মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাংলাদেশের দারিদ্রা-বৈষম্য-অসমতা একীভূত রাজনৈতিক অর্থনীতির তত্ত্বের সন্ধানে

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪

(পূর্ব প্রকাশের পর)

এখানে উল্লেখ সমীচীন যে, ৎবহঃ ংববশরহম উদ্ভূত ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য-বঞ্চনা-বৈষম্য-অসমতা যেমন মানুষের মধ্যে উগ্র সাম্প্রদায়িক আবেগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে, তেমনি এ আবেগানুভূতি ব্যবহার করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি যে মৌলবাদের অর্থনীতি সৃষ্টি করেছে, তারও ভিত্তি ঐ জবহঃ ংববশরহম, যা দারিদ্র্য-বৈষম্য-অসমতা বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশের মূলধারার অর্থনীতির মধ্যে যে মৌলবাদের অর্থনীতি গড়ে উঠেছে তারও ভিত্তি যে জবহঃ ংববশরহম, তার অনেক স্পষ্ট প্রমাণ আছে। প্রথমত মৌলবাদের অর্থনীতির মূল খাত-ক্ষেত্রগুলোই এমন যেখানে তুলনামূলকভাবে সহজেই জবহঃ ংববশরহম কর্মকা- পরিচালন সম্ভব। এসব খাত-ক্ষেত্রের অন্যতম হলো আর্থিক খাতের ব্যাংকিং, বীমা, লিজিং কোম্পানি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ওষুধ শিল্প ও ডায়াগোনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, যোগযোগ-পরিবহন, জমি-দালান-রিয়েল এস্টেট, অতি মুনাফাকারী প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংবাদ মাধ্যম, তথ্য-প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন ধরনের ট্রাস্ট ফাউন্ডেশন। দ্বিতীয়ত, ধর্মের নামে হিসেব-পত্তর পদ্ধতি শরিয়াহভিত্তিক করার ক্ষেত্রে নানান ফাঁকি-জুকি যা জবহঃ ংববশরহম-এর নামান্তর মাত্রই শুধু নয়, যা অতিরিক্ত জবহঃ ংববশরহম-এ সহায়ক। তৃতীয়ত, তথাকথিত শরিয়াহ্র নামে তারা তাদের আর্থিক-সামাজিক কর্মকা-ের পক্ষে রাজনীতি ও সরকারকে ব্যবহার করে এমনসব কানুন-বিধি-বিধান প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়েছে যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৎবহঃ ংববশরহম এর মধ্যেই পড়ে। চতুর্থত, মূল অর্থনীতির মধ্য মৌলবাদেও অর্থনীতি সৃষ্টির ফলে ধর্মভিত্তিক উগ্র সাম্প্রদায়িক এ গোষ্ঠী রাজনৈতিক কর্মকা-কে এমনভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম, যখন দেশে হরতাল-অবরোধ অর্থায়ন করে, তারা বাজার অর্থনীতির কালোবাজারি-মজুদদারি উস্কে দিয়ে বাজার সন্ত্রাসী ও মূল্য সন্ত্রাসী ৎবহঃ ংববশবৎ দের সহায়তা করে।

এখন আসা যাক মৌলবাদের অর্থনীতির কিছু হিসেব-পত্তরে। বাংলাদেশে মৌলবাদের অর্থনীতির এখন বার্ষিক নিট মুনাফা আনুমানিক ২,০০০ কোটি টাকা (২৫০ মিলিয়ন ডলার) : এ মুনাফার সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ আসে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে (ব্যাংক, বীমা, লিজিং কোম্পানি যেগুলো জবহঃ ংববশরহম-এর অন্যতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান); দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮.৮ শতাংশ আসে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে; বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ১০.৮ শতাংশ; ওষুধ শিল্প ও ডায়াগোনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ১০.৪ শতাংশ; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ৯.২ শতাংশ; রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে আসে ৮.৫ শতাংশ; সংবাদ মাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে আসে ৭.৮ শতাংশ; আর পরিবহন-যোগাযোগ ব্যবসা থেকে আসে ৭.৫ শতাংশ। নিট মুনাফার এ প্যাটার্ন বেশ অনুমাননির্ভর হলেও যথেষ্ট দিক নির্দেশনামূলক– অর্থাৎ খাত-প্রতিষ্ঠানওয়ারি মৌলবাদের অর্থনীতির বিকাশ ধারা নির্দেশে যথেষ্ট সহায়ক। সেই সঙ্গে মৌলবাদের অর্থনীতির খাত-প্রতিষ্ঠানওয়ারি নিট মুনাফার যে ধারা দেখা যায় তার মূল স্রোতের অর্থনীতির সাথেও যথেষ্ট সাযুজ্যপূর্ণ, যেখানে ইতোমধেই জবহঃ ংববশরহম নিয়ামক ভূমিকায় অবতীর্ণ।

(চলবে)

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪

০৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: