কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রো ড টু মে ল বো র্ন

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দ্বিতীয় আসর বসে ১৯৭৯ সালে। প্রথম বিশ্বকাপের এবারেরও আয়োজক ছিল ‘ক্রিকেটের জনক’ ইংল্যান্ড। এবারও বিশ্বকাপ ক্রিকেটের স্পন্সরের হতে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রুডেনশিয়াল কোম্পানি। আর তাই দ্বিতীয় বিশ্বকাপেও ‘প্রুডেনশিয়াল কাপ’ নাম বহাল থাকে। এবারের বিশ্বকাপেও খেলা হয় ৬০ ওভার করে। প্রথম বিশ্বকাপের মতো এবারেও মোট ১৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম বিশ্বকাপে সহযোগী দলের মধ্যে থেকে আইসিসি শ্রীলঙ্কা ও পূর্ব আফ্রিকাকে সরাসরি চূড়ান্তপর্বে খেলার সুযোগ দিলেও এবারে আর সে সুযোগ থাকেনি। সেবার হয় তো আইসিসি ট্রফি আয়োজনের ভাবনা আইসিসি কর্তাদের মাথায়ই আসেনি। তবে এবার আর সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ থাকল না। যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই খেলতে হলো। এ বিশ্বকাপের আগেই চালু হয় ‘আইসিসি ট্রফি’। আইসিসি ট্রফি হচ্ছে, বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে খেলার টিকিট পাবার জন্য আইসিসির সহযোগী সদস্যদের মধ্যে ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। এবারে এ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দল দ্বিতীয় বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে খেলার সুযোগ পায়। এ বিশ্বকাপে আইসিসির পূর্ণ সদস্য ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রথম আইসিসি ট্রফির চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা ও রানার্স আপ কানাডা অংশগ্রহণ করে।

দ্বিতীয় বিশ্বকাপ : ইংল্যান্ড ১৯৭৯

ক্যারিবীয়দের ‘ব্যাক টু ব্যাক’ শিরোপা

এবারেও অংশগ্রহণকারী ৮টি দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করা হয়। এ গ্রুপে স্বাগতিক ইংল্যান্ড, রানার্স আপ অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও কানাডা এবং বি গ্রুপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, চ্যাম্পিয়ন ভারত, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা অংশগ্রহণ করে। ৯ জুন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সূচনালগ্নে ৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এবারও উদ্বোধনী দিনেই ৮টি দল অভিষেক ম্যাচে অংশ নেয়। এবারও একই সময়ে ৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় কে আগে খেলেছে কে পরে খেলেছে কে পরে খেলেছে তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। দ্বিতীয় বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে বার্মিংহামের এজবাস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯ উইকেটে ভারতকে, নটিংহামের ট্রেন্টব্রিজে নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে শ্রীলঙ্কাকে, লন্ডনের লর্ডসে ইংল্যান্ড ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে এবং লিডসের হেডিংলিতে পাকিস্তান ৮ উইকেটে কানাডাকে হারিয়ে জয় পায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের গর্ডন গ্রিনিজ দ্বিতীয় বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে শতরান করার কৃতিত্ব দেখান। মাইকেল হোল্ডিং পান ৩৩ রানে ৪ উইকেট।

এ গ্রুপ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রতিপক্ষ ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দাপটের সঙ্গে জিতলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বাতিল হওয়ায় ১ পয়েন্ট হারিয়েও গ্রুপে শীর্ষস্থান নিয়ে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করে। সেমি-ফাইনাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গী হয় নিউজিল্যান্ড। তারা ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতে ও চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরেও সেমি-ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। বি গ্রুপ থেকে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও জিতে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ড এবং পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার বিপক্ষে জিতে ও ইংল্যান্ডের কাছে হেরেও সেমি-ফাইনালের টিকিট পেয়ে যায়। পাকিস্তান এশিয়ার প্রথম দল হিসেবে প্রথম সেমি ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব অর্জন করে। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রথম আসরে এশিয়ার ৩টি দলের কোন দল গ্রুপ পর্বের দেয়াল ডিঙোতে পারেনি। লন্ডনের কেনসিংটন ওভালের প্রথম সেমি-ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৬০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৯৩ রান) এশিয়ার পাকিস্তানকে (৫৬.২ ওভারে ২৫০ রান) ৪৩ রানে হারিয়ে আবারও ফাইনালে খেলার টিকিট পায়। ম্যাঞ্চেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে স্বাগতিক ইংল্যান্ড (৬০ ওভারে ৮ উইকেটে ২২১ রান) ৯ রানে নিউজিল্যান্ডকে (৬০ ওভারে ৯ উইকেটে ২১২ রান) হারিয়ে ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিপক্ষ হয়।

২৩ জুন লর্ডসের ফাইনালে টসে জিতে ইংল্যান্ড প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করতে পাঠায়। অস্ট্রেলিয়ার মতো এবারেও যে ইংল্যান্ডের সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল না সেটা প্রমাণ করতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোটেও বেগ পেতে হয়নি। ক্যারিবীয়রা পুরো ৬০ ওভার ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রানের একটা বেশ বড়সড় ইনিংস গড়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিজেন্ড ক্রিকেটে তারকা স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস খেললেন ১৩৮ রানের এক অসাধারণ ইনিংস। তাকে ৮৬ রানের একটি অনুপম ইনিংস খেলে সঙ্গ দেন কিং। এ ইনিংসই বলে দেয় ব্যাক টু ব্যাক শিরোপা জিততে চলেছে ক্যারিবীয়রা। কোন অঘটন ঘটাতে পারেনি ইংরেজরা। ২৮৬ রানের জবাব দিতে গিয়ে অনেক লড়াই সংগ্রামের পর ৫১ ওভার খেলে ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ হলো ১৯৪ রানে। ক্যারিবীয় পেসার টনি বয়েস নিলেন ৫০ রানে ৪ উইকেট। আবারও ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতল ৯২ রানের বড়সড় ব্যবধানেই বলা যায়। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক মাইক ব্রিয়ারলির ৬৪ ও জিওফ বয়কটের ৫৭ রান কোন কাজেই এলো না। ক্যারিবিয়ান লিজেন্ড ভিভ রিচার্ডস হলেন ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল।

প্রথম বিশ্বকাপে কোন দল ৩০০ রানের ইনিংস করতে পারেনি। এ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বনিম্ন ৪৫ রানের ইনিংসটি খেলে শ্রীলঙ্কা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের গর্ডন গ্রীনিজ ৪ মাচে ৮৩.৩৩ গড়ে সর্বাধিক ২৫৩ রান করেন ও ইংল্যান্ডের মাইক হেনড্রিক ১৪.৯০ গড়ে সর্বাধিক ১০টি উইকেট নেন। এ বিশ্বকাপের সবচেয়ে’ বড় অঘটনটি ছিল আইসিসির সহযোগী দেশ শ্রীলঙ্কার কাছে ভারতের পরাজয়। শ্রীলঙ্কা ভারতকে হারানো ছাড়াও চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হবার ফলে ১ পয়েন্টসহ মোট ৩ পয়েন্ট লাভ করলেও ভারতকে কোন পয়েন্ট ছাড়াই খালি হাতে ফিরতে হয়। চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের নেতৃত্ব দেন ক্লাইভ লয়েড এবং রানার্স আপ ইংল্যান্ডের মাইক ব্রিয়ারলি। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেন ইংল্যান্ডের ডিকি বার্ড এবং বি জে মেয়ার।

দ্বিতীয় বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যোগ্য দল হিসেবে কাপ জয় করে। তাদের জয় নিয়ে কারো এতটুকু সন্দেহ ছিল না। তাদের হারিয়ে কাপ জেতার মতো আর কোন দল তখন ছিল না। কেননা ওয়েস্ট ইন্ডিজ যোগ্য দলে লয়েডের দক্ষ অধিনায়কত্বের পাশাপাশি ছিলেন ভিভ রিচার্ডস, গর্ডন গ্রীনিজ, হেইন্স, মারে, গোমস, কালীচরণ, রোহন কানহাই, কিং, গার্নার, ক্রফট, হোল্ডিং, মার্শাল, এন্ডি রবার্টসের মতো উজ্জ্বল তারকারা। যাদের মোকাবেলা করা অন্য দলের পক্ষে অতটা সহজ ছিল না।

ব-সধরষ :ংুবফসধুযধৎঁষঢ়ধৎাবু@মসধরষ.পড়স

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪

১০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: