মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সিরাজ মাস্টারের নেতৃত্বে রাজাকাররা ৬০ জনকে হত্যা করে

প্রকাশিত : ৯ ডিসেম্বর ২০১৪
  • যুদ্ধাপরাধী বিচার
  • তপন কুমারের জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত বাগেরহাটের কসাই শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন পক্ষের চতুর্থ সাক্ষী বাগেরহাটের তপন কুমার দাস জবানবন্দীতে বলেছেন, সিরাজ মাস্টারের নেতৃত্বে রাজাকাররা খানপুর গ্রামে আক্রমণ করে প্রায় ৬০ জনকে হত্যা করে। এ ছাড়া লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আসামি সিরাজ মাস্টার ও তার সঙ্গীয় লোকজন আমার বাবা কানাই লাল দাসসহ আমাদের আটক করে এবং নির্যাতন শুরু করে। সিরাজ মাস্টার আমার বাবাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলে তিনি ছোরা দিয়ে আমার ডান পায়ের হাঁটুর ওপরে আঘাত করে। আমাকে আঘাত করলে আমি ও আমার মা ছিটকে পড়ি। এই সময় আসামি সিরাজ মাস্টার আমার বাবাকে গুলি করে হত্যা করে। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী রেনু চন্দ্র পাল জবানবন্দীতে বলেছেন হাসান আলী গুলি করে আমার বাবা উপেন্দ্র পালসহ ১০ জনকে গুলি করে হত্যা করে। জবানবন্দী শেষে সাক্ষীদের আংশিক জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী। আজ পৃথক পৃথকভাবে আসামি পক্ষ দুই সাক্ষীকে আবার জেরা করার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।

এদিকে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান আদালত অবমাননার জরিমানাকৃত ৫ হাজার টাকা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত বাগেরহাটের কসাই শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন পক্ষের চতুর্থ সাক্ষী বাগেরহাটের তপন কুমার দাস জবানবন্দীতে বলেছেন, সিরাজ মাস্টারের নেতৃত্বে রাজাকাররা খানপুর গ্রামে আক্রমণ করে প্রায় ৬০ জনকে হত্যা করে। জবানবন্দী শেষে আজ আসামি পক্ষ সাক্ষীকে জেরা করবেন। জবানবন্দী গ্রহণের সময় সাক্ষীকে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সাইয়েদুল হক সুমন। তপন কুমার দাস তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম তপন কুমার দাস। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ১৫-১৬ বছর। আমার ঠিকানা গ্রাম রণজিৎপুর, থানা ও জেলা- বাগেরহাট। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল আনুমানিক ১৫-১৬ বছর। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ২৮ মার্চ তারিখে আমরা গ্রামে পাহারা দেয়ার জন্য কমিটি গঠন করি। কমিটির লোকজন পালাক্রমে আমাদের গ্রাম রণজিৎপুর পাহারা দিতে থাকি। ১৯৭১ সালের ১৩ মে আনুমানিক সকাল ১০ ঘটিকার দিকে আমাদের গ্রামের পার্শ্ববর্তী যৌখালী নদীর উপরে খানপুর গ্রামে আসামি সিরাজ কসাই ও তার সহযোগী রাজাকাররা আমাদের গ্রাম আক্রমণ করার জন্য সমবেত হয়। কিন্তু ঐ সময় গ্রামের প্রায় ৪০০-৫০০ লোক সমবেত হলে ঐ মুহূর্তে তারা পিছু হটে যায়।

সাক্ষী তপন কুমার দাস আরও বলেন, রাজাকাররা আমাদের গ্রামের বাড়িঘর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে চলে যাওয়ার পর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে গ্রামের লোকজন যারা বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে ছিল তারা গ্রামে ফিরে আসে। ঐ ঘটনায় রাজাকাররা আনুমানিক ৫০-৬০ জনকে হত্যা করে। ঐ ৫০-৬০ জনের মধ্যে আমাদের গ্রামের ২৪ জনের মৃতদেহ শনাক্ত করতে পেরেছি। তাদের মধ্যে সনাতন দাস, সতীস দাস, নির্মল দাস, কনেক দাস, চিত্তরঞ্জন দাস, অমূল্য দাস, পরিতোষ চক্রবর্তী, নিশি কান্ত চক্রবর্তী, বিনোদ চক্রবর্তী, অমূল্য মহাজনও ছিল। ঐ মৃতদেহগুলো গ্রামের লোকজন মাটি চাপা দেয়। এই ঘটনার দুই দিন পরে আমরা ও গ্রামের অন্য লোকজন ভারতে চলে যাই এবং শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় গ্রহণ করি।

হাসান আলী ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী রেনু চন্দ্র পাল জবানবন্দীতে বলেছেন হাসান আলী গুলি করে আমার বাবা উপেন্দ্র পালসহ ১০ জনকে হত্যা করে। সাক্ষীর জবানবন্দী শেষে আজ জেরার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ প্রদান করেছেন।

সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে আসামি হাসান আলী শিমুলহাটি গ্রামে এসে আমার বাবাসহ আরও নয়জনকে হত্যা করে। ১৯৭১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১ ঘটিকার দিকে আমি আমার বাড়ির বাহিরে হাঁটাহাঁটি করছিলাম। সেই সময় আমি দেখতে পাই যে, আমাদের বাড়ির পূর্ব দক্ষিণ দিক থেকে ২টি ছৈয়ালা নৌকা আমাদের গ্রামে এসে একটি নৌকা নিতিশ ডাক্তারের বাড়ির ঘাটে এবং অন্যটি মথুর ভুঁইয়া দাসের বাড়ির ঘাটে ভিড়ে। ঐ নৌকা থেকে খাকী পোশাক পরা ও হাতে রাইফেলসহ ৮-১০ জন লোক নেমে আমাদের পাড়ায় আসে এবং তাদের মধ্যে একজনের মাথায় সাদু টুপি ছিল। ঐ লোকটি চিৎকার করে বলতে থাকে যে, মালাউনদের ধর, খতম কর। আমি এই সময়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে বাবাসহ পরিবারের অন্যান্য লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলি এবং আমরা বাড়ির উত্তর পাশের জঙ্গলে আশ্রয় গ্রহণ করি। কিন্তু আমার বাবা আশ্রয় নেয়ার আগেই তাকে রাজাকাররা ধরে গামছা দিয়ে তার হাত বেঁধে ফেলে। এই সময় দেখি রাজাকাররা আরও দুইজন লোককে ধরে সেখানে নিয়ে আসছে এবং তিনজনকে ধরেই আমাদের বাড়ির পশ্চিম দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কিছু রাজাকার পশ্চিম দিক থেকে কিছু লোককে ধরে পূর্ব দিকে নিয়ে আসে। এভাবে তারা ১২ জন লোককে আটক করে এবং তাদের আমার বাড়ির পূর্ব দিকে নিয়ে যায়।

ডেভিড বার্গমান ॥ আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান জরিমানাকৃত ৫ হাজার টাকা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছেন। রবিবার সোনালী ব্যাংকে এই অর্থ জমা দেয়া হয়। আর সোমবার ট্রেজারি চালানের রসিদ ট্রাইব্যুনালে তার আইনজীবী মারফত জমা দেয়া হয়।

প্রকাশিত : ৯ ডিসেম্বর ২০১৪

০৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: