কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পঞ্চাশ দেশে ৫০ জাতের সবজি রফতানি

প্রকাশিত : ৮ ডিসেম্বর ২০১৪
  • পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বছরে আয় হবে হাজার কোটি টাকা

এম শাহজাহান ॥ বিশ্বের প্রায় পঞ্চাশটি দেশে বাংলাদেশের ৫০ জাতের সবজি ও ফলমুল রফতানি হচ্ছে। আর এই রফতানি থেকে বছরে আয় হচ্ছে ৬৫০ কোটি টাকা। তবে এ খাত থেকে রফতানি আয় বাড়াতে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বছরে সবজি রফতানি থেকে আয় হবে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। রফতানি বহুমুখীকরণে শাকসবজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ইউরোপের ২৭টি দেশে শতভাগ স্যালমোনিলা মুক্ত পান ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত শাকসবজি রফতানির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, বিদেশে বাংলাদেশের শাকসবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু চাহিদার মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশ রফতানি করতে পারছেন উদ্যোক্তারা। এ কারণে রফতানি বৃদ্ধিতে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া, রোগবালাই ও পোকামাকড় দূর করে সবজির উৎপাদন বৃদ্ধি, উপযুক্ত ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গ্রহণযোগ্য সার্টিফিকেটসহ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রফতানির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৬৫০ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকার সবজি রফতানি হয়েছে। রফতানির পরিমাণ প্রতিবছর বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, ডেনমার্ক, সুইডেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ওমান ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে বাংলাদেশের ৫০ জাতের সবজি ও ফলমুল রফতানি হয়। তবে যেসব দেশে বাংলা ভাষাভাষীরা বসবাস করছে সেসব দেশে বাংলাদেশের সবজি রফতানির চাহিদা বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবৃদ্ধির এ হার বজায় থাকলে আগামীতে সবজি রফতানি খাতে আয় ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। দেশের রফতানিকৃত সবজির প্রায় ৬০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যে এবং বাকি ৪০ শতাংশ ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে যায়। এসব সবজির মধ্যে করলা, কাকরোল, টমেটো, পেঁপে, বেগুন, ঢেঁড়স, লাউ, কচুরলতি, কচুর মুখী, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি, কাঁঠাল, শসা, চিচিঙ্গা, লালশাক, পুঁইশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁচামরিচ, পটল, ঝিঙা উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও প্রক্রিয়াজাত সবজির মধ্যে রয়েছে-ডাটা, কচুর লতি, শিমের বিচি, কাঁচকলা, কলার ফুল, কচুশাক ও কাঁঠাল বিচি রফতানি হচ্ছে।

জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য বাংলাদেশী ব্যবসা বাণিজ্য ও চাকরি সূত্রে বসবাস করছে। রফতানির এ বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। বিশেষ করে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের শাকসবজি ও ফলমুলের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হচ্ছে। শুধু দুবাইয়ে বাংলাদেশী শাকসবজি ও ফলমুলের চাহিদা রয়েছে প্রতিদিন ৬০ টন, লন্ডনে ৩০ টন। কার্গো বিমান চালু, বিদেশী বিমানগুলোয় পণ্য রফতানির ব্যবস্থা গ্রহণ, যেসব দেশে এসব পণ্যের বাজার আছে সেসব দেশে ফ্লাইট বাড়ানো, চলমান ভর্তুকি অব্যাহত রাখাসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া গেলে ব্যাপক সম্ভাবনাময় এখাতে পণ্য রফতানির সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, মিরসরাই, যশোর, বগুড়া, রাজশাহী, মাগুরা, মৌলভীবাজার, দিনাজপুর, কক্সবাজার, সিলেট ও গাজীপুরের সবজি রফতানি হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

এদিকে, শাকসবজি রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত শাকসবজি, আলু ও পান পাতা ও ফলমুল ব্যাকটেরিয়ামুক্ত উৎপাদন ও রফতানিযোগ্য করার বিষয় পরীবিক্ষণ ও সুপারিশ প্রণয়ন করবে এই কমিটি।

জানা গেছে, ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে বাংলাদেশের পান রফতানি বন্ধ রয়েছে। ইতোপূর্বে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহানুর রহমান দীর্ঘদিন দিন গবেষণা করে স্যালমুলিনা ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করার ওষুধ আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশের উৎপাদিত পান বর্তমান স্যালমুলিনা ব্যাকটেরিয়া মুক্ত। এ অবস্থায় শাকসবজি রফতানিকারকরা আবারও ইউরোপ-আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পান রফতানির প্রস্তুতির নিচ্ছেন। এজন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবলস অ্যান্ড এলাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, পান দিতে না পারলে শাকসবজির অর্ডার পাওয়া যায় না। এটাই বাস্তবতা। তাই পানের বাজার উন্মুক্ত হতেই হবে। এ কারণে দীর্ঘ গবেষণা করে পান থেকে স্যালমোনিলা ব্যাকটেরিয়া দূর করার ওষুধ আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু পান যে ব্যাকটেরিয়ামুক্ত তা সরকারকে বলতে হবে। ল্যাবরেটরিতে টেস্ট করাসহ লন্ডন, আমেরিকা ও মধ্যপ্রচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস এ ব্যাপারে কাজ করতে পারে। দূতাবাস সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে এ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করার উদ্যোগ নিতে পারে। এদিকে পান রফতানি পূনরায় চালু করতে সরকারের পক্ষ থেকেও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানান ইপিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বোস।

প্রকাশিত : ৮ ডিসেম্বর ২০১৪

০৮/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: