কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ওরিয়ন : মঙ্গলের পথে প্রথম মানব মহাযাত্রা

প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪
  • ইব্রাহিম নোমান

এপোলোর পর ওরিয়নই একমাত্র মানবচারী মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম অতি শক্তিশালী মহাকাশযান। ‘জার্নি টু মার্স’ নামের এই অসামান্য যাত্রা হবে মঙ্গলের মতো অগভীর মহাকাশে মানুষের যাত্রার স্বপ্নের বাস্তবে পরিণত হওয়ার পথে একটি বিশাল সাফল্য।

নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার, ফ্লোরিডা থেকে মানবতার এই মহান মঙ্গলযাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী এই মহাকাশ যানটি।

ওরিয়ন হচ্ছে গ্রীক মিথলজির সেই দক্ষ যোদ্ধা এবং শিকারি, যাকে জিউস মহাকাশে স্থাপন করেছিলেন। আর সেটাই হচ্ছে ওরিয়ন তারকাপুঞ্জ। নাসা ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি তৈরি করে মানুষকে এযাবৎকালের সকল কল্পনার বাইরে প্রেরণ করার জন্য। ওরিয়ন গভীর মহাকাশে নভোচারীর অনুপ্রবেশ এবং যাত্রা নিশ্চিত করার মতো করে বানানো। আজকের এই উৎক্ষেপণটি হচ্ছে নাসার নতুন হেভি রকেট লঞ্চার ডেল্টা-৪ এর পরীক্ষামূলক চার ঘণ্টার উৎক্ষেপণ, যা মহাকাশযাত্রার নতুন সফল এবং নিরাপদ পথের নির্দেশনা দেবে। ওরিয়নের এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ একইসঙ্গে এভিওনিক্স, মনোভাব নিয়ন্ত্রণ, প্যারাশুট এবং মহাকাশযানের তাপ তারতম্যের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশাল মাইলফলক দেবে। আজ পর্যন্ত নির্মিত সকল মহাকাশযানের চেয়ে অধিকতর শক্তিশালী এই মহাকাশযানটি মানুষকে মঙ্গলে প্রেরণ করার প্রথম পদক্ষেপ।

মূলত নাসা ২০২৫ সালের মাঝে উল্কাপিণ্ড এবং ২০৩০ সালের মাঝে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পূর্বপ্রস্তুতিস্বরূপ এই মঙ্গল যাত্রার পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে।

মহাকাশের অনেক গভীরে যাবে ওরিয়ন নামের ক্যাপসুল আকৃতির নভোযানটি। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা এই প্রকল্পে ইতিমধ্যে ৯১০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানভেরাল বিমানঘাঁটি থেকে ওরিয়নের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ৫ ডিসেম্বর নির্ধারিত থাকলেও, দমকা বাতাস ও রকেটের কারিগরি সমস্যার কারণে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়।

পরীক্ষামূলক এ উৎক্ষেপণে মহাকাশযানটির তাপ সহনক্ষমতা, প্যারাসুট ও অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করে দেখা হবে। মহাশূন্যে ভ্রমণ করে পৃথিবীতে নিরাপদে ফিরে আসার জন্য নভোচারীদের এসব ব্যবস্থার কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী ওরিয়নে চড়ে মানুষ ২০২৫ সাল নাগাদ প্রথমবারের মতো কোন গ্রহাণুতে পৌঁছাবে। আরও এক দশক পর মঙ্গলে প্রথম মানুষবাহী মহাকাশযান পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নতুন মহাকাশযান ওরিয়ন যে দূরত্ব পাড়ি দিতে চায়, মানুষের জন্য তৈরি কোনও নভোযান অন্তত ৪০ বছরে তত দূর যেতে পারেনি।

ওরিয়নের উৎক্ষেপণ

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার মহাকাশযান ওরিয়ন ফ্লোরিডা উপকূলের কেপ ক্যানভেরাল বিমানঘাঁটি থেকে প্রথম পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করেছে। এই নভোযানে করে মহাকাশের গভীরে মঙ্গল গ্রহের মতো দূরত্বে ভবিষ্যতে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিকূল বাতাস ও রকেটের কারিগরি ত্রুটির কারণে গত বৃহস্পতিবার ওরিয়নের প্রথম উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়েছিল।

২৪ তলা ভবনের সমান উঁচু ডেলটা ফোর হেভি রকেটে করে প্রথম যাত্রায় পৃথিবীর কক্ষপথে সাড়ে চার ঘণ্টা আবর্তন করে মানুষবিহীন ওরিয়ন। মহাকাশযানটির সুরক্ষাব্যবস্থা এবং জরুরী পরিস্থিতিতে অভিযান বাতিল করার সামর্থ্য যাচাই করতেই এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে মানুষ নিয়ে দূর মহাকাশে যাওয়া কতটুকু নিরাপদ হবে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে নাসা। ওরিয়নের এই সফল উৎক্ষেপণ মানব সভ্যতার অন্যতম মহামঙ্গলময় মহাযাত্রা।

সূত্র : নাসা, বিবিসি

প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪

১২/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: