মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বিজয় নিশান উড়ছে ওই

প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪
  • তৌফিক অপু

বাঙালীর ইতিহাস-ঐতিহ্য হাজার বছরের। নিজস্ব কৃষ্টি-কালচারের বর্ণচ্ছটায় আলোকিত বাঙালীর ঐতিহ্য দেখে বিমোহিত পুরো বিশ্ব। একটি জাতির ঐতিহ্য যে এতটা সমৃদ্ধশালী হতে পারে, তা অনেকেরই মনে সৃষ্টি করে বিস্ময়। বাঙালীর রীতিনীতির ধরনটাই যেন আলাদা। একেকটি উৎসব পার্বণ পালিত হয় একেক আঙ্গিকে। প্রতিটি উৎসবেই প্রাণের আবেগে মিলিত হয় সবাই। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এক কাতারে এসে দাঁড়ায় সবাই। এ অটুট বন্ধনের কারণেই আজ আমরা জাতি হিসেবে গর্বিত। আরও বেশি গর্বিত হই এই ভেবে যে, আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে বিশেষ কিছু প্রাপ্তি। যা কখনই ভুলবার নয়। আর যে প্রাপ্তি একটা জাতিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারে, দিতে পারে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার সে প্রাপ্তির কথা আজন্ম-আমৃত্যু থেকে যাবে এটাই স্বাভাবিক। সে প্রাপ্তিগুলো হচ্ছে বাংলা ভাষা, বাংলাদেশ। তবে এই প্রাপ্তি সহজেই আমাদের কাছে ধরা দেয়নি। ছিনিয়ে আনতে হয়েছে। নিজের করে নিতে হয়েছে। বিনিময়ে দিতে হয়েছে বুকের তাজা রক্ত। বহু ত্যাগ সইতে হয়েছে। মোকাবেলা করতে হয়েছে শত্রু পক্ষ। আর সব প্রাপ্তির পূর্ণতা ঘটেছে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেস্বরে। ১৯৫২ সালে ছিনিয়ে এনেছি ভাষার অধিকার। আর ১৯৭১ সালে ছিনিয়ে এনেছি বাংলাদেশকে। যা জাতির জন্য বিশাল এক বিজয়। যার ব্যাপকতা মাপা সম্ভব নয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের সেই বিজয় আজও অবধি দোলা দেয় প্রতিটি মানুষকে এবং যুগ যুগান্তরে দিয়েও যাবে। এর রেশ যেন শেষ হবার নয়।

বিজয়ের অনুপ্রেরণা কাজ করে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে। ছোট বেলা থেকেই এর বীজ যেন বপন হয়ে যায় মনের গহীনে। ডিসেম্বর এলেই যেন সে মাত্রা আরও বহুগুণে বেড়ে যায়। নতুনভাবে পথ চলার প্রেরণা যোগায়। জীবনে আনে গতিময়তা। বয়ে যায় পরিবর্তনের হাওয়া। আর হাওয়া বিরাজ করে সর্বত্র। ফ্যাশন ট্রেন্ডও সে আওতার বাইরে নয়।

যে কোন উৎসবকে উপলক্ষ করে ফ্যাশন হাউসগুলো নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি সেরে রাখে। আসছে বিজয় দিবসকে সামনে রেখে ফ্যাশন হাউসগুলো ইতোমধ্যে তাদের প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। লাল সবুজকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিজয় দিবসের পোশাক। এ তালিকায় রয়েছে পাঞ্জাবি, শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, টি-শার্ট, শাল ইত্যাদি। এ প্রসঙ্গে তরুণ ডিজাইনার ইফতেখার জানান, দিবসভিত্তিক ফ্যাশন এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। আর দিবস যদি হয়ে থাকে তাৎপর্যপূর্ণ তাহলে তো কথাই নেই। বিজয় দিবসের গুরুত্ব সবার কাছেই অনেক বেশি। সে কারণে ফ্যাশন হাউসগুলোও বিজয় দিবসের পোশাক তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। জাতীয় পতাকার রঙকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাকে বিজয় দিবসের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়। যেহেতু হিমেল হাওয়া বইছে সে কারণে সংযোজন করা হয়েছে চাদর কিংবা শাল। ক্রেতাদের সাড়া মিলছে ভাল। সালোয়ার কামিজ এবং টি-শার্টের ক্ষেত্রে ফুল হাতাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কাপড় হিসেবে রয়েছে খাদি, নীপ কটন, এন্ড্রি কটন এবং জয় সিল্ক। ডিজাইন ভেরিয়েশনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের জনপ্রিয় কিছু গানের পঙ্ক্তি ও পোস্টারের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। শাড়ির আঁচলে রক্তিম সূর্যের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছে। শাড়ির ও পাঞ্জাবির ডিজাইন প্যাটার্ন খুব কাছাকাছি অর্থাৎ ম্যাচ করে করা হয়েছে। সব বয়সীদের জন্য থাকছে বিজয় দিবসের পোশাক। মাথার ব্যান্ড এবং উত্তরীয় এবারের বিজয় দিবসে নতুন সংযোজন। যা সহজেই আকৃষ্ট করছে ক্রেতাদের। কিছু কিছু ফ্যাশন হাউস ফ্যামিলি সেট বিজয় দিবসের পোশাকের পসরা সাজিয়েছে। অর্থাৎ বাবা, মা এবং সন্তানের পোশাকের ডিজাইন একই রকম। এতে অন্যরকম এক আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নগরীর প্রতিটি ফ্যাশন আউটলেটগুলোতে দেখা মিলবে বিজয় দিবসের পোশাক। বিজয় দিবসের পোশাক সম্পর্কে ফ্যাশন হাউস রঙের বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, বিজয় দিবস হলো আমাদের কাছে কাক্সিক্ষত এক দিন। যে দিনটিকে অর্জন করে নেয়া হয়েছে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে। ঠিক তেমনি আমরা আমাদের ভাবনার জায়গা সেখানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। তুলে আনার চেষ্টা করেছি বিজয়ের বিভিন্ন আঙ্গিক। যেটি পোশাক পরলেই খুব সহজেই বিজয়ের গৌরবগাথা ফুটে উঠবে। তিনি আরও জানান, শুধু এ দিনটিকে কেন্দ্র করে আমাদের সারা বছর ভাবতে হয়। কিভাবে বিজয় দিবসের ফ্যাশনে নতুন মাত্র আনা যায়। কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় ক্রেতাদের চাহিদা। কারণ নতুন মাত্রার পোশাকগুলো তরুণ প্রজন্মের পছন্দ। প্রায় সব আউটলেটেই পাওয়া যাবে বিজয় দিবসের পোশাক। তার মধ্যে আজিজ সুপার মার্কেট, আড়ং, দেশী দশ, সূতিসহ দেশীয় সব বুটিক হাউসে দেখা মিলবে বিজয় দিবসের পোশাক। তাছাড়া বিভিন্ন মার্কেট যেমন, ইস্টার্ন প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি, রাপা প্লাজা, এ.আর প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাসসহ বিভিন্ন মার্কেটে। দামও হাতের নাগালে। টি-শার্ট এর মূল্য পড়বে ২০০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা। সালোয়ার কামিজ ৯০০ টাকা থেকে ২৮০০ টাকা। পাঞ্জাবি ৭০০ টাকা থেকে ২৪০০ টাকা, শাড়ি ১০৫০ টাকা থেকে ৩২০০ টাকা, ফতুয়া ৩৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা। বিজয়ের এ দিনে পোশাকগুলো যেন এর আবহ আরও একগুণ বাড়িয়ে দেয়।

মডেল: নাদিয়া নদী, অহনা ও রিপন

পোশাক : নিত্য উপহার ও নগরদোলা

প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪

১২/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: