মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শিশুর মনস্তত্ত্ব

প্রকাশিত : ৯ ডিসেম্বর ২০১৪
শিশুর মনস্তত্ত্ব

শিশুর সঠিক বিকাশের জন্য জৈবিক ও পরিবেশের সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন। প্রাকৃতিকভাবেই শিশুরা বেড়ে ওঠে, বেড়ে ওঠে মেধা ও মননে। শিশুর এই মানসিক বিকাশ অনেকখানিই নির্ভর করে তার পরিবেশ-পরিবার-পরিচর্যার ওপর। তাই শিশুর সুষ্ঠু মানসিক বিকাশে অভিভাবকদেরও কিছু দায়িত্ব ওকরণীয় রয়েছে। শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে বাবা-মায়ের আচরণ, পারিবারিক পরিবেশ এবং শারীরিক সুস্থতা খুবই জরুরী। এর কোন একটি উপাদান যদি কম হয় তবে শিশুটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিণত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না। প্রথম থেকেই বাবা-মাকে ঠিক করতে হবে তারা তাদের শিশুটিকে কিভাবে গড়ে তুলতে চায়। তখন অবশ্যই বাবা-মাকে মনে রাখতে হবেÑ তাদের সন্তানটি তাদের ‘ড্রিমমেকার’ নয়। সে নিজেও আপনাদের মতো একজন আলাদা ব্যক্তি আলাদা সত্তা। তার নিজের নিজস্ব কোন ভালো লাগা বা না লাগা রয়েছে।

শিশুরা ছোট থেকেই যত খেলবে-দুষ্টামি করবে ততো তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ দ্রুত হবে। কারণ আমরা বড়রা বাচ্চাদের খেলা বা দুষ্টামিকে ভালো করে লক্ষ্য না করেই তাকে শাসন করি, বাধা দেই বা তার সম্পর্কে নেগেটিভ কথা বলে ফেলি। এতে করে শিশুটির ক্ষতিই আমরা নিজেদের অজান্তে করে ফেলছি। শিশুটির খেলা অবজার্ব করলে দেখা যাবে সে বড়দেরই কোন না কোন আচরণের অনুকরণ ও অনুসরণ করছে। শিশুরা খেলার মধ্যে মায়ের মতো রান্না করছে। বাবার মতো অফিসে যাচ্ছে। বাবার মতো মোটরবাইক চালাচ্ছে। রিক্সাওয়ালা বা তরকারি ওয়ালার শিশুরা বাবার কাজের অনুকরণ করেই খেলা করে। তাহলে আমরা আমাদের আচরণগুলো ওদের মধ্যে দেখে বিরক্ত হই কেন? নিজেরাই তো সতর্ক হতে পারি।

* একজন মা টিভি দেখার সময় সঙ্গীত বাংলা বা হিন্দি সিনেমা দেখছিলেন হঠাৎ রুমে তার শিশুটি খেলতে খেলতে চলে এলো। অমনি মা টিভির চ্যানেল পাল্টে দিলেন। কিংবা মা ফোনে সারাক্ষণ অন্যের সঙ্গে কথা বলায় ব্যস্ত তখন ঐ মায়ের সন্তান অটোমেটিক শিখছে কোনকিছু কিভাবে লুকাতে হয়। কিংবা ফোনে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে সময় কাটান এবং ক্লাসে প্রতিদিন দেখা হলেও পড়া নেয়ার কথা বলে বাব বার ফোনে কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি করা শিশুদের সামনে লুকাবেন না।

* শিশুদের অহেতুক বেশি ভয় দেখা কখনই উচিত নয়। তাহলে এক সময় তার সব ভয় একদম চলে যাবে। সে কোন কিছুতেই আর ভয় করবে না। অথবা সে অতিরিক্ত ভীত হয়ে যাবে। তখন সে সব বিষয়ই সব কিছুতেই ভয় পাবে।

* শিশুদের সঙ্গে প্রচুর কথা বলতে হবে। বইয়ের ছবি, নিজের অঙ্গপ্রতঙ্গ, বইয়ের বা ঘরের পরিবেশের বিভিন্ন উপসরণ সম্পর্কে শিশুকে পরিচয় করাতে হবে এবং বিস্তারিত বুঝিয়ে বলতে হবে।

* শিশু মনে সারাক্ষণই নানা বিষয়ে জানার কৌতূহল থাকে। অনেক প্রশ্ন করতে থাকে। এ সময় ধমক দিবেন না বা সব কৌতূহলী প্রশ্ন এড়িয়ে যাবেন না। বুদ্ধি খাটিয়ে উত্তর দিন।

* নাগরিক জীবনে শিশুরা প্রকৃতির কাছে কম যেতে সুযোগ পায়। কিন্তু আমরা জানি প্রকৃতির কাছে থাকলে প্রকৃত উপকরণগুলো যদি শিশু পাঠ করে তবে শিশুদের মানসিক বিকাশ সুন্দর হয়। এবং শিশুদের যে কোন বিষয় বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এজন্য সম্ভব হলে সপ্তাহে একদিন অথবা মাসে একটা দিন প্রকৃতির কোলে শিশুকে ছেড়ে দিন। ঘুরতে দিন স্বাধীনভাবে।

* শিশুরা কোন কাজ ভুল করলে প্রথমেই তাকে ধরে বকাবকি, ধমক বা মারধর করলে শিশুটির ভবিষ্যতে ক্ষতির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তাই প্রথমে বিষয়টি যে খারাপ তা বুঝিয়ে বলুন। না হলে তাকে আগে আশ্বস্ত করুন যে আপনি তাকে বড় কোন শাস্তি দেবেন না যদি সে সব সত্যি বলে। দেখবেন শিশুটি ভুল স্বীকার করছে এবং নিজেকে শুধরেও নিচ্ছে।

* শিশুরা ভাল কাজ করলে তাকে প্রশংসা করুন। উৎসাহিত করুন আরো ভাল হতে।

* আপনার শিশুটিকে স্বনির্ভর হতে শেখান। এতে করে তার আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবে। এবং অন্যকে বিরক্ত কম করবে।

*শিশুদের সামনে অন্যদের দিয়ে আলোচনা সমালোচনা করবেন না, ঝগড়া-কান্নাকাটি-মারামারি করবেন না। জোরে বকা দেয়া বা কথা বলা, হঠাৎ কোন জিনিস ছুড়ে শব্দ করা থেকে বিরত থাকুন।

* লেখাপড়ার চাপ এখন প্রায় প্রতিটি স্কুলেই সমান। এই পড়ার চাপের পাশাপাশি শিশুকে খেলাধুলা বা অন্য কোন রিক্রেশনাল একটি ভিটির মধ্যে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করুন।

* শিশুদের কাছে তাদের উপযুক্ত বিষয়ে মতামত নিন। এতে শিশুদের সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে হবে না।

তন্বিতা ঘোষ

থেরাপিউটিক কাউন্সিলর

এমএসসি (মনোবিজ্ঞান)

পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইন

সাইকোথেরাপী (বিএসএমএমইউ

০১৯১২০৭৬৮৩৯

প্রকাশিত : ৯ ডিসেম্বর ২০১৪

০৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: