মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বালিকাবধূ!

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪

‘বালিকাবধূ’- শব্দটির মধ্যে যে কী মধু আর আকর্ষণ! গল্প-উপন্যাসেও বালিকাবধূর চরিত্রচিত্রণ বহু লেখকের ছিল ভীষণ পছন্দের। সমাজের গড়পড়তা পুরুষের চোখেই সেসব গল্প-উপন্যাস বেশ সুপাঠ্য। মায়াভরা বড় বড় চোখ, মুখে আধো আধো বোল এমন বালিকাবধূদের স্বামীদের দিকে অনেকেই ঈর্ষার চোখে তাকাতেন। সেই সমাজব্যবস্থা কি বদলেছে এক চুল পরিমাণ? অন্তত বালিকাকে বাহুলগ্ন করার বেলায়? না বদলায়নি। পরিসংখ্যান বলছে, বছরে গড়ে যে ১২ লাখ বিয়ে হয় তার ১২ শতাংশ বালিকাবধূ! আপাত বালিকাবধূ ধারণাটির পেছনে রয়েছে সামাজিক করুণ চিত্র। এতে সমাজের চাকা উল্টো যাত্রা অব্যাহত রাখারই ইঙ্গিত দেয়। রবীন্দ্রনাথের চোখের বালির বালিকাবধূর মতো বহু বালিকার জীবন ভোগবাদীর লালসার আগুনে ঝলসে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে বালিকাবিবাহ বা বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। আইনে মেয়েদের বিয়ের বয়স ধার্য করা হয়েছে ১৮ বছর। যদিও এই বয়সটিও আজকের আধুনিক যুগে কম বলেই মনে হয়। এ বয়সে মেয়ের শারীরিক বিকাশ পূর্ণ হলেও অথবা বলা সমীচীন, তার গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ না হলেও তার মনের বিকাশ যথাযথ নাও হতে পারে। ভিন্ন একটি পরিবারে গিয়ে তার বিভিন্ন বয়সী সদস্যের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা ও সম্পর্ক রক্ষার মতো মানসিক পরিপক্বতা মেয়েটির না থাকাটাই স্বাভাবিক। যারা বিয়ের আগে শিক্ষার্জনে ব্রতী ছিল তাদের শিক্ষা জীবনের ইতি ঘটার আশঙ্কাও থাকে। তারপরও মন্দের ভাল হিসেবে বিয়ের একটা স্ট্যান্ডার্ড বয়স ধার্যের ক্ষেত্রে ওই ১৮ বছর বয়সটিকে মেয়েদের ন্যূনতম বিয়ের বয়স হিসেবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশই স্বীকৃতি দিয়েছে। গত অক্টোবরে হঠাৎ করেই দেশে মেয়েদের বিয়ের বয়স আঠারো থেকে কমিয়ে ষোলো করার পরিকল্পনার কথা শোনা গিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তটি অবশ্য চূড়ান্ত হয়নি সর্বমহল থেকে বিশেষ করে নারী আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসায়। অবশ্য সেটা কার্যকরও হয়নি। হলে বালিকাবধূর হার কেবল বাড়ত।

বাংলাদেশে প্রতি তিন মেয়ের মধ্যে দু’জনকে বিয়ে দেয়া হয় ১৮ বছরের নিচে। সম্প্রতি ইউনিসেফের রিপোর্ট অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার ৪৬ শতাংশ মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হচ্ছে, যা বিশ্বে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ হার। এ তালিকায় বাংলাদেশের পরেই রয়েছে ভারত, নেপাল ও আফগানিস্তান। জাতীয় কন্যাশিশু এ্যাডভোকেসি ফোরামের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার ২০০৯ সালে ছিল ৬৪ শতাংশ, যা ২০১১ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৬৬ শতাংশ। সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের ৬৯ শতাংশ নারীর ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘদিন বাংলাদেশে সামাজিক অভিশাপ হিসেবে টিকে থাকা বাল্যবিবাহ বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিও একটি শর্ত। দারিদ্র্যের কারণে বহু বাল্যবিবাহ হচ্ছে। মেয়েদের নিরাপত্তা বিধানও বাল্যবিবাহ রোধের আরেকটি উপায়। আইনের কঠোর প্রয়োগ, শিক্ষার প্রসার, দারিদ্র্যদূরীকরণ এবং সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারে সমাজ।

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪

১০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: