আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ কসাই সিরাজ আমার স্বামী শ্বশুর ও দাদা শ্বশুরকে কুপিয়ে হত

প্রকাশিত : ৮ ডিসেম্বর ২০১৪
  • সাক্ষী কমলা রানী চক্রবর্তীর জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বাগেরহাটের কসাই সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের তৃতীয় সাক্ষী কমলা রানী চক্রবর্তী (৬০) বলেছেন, একাত্তরে বৈশাখ মাসের কোন এক বৃহস্পতিবার সিরাজ মাস্টার ৭-৮ জন সহযোগী নিয়ে আমাদের বাড়ি আক্রমণ করে। এরপর তারা আমার স্বামী পরিতোষ চক্রবর্তী, শ্বশুর নিশিকান্ত চক্রবর্তীকে গুলি করে হত্যা করে ও দাদা শ্বশুর বিনোদ চক্রবর্তীকে কোপাইয়া হত্যা করে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। একই মামলায় কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার পলাতক হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। আজ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করা হয়েছে। এই সময় ট্রাইব্যুনাল হাসান আলীর মামলায় প্রসিকিউশনের আবেদনে ভুল হওয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। চেয়ারম্যান এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এসব আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি

আনোয়ারুল হক।

অন্যদিকে একাত্তরে কিশোরগঞ্জের দুই সহোদর ক্যাপ্টেন (অব) নাসির উদ্দিন আহম্মেদ ও আইনজীবী শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আবার ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রসিকিউশন অধিকতর তদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থায় ফেরত পাঠিয়েছেন। কসাই সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের তৃতীয় সাক্ষী কমলা রানী চক্রবর্তী (৬০) সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। এ সময় সাক্ষীর জবানবন্দীতে সহায়তার করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সাইয়েদুল হক সুমন। কমলা রানী চক্রবর্তী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম কমলা চক্রবর্তী। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। আমার ঠিকানা গ্রাম- রণজিৎপুর, থানা ও জেলা বাগেরহাট। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ১৬ বছর ছিল। সে সময় আমি বিবাহিত ছিলাম। ১৯৭১ সালের বৈশাখ মাসের এক বৃহস্পতিবার আসামি সিরাজ মাস্টার ৭-৮ জন সহযোগী নিয়ে আমাদের বাড়ি আক্রমণ করে। তখন আমি আমার শ্বশুরবাড়িতে ছিলাম। আসামি সিরাজ মাস্টার ও তার সহযোগীরা আমাদের বাড়ি আক্রমণ করার পর আমার স্বামী পরিতোষ চক্রবর্তী, শ্বশুর নিশিকান্ত চক্রবর্তীকে গুলি করে হত্যা করে ও দাদা শ্বশুর বিনোদ চক্রবর্তীকে কোপাইয়া হত্যা করে। তারা আমাদের বাড়ি-ঘর লুটপাট করে এবং আগুন দিয়ে পুড়াইয়া দেয়।

সাক্ষী আরও বলেন, এই অবস্থায় লাশগুলো ফেলে আমি পাশের বাগানে আমার দুই মাসের মেয়েকে নিয়ে আশ্রয় নেই। আমার মেয়ে সেখানে কান্নাকাটি শুরু করলে সেখানে আশ্রয় নেয়া অন্য লোকজন আমাকে বলে তোমার মেয়ের কান্না থামাও না হলে ঐ কান্নার শব্দ শুনে ঐ রাজাকাররা এখানে এসে আমাদেরও মেরে ফেলবে। এই অবস্থায় আমি একটি কাপড় আমার মেয়ের মুখে ঢুকিয়ে দেই, যাতে সে কান্নাকাটি করতে না পারে। পরে গ্রামের লোকজন আমার স্বামীসহ অন্যদের লাশ মাটি দিয়ে চাপা দেই এবং আমি অন্য লোকজনদের সঙ্গে ভারতে চলে যাই। আমি আসামি সিরাজ মাস্টারকে চিনতাম। কারণ তিনি সায়েরা হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন। পরে সাক্ষী আসামির ডাকে উপস্থিত সিরাজ মাস্টারকে দেখে শনাক্ত করেন। পরে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আজ সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

হাসান আলী ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার পলাতক হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবার তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। রবিবার হাসান আলীর বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী। সোমবার তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করা হয়েছে।

দুই সহোদরের অভিযোগ ফেরত ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জের দুই সহদর ক্যাপ্টেন (অব) নাসির উদ্দিন আহম্মেদ ও আইনজীবী শামসুদ্দিন আহম্মেদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আবার ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রসিকিউটর শেখ মোসফেক করিব এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রকাশিত : ৮ ডিসেম্বর ২০১৪

০৮/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: