মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কঠিন- তবু লড়াই চাই বিশ্বকাপে

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪
কঠিন- তবু লড়াই চাই বিশ্বকাপে

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ব্যাট-বলের লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের যৌথ আয়োজনে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। অর্থাৎ আর মাত্র ৬৫ দিন পর। পাঠক, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপের ইতিহাসটা ভাল ও খারাপের একটা মিশেল। বাংলাদেশ ১৯৯৯ এর বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে চমক দিয়েছিল বিশ্বকাপের অভিষেকেই। আবার ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের পারফরমেন্স ছিল খুবই মানহানিকর। কানাডার সঙ্গে বাংলাদেশ পরাজিত হয় ২০০৩ বিশ্বকাপেই। এরপর ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ। ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশাল এক আলোড়নের সৃষ্টি করে বাংলাদেশ। এরপর ঘরের মাটিতে ২০১১ বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ৫৮ রানে অল আউট হওয়াটা একটি দুঃস্বপ্ন। ঠিক এমন একটি ট্র্যাক রেকর্ড নিয়ে এবার বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে মাশরাফি সাকিবরা। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, স্কটল্যান্ড, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ রয়েছে পুল এতে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়াতে। নিউজিল্যান্ড আর স্কটল্যান্ডের ম্যাচ দুটি ছাড়া বাকি ম্যাচগুলো বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলবে। পুল এ’তে স্কটল্যান্ড এবং আফগানিস্তান ছাড়া বাকি দলগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী। ওয়ার্ল্ড কাপের খেলা শুরুর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান এবং ১২ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

এবারের বিশ্বকাপটা বাংলাদেশের জন্য বেশ কঠিন হবে নিঃসন্দেহে। অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে খেলা বলেই আমাদের দলের জন্য ব্যাপারটা মোটেও সহজ নয়। অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে উইকেটগুলোতে বল অনেক বেশি বাউন্স করে। সেইসঙ্গে বাতাসে থাকা আর্দ্রতার কারণে বল অনেক বেশি সুইংও করে। ফলে ওই পরিবেশ পরিস্থিতিতে বোলিং করার অভ্যাস থাকাটা জরুরি। অন্যথায় বল নিয়ন্ত্রণ করাটা খুব কঠিন হয়ে পরে। আমাদের দেশের উইকেটগুলো লো বাউন্সি এবং স্লো। অর্থাৎ বল বাউন্সি কম করে এবং বল পিচ করার পর দেরিতে আসে। আমাদের বোলারদের যেই উইকেটে বল বাউন্স বেশি করে সেখানে বোলিং করার অভিজ্ঞতা খুব বেশি নাই। আর এর মধ্যে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডে কোন সিরিজও খেলতেও যায়নি। তাই অস্ট্রেলীয় উইকেটে সঠিক জায়গায় বোলিং করা আমাদের বোলারদের সহজ হবে না বলে মনে হয়। ঘরের মাটিতে আমাদের বোলাররা উইকেটের লো বাউন্সের কারণে অনেকটা উপরে অর্থাৎ ব্যাটসম্যানের কাছে বল পিচ করিয়ে থাকেন। কিন্তু ওখানে উইকেটে বল পিচ করে অনেকটা লাফিয়ে ওঠে এবং বল পিচ করার পর খুব দ্রুত চলে আসে। তাই ওই ধরনের উইকেটে খাটো লেংথ বোলিং করার সবচেয়ে শ্রেয়। আশা করি বোলিং কোচ হিথ স্টিক এই ব্যাপারে আমাদের পেস বোলারদের বিশেষভাবে প্রস্তুত করছেন।

আবার আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্যও অস্ট্রেলিয় উইকেটে ভাল ব্যাটিং করা যথেষ্ট কঠিন একটা কাজ। আমাদের দেশের উইকেটগুলোতে বল যেমন বেশি লাফায় না। ঠিক তেমনই বল পড়ে আসতে আসে। সেজন্যই আমাদের ব্যাটসম্যানরা ফ্রন্ট ফুটে খেলে অভ্যস্ত। কিন্তু ওখানে তো বল লাফিয়ে উঠে বুকের কাছে চলে আসে এবং বল পিচ করার পর তাড়াতাড়ি চলে আসে। সেইসঙ্গে বল যথেষ্ট সুইং করে। এতগুলো প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হবে আমাদের ব্যাটসম্যানদের এই বিশ্বকাপে। ফলে ব্যাক ফুটে ভাল না খেলতে পারলে, সুইং ভালভাবে মোকাবেলা করতে না পারলে ব্যাটসম্যান হিসেবে সফল হওয়াটা মোটেও সহজ হবে না। আমাদের দলের হেড কোচ হাতুরুসিঙ্গে অস্ট্রেলিয়াতে কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। তাই আশা করা যায় তাঁর ওই অভিজ্ঞতাটা আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য খুবই উপকারী হবে। আবার আমরা দলে প্রায় সময়ই ৩-৪টা স্পিনার ও ২-১টা পেস বোলার খেলিয়ে থাকি। ফলে আমাদের বোলিং আক্রমণটা মূলত স্পিন বোলিং নির্ভরই থেকেছে অদ্যবধি। কিন্তু ওইসব উইকেটে আমাদের স্পিনাররা নিজেদের কার্যকারিতা কতটুকু ধরে রাখতে পারবে সেটাও চিন্তার বিষয়। ওখানকার উইকেটগুলো যেহেতু পেস বোলিং বান্ধব সেহেতু দলে স্পিনার কম খেলিয়ে পেস বোলার বেশি খেলানো হবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। আর হয়ত তাই ১৪ জনের দলের অন্তত ৪ জন পেস বোলার দেখা যাবে এবার।

শেন জারগেনসন দলের কোচ থাকার সময় শোনা গেছিল বাংলাদেশ এক মাস আগে অস্ট্রেলিয়া যাবে এবং সেখানে অনুশীলন করবে, প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলবে এমন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছিল। এটা দলের প্রস্তুতিটা যথেষ্ট ভাল হতো। শেন জারগেনসন নাই তাই এখন হয়ত সেটা হচ্ছে না। সেটা হলে আমাদের দলের জন্য সত্যি বেশ ভাল হতো। এছাড়াও যদি ভাল কোন দলের সঙ্গে একটা ওয়ানডে সিরিজ খেলা যেত এই ক’দিনের মধ্যে তবে আমাদের দলটা ম্যাচ প্র্যাকটিস মধ্যে থাকত। ওয়ার্ল্ড কাপের আগে আর কোন সিরিজ নেই বা কোন টুর্নামেন্ট নেই। ফলে প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য চেয়ে থাকতে হচ্ছে বিশ্বকাপের ঠিক আগের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর দিকে। এছাড়াও বিশ্বকাপের বিশেষ প্রস্তুতি হিসেবে দেশে কয়েকটি উইকেট বিশেষভাবে তৈরি করা দরকার ছিল যেগুলো অস্ট্রেলিয়ার উইকেটের মতো বাউন্সি এবং ফার্স্ট। এজন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে মাটি আনা যেত অমন উইকেট বানানোর জন্য। কিন্তু সে রকম কিছুই হয়নি। যাই হোক যা হয়নি তা নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। এখন হাতে থাকা সময়টা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। দলের ভাল প্রস্তুতির জন্য কোচ কিছু চাহিদা করলে সেটা ব্যবস্থা করে দিতে হবে বা দলকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য যদি বিশেষ কিছুর চাহিদা কোচ করেন সেটা কোচকে দিয়ে দিতে হবে। আশা করছি হাতে থাকা ৬৫ দিনকে খুব কার্যকরীভাবে ব্যবহার করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই বছরটা শুরুই হয়েছিল ব্যর্থতা দিয়ে। শেষে জিম্বাবুইয়ে সিরিজের ধারাবাহিক সাফল্যটা দলকে চাঙ্গা করেছে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে মাশরাফির অধিনায়কত্বের কারিশমা। মাশরাফির অধিনায়কত্ব দলের মধ্যে এনে দিয়েছে এক ভিন্ন মেজাজ। তাই বিশ্বকাপের আগে আমাদের দলটা নিজেরদের উজাড় করে দিয়ে অনুশীলন করতে থাকবে এমনটাই আশা করছি দলের কাছে।

লেখক : সাবেক ক্রিকেটার, কোচ

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪

১০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: