কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জীবনযাপনে শীতের আমেজ

প্রকাশিত : ৮ ডিসেম্বর ২০১৪

হেমন্তকে বিদায় দিয়ে প্রাকৃতিক পরিবর্তনের চিরচেনা নিয়ম অনুযায়ী চলে আসতে শুরু করেছে শীতকাল। প্রকৃতির শীতকালীন বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রকৃতির মাঝে। উত্তরের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। গাছের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে। গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। সকালে সবুজ ঘাসের ওপর শিশির পড়া। গ্রামগঞ্জ শহরের অলি গলিতে শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের পিঠা বিক্রির দোকান বসতে দেখা যাচ্ছে। সর্বোপরি শরীরে শুষ্কতা অনুভব করা এ সবই বলে দিচ্ছে শীত চলে আসছে। শীতকাল এ দেশের জন্য একটি বিশেষ সময়। এ দেশে শীতকাল যেন এক উৎসব নিয়ে হাজির হয়। শহর কিংবা গ্রাম সব জায়গাতেই শীতের বিভিন্ন উৎসব দেখা যায়। শীত আসার সাথে সাথেই শহরে বিভিন্ন পিঠা বিক্রির দোকান বসে। একটি পিঠার কথা বিশেষভাবে না বললেই নয়। তা হলো খেজুরের গুড় ও নারিকেল দিয়ে তৈরি ভাঁপা পিঠা। শীতকালে শহরগুলোতে এই ভাঁপা পিঠার এতই কদর যে লাইনে দাঁড়িয়ে ক্রেতাদের পিঠা কিনতে দেখা যায়। এটা শুধু শীতের সময়ই দেখা যায়। শহরের বিভিন্ন জায়গায় শীতকালীন পিঠার মেলা বসানো হয়। সেখানে সব শ্রেণীর লোকজনের আগমন ঘটে। শিক্ষিত সচেতন মানুষগুলো শীতকালীন শরীরের ত্বকের বাড়তি যতেœর জন্য বিভিন্ন প্রসাধনী কেনাকাটায় ব্যস্ত হচ্ছে। যে কারণে প্রসাধনীর দোকানগুলোতে বিক্রি বেড়ে গেছে। ফুটপাথের দোকান থেকে শুরু করে ভিআইপি মার্কেটগুলোতে গরম কাপড় বিক্রির উৎসব লেগে গেছে। এ দেশে শীতের সময় একটি খেলার উৎসব শুরু হয়। তা গ্রামগঞ্জ, শহরের অলিগলি সব জায়গাতেই। খেলাটি হলো ব্যাটমিন্টন। ছোট বড় সকলেই এ খেলাটি শীতের সময় খেলে থাকে, যা চলে পুরো শীতের সময় ধরে। বিভিন্ন ফ্যাশনসচেতন মানুষ যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ফ্যাশনসই কেডস জুতা পরতে শুরু করেছে। এ সবই শীতের সময়ের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। শীতকালীন গ্রামীণ জীবন আবার শহর থেকে একটু আলাদা। শহর থেকে লোকবসতি কম থাকার কারণে গ্রামে শীত বেশি থাকে। গ্রামে শীতের মজাটা অন্য রকম। সকালে সবুজ ঘাসের ওপর পড়া শিশিরগুলোর ওপর রোদ পড়লে তা মুক্তার মতো চকচক করে। কৃষক তার লাঙল নিয়ে মাঠে যায়। তাদের কুয়াশায় আবছা আবছা দেখা যায়। শীতে গ্রামের এসব দৃশ্য দেখে মনে হয় এ যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা মনোরম এক দৃশ্য। নবান্নের উৎসবের মতো গ্রামের প্রতি ঘরে ঘরে শীতের পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায়। গ্রামের প্রকৃতিতে শীতের আগমনী ঘণ্টা বাজতে শুরু করলেই গাছিরা ব্যস্ত হয়ে যায় খেজুর গাছ কাটা নিয়ে। খেজুরের খাঁটি রস এই শীতের সময়ই পাওয়া যায়। তবে সন্ধ্যার পরেই গ্রামের মানুষের কোলাহল বাইরে দেখা যায় না। বিভিন্ন ডোবা নালা খাল বিলে পুকুরের জলের ওপর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। পুকুরে হাঁসেরা সাঁতার কাটে। প্রচ- শীত উপেক্ষা করে জেলেকে জলে নেমে মাছ ধরতে দেখা যায়। তাদের দেখে মনে হয় যেন তাদের শীতই নেই।

যদিও শীতের সময়টাতে এই দেশে একটা উৎসবমুখর ভাব দেখা যায়। তবে এই উৎসব সবার জন্য হয় না। ধনী মানুষগুলো তাদের প্রয়োজনীয় গরম কাপড় নিতে পারলেও গরিব অসহায় মানুষগুলো তাদের টাকার অভাবে গরম কাপড় কিনতে পারে না বলে এই শীতে তাদের অতি কষ্টে দিনরাত পার করতে হয়। হার কাঁপানো শীত শুরু হলে মানুষের কাজের ব্যাঘাত ঘটে। অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর তখনই শীতের সময় আনন্দের না হয়ে বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শীতের সময় হাজার হাজার মাইল দূর থেকে উড়ে আসা অতিথি পাখি এই দেশে আসে নিরাপদ আশ্রয়ের কথা ভেবে। কিন্তু খুবই দুঃখের বিষয় এই যে, কিছু অসাধু মানুষ এই অতিথি পাখিদের শিকার করে টাকার লোভে। প্রকৃতির নিয়মেই শীত আসছে। সঙ্গে আনন্দ বেদনা সবই থাকবে। প্রকৃতির এই নিয়মগুলোকে মেনে নিয়েই সামনের দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। শীতের এই ঠা-া পরিবেশের মতো আমাদের দেশের রাজনীতিতেও ঠা-া পরিবেশ বিরাজ করুক। দেশের সকল মানুষ শান্তিতে বসবাস করুক। সবার জন্য এই শীতের ঠা-া শুভ কামনা রইল।

এস আই শহিদ

মডেল: আসিফ ও তারিন

প্রকাশিত : ৮ ডিসেম্বর ২০১৪

০৮/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: