মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

র‌্যাবের তারেক সাঈদ, আরিফ ও রানা ৭ খুনে জড়িত

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৪
  • তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ (চাকরিচ্যুত) এবং অপর দুই কর্মকর্তা সাবেক কোম্পানি কমান্ডার আরিফ হোসেন ও এমএম রানা জড়িত বলে র‌্যাবের তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে তারেক সাঈদ ও আরিফ হোসেন অপহরণ থেকে শুরু করে মরদেহ নদীতে ডোবানো পর্যন্ত পুরো ঘটনায় জড়িত থাকলেও এমএম রানা অপহরণ পর্যন্ত আংশিক জড়িত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত র‌্যাব সদর দফতরের তদন্ত কমিটির এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন এ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দাখিল করেন তদন্ত কমিটির প্রধান র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডিআইজি আফতাব উদ্দিন। পরে বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এদিকে, এ সাত খুনের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির নতুন প্রধান নিয়োগের আদেশ নাকচ করেছেন আদালত। আদেশে আদালত বলেন, শুরু থেকে সাত সদস্যের এই কমিটির প্রধান হিসেবে কাজ চালিয়ে আসা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মোল্লাকেই প্রতিবেদন দিয়ে বাকি দায়িত্ব শেষ করতে হবে।

পরে আদালত থেকে বেরিয়ে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের র‌্যাবের এই প্রতিবেদন অনুসারে অপরাধীদের তালিকাও পড়ে শোনান।

এ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, র‌্যাবের তালিকা অনুযায়ী অপরাধীরা হচ্ছেন, ‘এসআই পূর্নেন্দু বালা, এবি আরিফ হোসেন, নায়েক নাজিম, নায়েক দেলোয়ার, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, সৈনিক আব্দুল আলিম, সৈনিক আলামিন, সিপাহি তৈয়ব, কনস্টেবল সিহাবুদ্দিন, কনস্টেবল আলামিন, হাবিলদার এমদাদ, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সৈনিক আসাদ, সার্জেন্ট এনামুল, এএএসআই বজলু, হাবিলদার নাসির, সৈনিক তাজুল। এরা উপস্থিত থেকে সহায়তা করেছেন।’

এ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘ঘটনার প্রথম থেকে শেষ পর্যান্ত অর্থাৎ অপহরণ থেকে শুরু করে লাশ নদীতে ডুবানো পর্যন্ত লে. ক. (অব) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব) আরিফ হোসেন এরা জড়িত ছিলেন বলে এই তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। কিন্তু লে. কমান্ডার (অব) এএম রানা অপহরণ পর্যন্ত অংশ নিয়ে আংশিক জড়িত ছিলেন বলে এই তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।’

র‌্যাবের এই প্রতিবেদন তাদের অভ্যন্তরীণ উল্লেখ করে এ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই তদন্ত প্রতিবেদন কিন্তু বিচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। বিচারের ক্ষেত্রে ডিবির তদন্ত, চার্জশীট, যেভাবে আদালতে তুলবে, তার ভিত্তিতে বিচার হবে। তিনি বলেন, র‌্যাবকে দেয়া আদালতের আদেশেও সংস্থাটির কারা জড়িত, উদ্ধারে গাফিলতি ছিল কি-না, এই বিষয়গুলো দেখতে বলেছিলেন। ঘটনা সম্পর্কে র‌্যাব সদর দফতর জানত কি-না, এমন প্রশ্নে এ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি এটা দাখিল করেছি, সদর দফতর জানতেন কি-না, সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়ার পরই এটা বোঝা যাবে। পুরো প্রতিবেদন আমার পক্ষে পড়া সম্ভব হয়নি।’

এ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালত মন্তব্য করেছেন, এটা যেদিন চূড়ান্ত হলো, তারপরও কাগজে এসেছে, অনেকে অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, এটা তো তদন্ত সংস্থা না। প্রাথমিকভাবে যারা জড়িত বলে প্রতীয়মান হয়েছে, তাদের নামই এখানে এসেছে। এর ভিত্তিতে বিচার হবে না। বিচার হবে ডিবির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।’

শাহজাহান মোল্লাকেই তদন্ত কমিটির প্রধান ॥ নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনার তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির নতুন প্রধান নিয়োগের আদেশ নাকচ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি মোঃ রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশে আদালত বলেন, শুরু থেকে সাত সদস্যের এই কমিটির প্রধান হিসেবে কাজ চালিয়ে আসা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মোল্লাকেই প্রতিবেদন দিয়ে বাকি দায়িত্ব শেষ করতে হবে।

নারায়ণগঞ্জের এই চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে তা তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশে গত ৭ মে শাহজাহান মোল্লাকে এই তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। তার নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গত সাত মাসে চার শতাধিক ব্যক্তির সাক্ষ্য নেয়, যাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানও রয়েছেন।

এরই মধ্যে গত ৯ নবেম্বর শাহজাহান মোল্লাকে বাংলাদেশ সরকারী কর্মকমিশন সচিবালয়ের (পিএসসি) ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলে কমিটির কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। এ কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আবদুল হাকিমকে মঙ্গলবার কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে একসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান করে মামলায় আসামি করা হয় মোট ১২ জনকে। ৩০ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর গত ৩ মে নূর হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেফতার এবং রক্তমাখা মাইক্রোবাস জব্দ করে। এরপর গ্রেফতার করা হয় আরও ৩ জনকে। এ হত্যাকা-ের ঘটনায় র‌্যাব-১১ এর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন নিহত প্যানেল মেয়র নজরুলের পরিবারের সদস্যরা। এ অভিযোগের পর র‌্যাব-১১ এর তৎকালীন সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এমএম রানাকে চাকরিচ্যুত করা হয় গত ৬ মে। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশে তাদের গ্রেফতারও করা হয়েছে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে।

গত ৫ মে হাইকোর্ট এ ঘটনার তদন্তে একটি প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। এরপর ৭ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ শাহজাহান আলী মোল্লাকে প্রধান করে সাত সদস্যের প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ছয় কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে সাতজনকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় র‌্যাব সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্ত করতে র‌্যাবের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চার সদস্যের কমিটির প্রধান হলেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আফতাব উদ্দিন আহমেদ।

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৪

১১/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: