আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪
  • ক্যাম্পাস সংবাদ

সম্প্রতি ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় সমাবর্তন। সকাল ১০টায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি ও সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মান নিশ্চিতকরণ ইউনিটের প্রধান প্রফেসর ড. মেজবাহউদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠান সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণ সকাল ৮টার মধ্যে সমাবর্তন গাউন পরিহিত গ্রাজুয়েটদের কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠে। সমাবতর্নে আসা গ্রাজুয়েট লাভলী পারভীন বলেন, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করে আমরা এখন গৌরব বোধ করছি। দেশে অনেক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি মাত্র ইউনিভার্সিটি সমাবর্তন করে, তার মধ্যে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। আরেক শিক্ষার্থী আমজাদ হোসেন বলেন, আমি কয়েক বছর আগে ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স প্রোগ্রাম সম্পন্ন করে এখন কলেজে শিক্ষকতা করছি। সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পেরে খুবই ভাল লাগছে। অনেক অধ্যবসায়, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা তো গ্রাজুয়েট হতে পেরেছি। সার্টিফিকেট অর্জন তাও একটি বড় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারছি, এজন্য খুশি লাগছে। কর্তৃপক্ষ একটি গাউন, ক্যাপ ও হুড দিয়েছেন এটি আমার চিরকালের স্মৃতি হিসেবে থাকবে। দিনাজপুর বীরগঞ্জ থেকে খলিলুর হাসান এসেছেন অভিভাবক হিসেবে। তাঁর মেয়ে রুমী আখতার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্রাজুয়েট হয়েছেন। তিনি জানান, মেয়ের সঙ্গে সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পেরে খুবই ভাল লাগছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে আসা আলহাজ মোফাজ্জল হোসেন জানান, তাঁর দু’ছেলে মামুন আর মিঠু এখান থেকে গ্রাজুয়েট হয়েছে। তাদের সঙ্গে সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পেরে তিনি খুব খুশি। সমাবর্তন শুরু হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র গ্রাজুয়েট ও ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি থেকে আগত উপাচার্য, অধ্যাপকদের ভিড়ে কানায় কানায় ভরে যায়।

মহামান্য রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রতিনিধি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী সমাবর্তনের শুরু ঘোষণা দেয়ার পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কে এম মহসিন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মরহুম এবিএম মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ করে দেয়ার জন্য অনেক ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করে ১৯৯৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে এ ইউনিভার্সিটি এখনও পরিচালিত হচ্ছে। বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকা- পরিচালনা করে আসছে। বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ডাঃ মুহম্মদ শহিদুল কাদির পাটোয়ারী বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের সব ধরনের নিয়ম কানুন মেনে পরিচালিত হচ্ছে। সমাবর্তন বক্তা প্রফেসর ড. মেজবাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তৃতায় গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের এখন শেখার বয়স। তোমাদের মতো বিশাল প্রজন্ম অকপট সততার প্রণোদনায় পুরনো জমানার জঞ্জাল সাফ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

সভাপতির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর তথ্যভিত্তিক যুগোপযোগী গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এর ফলে শিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। সমাবর্তনে ৮৪১৭ জনের মধ্যে ২৩ জন চ্যান্সেলর ও ৫১ জন ভাইস চ্যান্সেলর এ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। সবশেষে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু ও তার দল এলআরবি। আনন্দে মাতোয়ারার মাধ্যমে গ্রাজুয়েটদের মিলনমেলা ও আনন্দমেলা শেষ হয়।

ফারুক হোসেন

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪

০৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: