আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির পড়াশোনা

প্রকাশিত : ৯ ডিসেম্বর ২০১৪
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

প্রকৌশলী এস. এ. এহসান রাজন, প্রভাষক, কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ, খুলনা পাবলিক কলেজ, খুলনা।

ই-মেইলঃ ধযংধহ.ৎধলড়হ@মসধরষ.পড়স

......................................................................

(পূর্ব প্রকাশের পর)

কোএক্সিয়াল ক্যাবলের সুবিধা

 পর্যাপ্ত ফ্রিকুয়েন্সি রেঞ্জ থাকায় একাধিক চ্যানেল সাপোর্ট করে।

 অপেক্ষাকৃত কম ট্রান্সমিশন লস (ঞৎধহংসরংংরড়হ খড়ংং)

 সিগন্যাল এটিনিউয়েশনের (ঝরমহধষ অঃঃবহঁধঃরড়হ) মাত্রা ইউটিপি এবং এসটিপি ক্যাবলের তূলনায় কম।

 টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলে তূলনায় অধিকতর দূরত্বে ডেটা পাঠানো সম্ভব।

 ডেটা ট্রান্সমিশন গতি অপেক্ষাকৃত বেশি

কোএক্সিয়াল ক্যাবলের অসুবিধা

 ডেটা ট্রান্সমিশন রেট তারের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভরশীল।

 থিকনেট ক্যাবল ব্যবস্থাপনা জটিল

 টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের তূলনায় খরচ অপেক্ষাকৃত বেশি

 টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল (ঈড়ধীরধষ ঈধনষব)

অপরিবাহী পদার্থ আবৃত দুইটি পরিবাহী তামার তারকে সুষমভাবে পেচিয়ে টুইস্টেড পেয়ার তৈরি করা হয়। সাধারণত এই রকম চার জোড়া পেয়ারকে সাধারণত একটি ক্যাবলে স্থাপন করা হয়। প্রতি জোড়া তারের মধ্যে একটি কমন সাদা রঙের তার থাকে এবং অপরটি প্রতি জোড়ায় ভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। প্রতি জোড়ার তার দুইটির পুরুত্ব ০.৪ থেকে ০.৯ মিলিমিটার হয়ে থাকে। দামে সস্তা এবং ইন্সটলেশন সহজ হবার কারনে সাধারণত ১০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে তথ্য পরিবহনের জন্য সর্বাধিক ব্যবহৃত মাধ্যম হল টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল। টেলিফোন লাইন এবং লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে এই ধরণের ক্যাবল সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়। টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল ২ প্রকার-

হ ইউটিপি টঞচ- টহংযরবষফবফ ঞরিংঃবফ চধরৎ ঈধনষব- ইউটিপি ক্যাবেলে একাধিক জোড়া টুইস্টেড পেয়ার কেবল একটি কেসিং এ আবদ্ধ থাকে।

হ এসটিপি ঝঞচ- ঝযরবষফবফ ঞরিংঃবফ চধরৎ ঈধনষব - এসটিপি ক্যাবেলে টুইস্টেড পেয়ার কেবলগুলি একটি বাইরের জ্যাকেট বা কেসিং এ আবদ্ধ থাকে এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফেরেন্স থেকে রক্ষার জন্য ক্যাবেলের মধ্যে এক ধরণের ঝযরবষফ বা দৃঢ়তা দানকারী আবরণ থাকে যা ইউটিপি ক্যাবেলে থাকে না।

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের সুবিধা

হ এনালগ ও ডিজিটাল উভয় ধরণের ডেটা কমিউনিকেশনে টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল ব্যবহার করা যায়।

হ কম দূরত্বে ডেটা কমিউনিকেশনের জন্য এটি সর্বাপেক্ষা কম ব্যয়বহুল।

হ অনেক ক্ষেত্রে বেশ কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত সিগন্যাল পরিবহন করা যায়।

হ এর ইন্সটলেশন এবন মেইনটেন্যান্স সহজতর।

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের অসুবিধা

 ডেটা সিগন্যাল নয়েজ (ঘড়রংব) দ্বারা প্রভাবিত হবার কারনে দূরত্ব অতিক্রম করার সাথে সাথে সিগন্যালে ভুলের (ঊৎৎড়ৎ) মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

 সাধারণত ১০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে ডেটা কমিউনিকেশনের জন্যই এই ধরণের কেবল যথার্থ

 পাতলা গঠনের জন্য টুইস্টেড পেয়ার কেবল ভঙ্গুর।

 ডেটা ট্রান্সমিশন লস (ঞৎধহংসরংংরড়হ) অনেক বেশি।

 ফাইবার অপটিক ক্যাবল/ অপটিক্যাল ফাইবার (ঋরনবৎ ঙঢ়ঃরপ ঈধনষব/ঙঢ়ঃরপধষ ঋরনবৎ)

ফাইবার অপটিক ক্যাবল বা অপটিক্যাল ফাইবার হল ডাই-ইলেকট্রিক পদার্থ দিয়ে তৈরি এক ধরণের সরু কাঁচের/প্লাস্টিকের তন্তু যেটির মধ্য দিয়ে তথ্য আলোর গতিতে পরিবহন করা হয়। বর্তমানে ব্যবহৃত ফাইবারের ডেটা ট্রান্সমিশন হার ১০০ গইচঝ থেকে ২ এইচঝ পর্যন্ত হয়ে থাকে। অতি স্বচ্ছ, রাসায়নিক সুস্থিরতা সম্পন্ন/নিস্ক্রিয় ও সহজ প্রক্রিয়াকরণ যোগ্যতা সম্পন্ন এবং কম শক্তি অপচয় করে এমন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন পদার্থ বিশেষত অন্তরক পদার্থ হিসাবে সিলিকা এবং মাল্টি কম্পোনেন্ট কাঁচ ব্যবহৃত হয়।

ফাইবার অপটিক ক্যাবেলের মূল তিনটি অংশ থাকেঃ

 কোর (ঈড়ৎব): ফাইবার অপটিক ক্যাবলের সবচেয়ে ভেতরের কাঁচ বা প্লাস্টিক দ্বারা তৈরি ৮ থেকে ১০০ মাইক্রোমিটার ব্যাসের অধিক প্রতিসরাংক স¤॥^লিত অংশ যেটি আলোক সিগন্যাল সঞ্চালনের কাজটি করে সেটি হল কোর।

 ক্ল্যাডিং (ঈষধফফরহম): ফাইবার অপটিক ক্যাবলের কোরের ঠিক বাইরের কোর অপেক্ষা কম প্রতিসরাংক স¤॥^লিত কাঁচ বা প্লাস্টিক দ্বারা তৈরি অংশটি হল ক্ল্যাডিং। এটি মূলত এক ধরণের আবরণ যা কোর থেকে নির্গত প্রতিফলিত করে পুনরায় সেটিকে কোরে ফেরত পাঠায়।

 জ্যাকেট (ঔধপশবঃ) : ফাইবারকে জলীয়বাস্প, আদ্রতা, ঘর্ষণ, আঘাত ইত্যাদি থেকে রক্ষার জন্য মূলত প্লাস্টিক দ্বারা তৈরি আবরণটি হল জ্যাকেট।

ফাইবার অপটিক ক্যাবেলের প্রকারভেদ

ফাইবারের গাঠনিক উপাদানের প্রতিসরাংকের ভিত্তিতে অপটিক্যাল ফাইবারকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়-

 স্টেপ ইনডেক্স ফাইবার (ঝঃবঢ় ওহফবী ঋরনবৎ): যে ধরণের অপটিক্যাল ফাইবারের কোরের প্রতিসরাংক সর্বত্র সমান থাকে তাকে স্টেপ ইনডেক্স ফাইবার বলে।

 গ্রেডেড ইনডেক্স ফাইবার (এৎধফবফ ওহফবী ঋরনবৎ): যে ধরণের অপটিক্যাল ফাইবারের কোরের প্রতিসরাংক কেন্দ্রে সর্বাধিক এবং ব্যাসার্ধ বরাবর কমতে থাকে তাকে গ্রেডেড ইনডেক্স ফাইবার বলে।

কোরের ব্যাসের ভিত্তিতে ফাইবার অপটিক ক্যাবেলকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়-

 সিঙ্গেল মোড ফাইবার (ঝরহমষব গড়ফব ঋরনবৎ): সিঙ্গেল মোড ফাইবারের ক্ষেত্রে সাধারণত ৮ থেকে ১২৫ মাইক্রন ব্যাস বিশিষ্ট ফাইবারের কোরে একটি মাত্র আলোক সিগন্যাল প্রেরণের পথ থাকে যেটিতে লেজার সিগন্যালিং ব্যবহারের মধ্যমে সাধারণভাবে সরলরেখায় তথ্য প্রেরণ করা হয়।

 মাল্টিমোড ফাইবার (গঁষঃরসড়ফব ঋরনবৎ): সিঙ্গেল মোড ফাইবারের ক্ষেত্রে সাধারণত ১০ মাইক্রনের বেশি ব্যাস বিশিষ্ট ফাইবারের কোরে একটি মাত্র আলোক সিগন্যাল প্রেরণের পথ থাকে যেটিতে আলোকরশ্মির পূর্ন অভ্যন্তরীন প্রতিফলণের নিয়ম অনুযায়ী আলোক সিগন্যালের মধ্যমে তথ্য প্রেরণ করা হয়।

ফাইবার অপটিক ক্যাবেলের বৈশিষ্ট্য

হ এটি ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যালের পরিবর্তে আলোক সিগন্যাল (অবলোহিত রশ্মি) হিসাবে হিসাবে ডেটা পরিবহন করে।

হ উৎস থেকে গন্তব্য পর্যন্ত আলো পরিবহণের জন্য পূর্ন আভ্যন্তরীন প্রতিফলন ব্যবহৃত হয়।

হ গিগাবাইট ও তার চেয়েও বেশি দ্রুত গতিতে ডেটা চলাচল করতে পারে।

হ বিদ্যুৎ চৌ¤॥^ক প্রভাব থেকে মুক্ত।

ফাইবার অপটিক ক্যাবেলের সুবিধা

 আলোর গতিতে ডেটা ট্রান্সমিট হয় বলে সর্বাপেক্ষা দ্রুতগতিসম্পন্ন

 উচ্চ ব্যান্ডিইউডথ সম্পন্ন

 আয়তনে ছোট এবং ওজন কম

 ডেটা পরিবহনে কম শক্তি ক্ষয় করে

 বিদ্যুৎ চৌ¤॥^কীয় প্রভাব থেকে মুক্ত

 পরিবেশের তাপ চাপ ইত্যাদি ডেটা চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।

 তথ্য সংরক্ষণে গোপনীয়তা রক্ষা করা সহজতর।

ফাইবার অপটিক ক্যাবেলের অসুবিধা

 ফাইবার অপটিক কেবল অপেক্ষাকৃত দামী।

 এটির ইন্সটলেশন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ ও কারিগরী জ্ঞানসম্পন্ন জনবল প্রয়োজন।

 ফাইবার অপটিক ক্যাবলকে ট আকারে বাকানো সম্ভব হয় না বলে যেখানে অধিক বাকানোর প্রয়োজন নাই, সেসমস্ত ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার সম্ভব।

প্রকাশিত : ৯ ডিসেম্বর ২০১৪

০৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: