেসব দিয়ে কুলা, চালনা, ডালা তৈরি করেন আরতি রানী। আরতি রানী দাস বললেন প্রায় ১৫০ টাকার বাঁশ কিনলেন ১০-১২টি খালই তৈরি করা যায়। যার এক একটার বাজার মূল্য ৫০ টাকা থকে ৭০ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর জন্য অনেকেই আরতি রানীর বাড়ি থেকে এসব জিনিস কিনে নিয়ে যায়। আবার দোকানদার এসে পাইকারি দরে একসঙ্গে অনেকগুলো কিনে নিয়ে যায়। গ্রামের মেলায় এসব সামগ্রী সবাই সুলভে কেনে। অভাবের সংসারে তিনি আয়ের মুখ দেখলেন। ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ার জন্য স্কুলে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে অরতি একজন সফল নারী। পরিশ্রম এবং ঐকান্তিক ইচ্ছায় তিনি নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যে কেউ আরতি মতো হাতের কাজে এগিয়ে আসতে পারেন। এক সমিক্ষায় দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ লোক দারিদ্র্যসীমার ওপরে অর্থাৎ এরা পরিশ্রমি করে উপার্জিত অর্থে সংসারে শান্তি এনেছেন। ঘরে ঘরে মানুষ উপার্জনশীল হলে দেশেও একদিন উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। আর ৪০ শতাংশ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে অর্থাৎ দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত আরতি রানী মতো অনেকেই বিভিন্ন হস্তশিল্পজাত কাজ করে কিংবা হাঁস-মুরগী গবাদিপশু পালন করে, বাড়ির আঙিনায় শাকসবজির চাষ করে দারিদ্র্যের জাল থেকে বেরিয়ে আসছে।

নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪

১২/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: