মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ ॥ আর্জেন্টিনা

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪
পরিবর্তনের  জন্য উন্মুখ ॥ আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার জনগণ আজ আর প্রেসিডেন্ট পদে ক্রিশ্চিনা ফার্নান্দেজ দ্য কার্চনারকে চায় না। তার অপশাসন তাদের জীবনে প্রচুর দুর্ভোগ নিয়ে এসেছে। তারা তাই সেøাগান তুলেছে, ‘আর্জেন্টিনা সিন ক্রিশ্চিনা’, ক্রিশ্চিনাকে আর্জেন্টিনার প্রয়োজন নেই। ১৩ নবেম্বর বেশ কয়েক হাজার লোক বুয়েনস এয়ারেসে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে সমবেত হয়ে দুর্নীতি, মুদ্রাস্ফীতি, অপরাধ এবং দেশ পরিচালনায় সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তাদের প্রধান দাবি ছিল ক্রিশ্চিনার অপসারণ। তাঁর জনসমর্থন আজ ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। গত বছর প্রায় ১০ লাখ লোক তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিল। এবার করেছে মাত্র কয়েক হাজার। কারণ আর্জেন্টিনা শীঘ্রই ক্রিশ্চিনার শাসন থেকে মুক্ত হবে। আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তাতে ক্রিশ্চিনার অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। সুতরাং পরিবর্তন একটা আসবেই। তবে সেটা ঠিক কি ধরনের, এ মুহূর্তে বলার উপায় নেই।

আর্জেন্টিনার জনগণের অভিযোগের শেষ নেই। দুর্নীতি এতই লাগামহীন এবং এত ব্যাপক বিস্তৃত যে, সরকারের যেন এ ব্যাপারে কিছু করার নেই। ভাইস প্রেসিডেন্ট আমাদো বুন্দু এ বছর দুই দুইবার অভিযুক্ত হয়েছেনÑ একবার দুর্নীতির জন্য, অন্যবার জালিয়াতির জন্য। কিন্তু তারপরও তিনি স্বপদে বহাল। অর্থনীতির অবস্থা শোচনীয়। একদিকে বিশ্বব্যাপী মন্দা, অন্যদিকে মুদ্রা বিনিময় নিয়ন্ত্রণসহ বেশকিছু স্বআরোপিত আঘাতের কারণে তা আরও বেহাল রূপ ধারণ করেছে। দেশীয় মুদ্রা পেসোর ওপর আস্থার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গত জুলাইয়ে ঋণখেলাপি হয়েছে আর্জেন্টিনা। তাতে আস্থার সঙ্কট তীব্রতর হয়েছে এবং ঘনীভূত হয়েছে মন্দা।

অর্থনীতির এই বেহাল অবস্থার কারণে সামাজিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ডিসেম্বর মাসটি এমনই এক আশঙ্কার মাস। গত দুটি ডিসেম্বরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পুলিশ অফিসারদের ধর্মঘট হয়েছে। ধর্মঘট চলাকালে গত বছরের ডিসেম্বরে লুটপাট ও হামলায় ডজনখানেক লোক নিহত হয়। এ বছরের অক্টোবরে সান্তাক্রুজে পুলিশ অফিসারদের সপ্তাহব্যাপী ধর্মঘটকে অনেকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে দেখে। নবেম্বরে বুয়েনস এয়ারেস প্রদেশের শিক্ষকরা দু’দিন ধর্মঘট করেছেন।

তবে সরকারের জন্য পরবর্তী বড় পরীক্ষাটা আসবে জানুয়ারিতে। সে সময় সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যেসব ঋণদাতার কাছে সরকারী বন্ড বিক্রি করে আর্জেন্টিনা খেলাপি হয়েছে, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা আবার শুরু করা হবে কিনা, আলোচনার মধ্য দিয়ে সরকার যদি বন্ডমালিকদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে পারে, তাহলে তা দেশের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। সেক্ষেত্রে দেশটার হাতে আসবে আরও ডলার । আর ডলার পেলে সরকার আমদানি ও মূলধনের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে পারবে। তবে সত্যিই সরকার সে ধরনের কোন আলোচনায় যাবে কি না, তা নিয়ে মিশ্র সঙ্কেত পাওয়া গেছে।

পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে ২০১৫ সালের অক্টোবরে। সেই নির্বাচন বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে পরিবর্তন ভাল হবে না মন্দ হবে, সেটা অবশ্য ভিন্ন কথা। তবে সেই নির্বাচনে তিন শীর্ষস্থানীয় প্রার্থীর সবাই সংরক্ষণবাদী নীতি থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলেছেন। এদের একজন ক্রিশ্চিনার দল পেরনিস্ট ফ্রন্ট ফর ডিক্টরির (এফপিভি) সদস্য এবং বুয়েনস এয়ারেস প্রদেশের গবর্নর ড্যানিয়েল স্কিওলি। তিনি ক্রিশ্চিনার চেয়ে অধিকতর বাস্তববাদী। ক্ষমতায় এলে তিনি ক্রিশ্চিনার প্রবর্তিত জনপ্রিয় সামাজিক কর্মসূচীগুলো বহাল রাখবেন। তবে অপরাধ ও মুদ্রাস্ফীতি দমন এবং বেকারত্ব কমাতে ক্রিশ্চিনার চেয়ে ভাল কিছু করবেন বলে ধারণা করা হয়। স্কিওলির প্রতিদ্বন্দ্বী সার্গিও মাসা। আগে একই দলে ছিলেন। তবে এ পর্যন্ত তিনি ক্রিশ্চিনার চেয়ে লক্ষ্যণীয় রকমের ভিন্ন কোন কর্মসূচী হাজির করতে পারেননি। তবে নির্বাচিত হতে পারলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা আসবে মরিসিও ম্যাকক্রির কাছ থেকে। তিনি বুয়েনস এয়ারেসে নগরীর জনপ্রিয় মেয়র ও ‘রিপাবলিকান প্রপোজাল’ নামে মধ্য ডানপন্থী দলের প্রতিষ্ঠাতা। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একমাত্র অ-পেরণপন্থী এই প্রার্থী বাজার অর্থনীতির প্রবক্তা এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্য অংশীদারদের প্রতি অধিক মুক্তদ্বার নীতির সমর্থক। নির্বাচনে এই তিন প্রার্থীর কে জয়ী হবেন, তা দেখার জন্য আরও প্রায় এক বছর আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : দি ইকনোমিস্ট

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪

১০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: