আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্যারিস চুক্তির বিষয়ে লিমায় সিদ্ধান্ত হতে পারে

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪
প্যারিস চুক্তির বিষয়ে লিমায় সিদ্ধান্ত হতে পারে

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব অনিরাময়যোগ্য এবং সময়সাপেক্ষ হলেও, এর সমস্যা সমাধানযোগ্য। কেবল ধনী দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে আনার মধ্যেই এর কার্যকারিতা নিহিত। জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে হলে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কেননা, ব্যবস্থা নেয়ার সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা। ইতোমধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা শূন্য দশমিক নয় ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়ে যাওয়ায়, দ্রুতগতিতে গলছে হিমবাহ এবং বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। বিপদসঙ্কুল এ সব সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় রেখে পেরুর রাজধানী লিমায় অনুষ্ঠিত হলো বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন। ১ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ সম্মেলন চলবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। লিমায় শুরু হওয়া জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে এবার বিশ্বের ১৯৫টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সমবেত হয়েছেন। মূলত আগামী বছর প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য চুক্তির খসরা তৈরির লক্ষ্য নিয়েই এবারের সম্মেলন। এ চুক্তিতে কোন বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত হবে, তা আলোচনা করতেই এবারের সম্মেলন। এ কারণে লিমা সম্মেলন জলবায়ু পরিবর্তনে একটি যুগান্তকারী ঘটনার সাক্ষী হতে পারে। মোট তিনটি বিষয় এবারের সম্মেলনে প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথমটি হলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে শিল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলোর করণীয়। দ্বিতীয়টি হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা এবং শেষটি হলো, প্যারিস চুক্তির ব্যাপারে সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয়। বর্তমানে বৈশ্বিক তাপমাত্রা রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মহাসাগর ও ভূমিতে গড় তাপমাত্রা গত ১৩৪ বছরের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ। ১৮৮০ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওসেনিক এ্যান্ড এ্যাটমোস্ফিয়ারিক এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া) এ হিসাব কষে আসছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন এখন দূরের কোন বিষয় নয়। জাতিসংঘ গত দুই দশক ধরে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে ধনী দেশগুলোর মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা এবং জলবায়ু পরিবর্তন দূরের একটি বিষয়Ñএ ধরণার কারণেই ভেস্তে যায় সব আয়োজন। জাতিসংঘের লক্ষ্য, বৈশ্বিক উষ্ণতা যেন ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে ধরে রাখা যায়। কিন্তু প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহ এ বিষয়ে আগ্রহী না হলে, পিছিয়ে পড়ে জাতিসংঘের নানা উদ্যোগ। বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণের ৪০ ভাগের জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রগুলো উল্লেখযোগ্য হারে কার্বন নিঃসরণ করে। এ তালিকায় উন্নয়নশীল দেশের বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোও অন্তর্ভুক্ত।

প্যারিস সম্মেলনের সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে লিমায়। উন্নত-স্বল্পোন্নত দেশ গুলোর দর কষাকষি শেষাবধি কোন পর্যায়ে এসে ঠেকেই তা। এখন দেখার বিষয়। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চায় কার্বন নিঃসরণে আইনী বাধ্যবাধকতা। দীর্ঘমেয়াদে ফল পেতে আইনী বাধ্যবাধকতার কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন ইইউয়ের প্রতিনিধি দলের প্রধান এলিনা বারড্রাম। ইইউ ঘোষণা দিয়েছে, তারা ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের কার্বন নিঃসরণ ১৯৯০ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনবে। কার্বন নিঃসরণ কমাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধানরাও আন্তরিক। গত ১২ নবেম্বর এক যৌথ ঘোষণায় দেশ দুটির প্রেসিডেন্ট ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তবে এই প্রতিশ্রুতির ধরন কেমন হবে, তা নিয়ে ধনী দেশগুলোর সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মতপার্থক্য রয়ে গেছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর দাবি, ধনী দেশগুলো কার্বন নিঃসরণের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনুক। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রসঙ্গটিও উল্লেখ করা হয়। তবে ধনী দেশগুলো আর্থিক প্রসঙ্গকে পাশ কাটিয়ে কার্বন নিঃসরণের বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। উন্নত-স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রের বিরোধের কারণে এখন প্যারিস চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ।

চলমান ডেস্ক

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪

১০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: