মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কস্টনারের কষ্টের সময়...

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪
কস্টনারের কষ্টের সময়...

বয়স বিশ পেরোলেই অভিজ্ঞতায় ভরপুর হিসেবে বিবেচিত হন যে কোন এ্যাথলেট। এমন ইভেন্ট শারীরিক কসরত আর মোহনীয় প্রদর্শনীগুলোর ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। কারণ কৈশোরেই অনেক তারকা অসামান্য কিছু কীর্তি সৃষ্টি করেন। ফিগার স্কেটিংয়ে তেমনটা আগেই করে ফেলেছেন ইতালির গ্ল্যামার গার্ল ক্যারোলিনা কস্টনার। এখন বয়স ২৭। সময় হয়ে গেছে সরে দাঁড়িয়ে নতুনদের জায়গা করে দেবার। যদিও বিশের পরেই কস্টনার নিজেকে মেলে ধরেছেন। পাঁচবার ইউরোপিয়ান আসরের চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি বয়েস বিশ পেরোনোর পর। তবে শীতকালীন অলিম্পিকে তেমন কিছুই করতে পারেননি। এবার সোচিতেই প্রথমবার কোন অলিম্পিকে অংশ নিয়ে শুধু ব্রোঞ্জ জিততে পেরেছেন। ক্যারিয়ারের শেষ মুহূর্তে এসে দারুণ কষ্টকর এক সময়ে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তাঁর ওপর আরোপ হতে পারে দীর্ঘমেয়াদের নিষেধাজ্ঞা। অভিযোগটা আসলে অন্য রকম। ডোপ টেস্টে নিজে পজিটিভ না হলেও আরেকজনকে সমর্থন করার জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছে। ইতালিয়ান অলিম্পিক কমিটির এন্টি ডোপিং (সিওএনআই) বিভাগের সরকারী আইনজীবী দাবি করেছেন কস্টনারকে চার বছর তিন মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের। তাহলে কি এভাবেই শেষ হয়ে যাচ্ছে প্রতিভাময়ী এ ফিগার স্কেটারের ক্যারিয়ার? মাত্র চার বছর বয়সে স্কেটিং শুরু করেছিলেন কস্টনার। তাঁর বাবার পরিবারে অধিকাংশই ক্রীড়াঙ্গনে জড়িত। সেভাবেই যে কোন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দিকে আকৃষ্ট হয়েছেন। তবে সেটা শৈল্পিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এর পেছনেও একটা কারণ রয়েছে। কস্টনারের মায়ের পরিবার আবার শিল্পকলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। একইসঙ্গে শিল্প আর ক্রীড়া ফিগার স্কেটিংয়ের চেয়ে ভাল মঞ্চ আর কি হতে পারে? তাই যেন ফিগার স্কেটিংয়ের সঙ্গেই যুক্ত হলেন তিনি। এ বিষয়ে কস্টনার নিজেই এক সময় বলেছিলেন,‘আমার কাছে মনে হয় ক্রীড়া এবং শিল্পের দারুণ সমন্বয় ফিগার স্কেটিং।’ ২০০১ সালে ভূমিধসে তাঁদের বাড়ি পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছিল। পরে জার্মানিতে চলে আসে তাঁর পরিবার। বোলজানো নামের সেই স্থান থেকে চার ঘণ্টার গাড়ি ভ্রমণের দূরেত্ব অবার্স্টডর্ফে মাইকেল হাথের সঙ্গে স্কেটিংয়ে দীক্ষা নেয়া শুরু করেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরুর আগে জুনিয়র বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপসে ব্রোঞ্জ আর জুনিয়র গ্রাঁ প্রিতে রৌপ্য জিতেছিলেন। সেটা ছিল প্রথম কোন ইতালিয়ান নারীর জুনিয়র বিশ্ব আসরে পদক জয়ের ঘটনা। তবে সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরুর পর বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁকে পদক জয়ের জন্য। ২০০৫ সালে মস্কো বিশ্ব আসরে ও ২০০৬ সালে ইউরোপিয়ান আসরে ব্রোঞ্জ জিতে আবারও পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন তিনি। সে বছর শীতকালীন অলিম্পিকে ইতালি দলের পতাকা বাহকের সম্মানও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুই করেতে পারেননি। সে বছর বিশ্ব আসরেও দ্বাদশ হয়েছিলেন। তবে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপসে স্বর্ণ জয়ের পর ২০১০, ২০১২ ও ২০১৩ সালেও জেতেন তিনি। ২০১২ বিশ্ব আসরেও সোনা জিতে নিজেকে ইতালির অন্যতম সেরা ফিগার স্কেটার হিসেবে বিশ্বে নিজেকে পরিচিত করেছিলেন। এবার সোচিতে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকের ফিগার স্কেটিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন ইতালিয়ান তারকা কস্টনার। কিন্তু সেসব এখন ইতিহাস হতে চলেছে। দুঃসময়ে পতিত হয়েছেন কস্টনার। গত ২৩ বছর যে শ্রম দিয়েছেন ফিগার স্কেটিংকে ভালবেসে সেটা আর হয়ত চালিয়ে যাওয়াই হবে না।

সিওএনআই এর সরকারী আইনজীবী দাবি করেছেন কস্টনারকে চার বছর তিন মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের। ২০১২ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কস্টনারকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও অলিম্পিক রেস ওয়াকার স্বর্ণপদকজয়ী এ্যালেক্স শোয়াজারকে ডোপিং আইন ভাঙ্গার পর সমর্থন দেয়ার কারণে। পরে জিজ্ঞাসাবাদেও সেভাবে সহযোগিতা করেননি ক্যারোলিনা। অসহযোগিতা এবং শোয়াজারের পক্ষে সাফাই গাওয়ার কারণেই দোষী তিনি। ২৭ বছর বয়সী কস্টনার পাঁচবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন। সোচিতে অলিম্পিক ব্রোঞ্জ জয়ের পর এ বছর অবশ্য তিনি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপসে অংশ নিচ্ছেন না। ২০০৮ সালে শোয়াজার অলিম্পিক স্বর্ণ জয় করেছিলেন। পরে ২০১২ অলিম্পিকে তিনি অংশ নিতে পারেনি ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার কারণে। তাঁর রক্তে উদ্দীপক পদার্থ ইপিও ধরা পড়েছিল। পরে এ্যাথলেটিক্স ছাড়ার পর তাঁকে সাড়ে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় ২০১৩ সালে।

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানা গেছে আরও চার বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে তাঁর ওপর। এবার অভিযোগ আন্তর্জাতিক ডোপিং আইন লঙ্ঘন। আর এসব ক্ষেত্রে শোয়াজারের পক্ষ নিয়েই কথা বলেছেন কস্টনার। সেজন্যই এখন তাঁকেও সাজা দেয়ার দাবি করেছে সরকারী আইনজীবী। এ বিষয়ে সিওএনআই থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানিতে জাতীয় এন্টি ডোপিং ট্রাইব্যুনাল ক্যারোলিনা কস্টনারের বিষয়টি বিবেচনা করে তাঁকে চার বছর তিন মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রদানের দাবি করেছে।’ প্রসিকিউটর টামারো মায়েলোর অধীনে শোয়াজারের ডোপিং আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে জোর তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে এমনকি তাঁর সাবেক কোচও জিজ্ঞসাবাদের মুখে রয়েছেন। শোয়াজারের কোচ মাইকেল দিদোনি ১৯৯৫ সালে গোথেনবার্গে ২০ কিলোমিটারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। গত মাসে তাঁকে সিওএনআই থেকে তলব করা হলেও সেটার কোন প্রত্যুত্তর করেননি দিদোনি।

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪

১০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: