আংশিক রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৬.১ °C
 
২২ জানুয়ারী ২০১৭, ৯ মাঘ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাশিয়ার অর্থনীতিতে মন্দাবস্থা

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪

ইউক্রেন ইস্যুতে বেশ চাপেই আছে রাশিয়া। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার ব্যবসায়-বাণিজ্যে বেশ মন্দার মধ্যে আছে। আগামী অর্থবছরে দেশটির অর্থনীতি আরও বেশি মন্দা কবলিত হতে পারে। এমনটাই শঙ্কা করছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে তেলের পড়তি দাম অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কাকে জোরালো করে তুলছে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে রুবলের মান কমে যাওয়ায় অর্থনীতিবিদরা আগামী অর্থবছরেও রাশিয়ার অর্থনীতিতে মন্দার শঙ্কা ধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন। অর্থনীতিবিদরা মন্দার পূর্বাভাস দিলেও রাশিয়ার সরকার সেই শঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছিল। তারা আগামী বছর অল্প পরিমাণ হলেও প্রবৃদ্ধির আশা করছিল। কিন্তু সরকার এখন তাদের সেই আশাবাদী অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় আশঙ্কা করছে আগামী বছর দেশটির জিডিপি দশমিক ৪ শতাংশ সঙ্কুচিত হবে। এটাই ২০০৯ সালের পর দেশটির প্রথম জিডিপি সঙ্কোচন। বর্তমানে দেশটির জিডিপি দশমিক ৫ শতাংশ আছে এবং তারা আশা করছিল যে, আগামী বছর, প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ হবে। কিন্তু পরিস্থিতিই তাদের প্রবৃদ্ধির আশায় গুড়েবালি তৈরি করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ধারণা করছে আগামী দুই বছর অর্থাৎ ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশটির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে। এমন ধারণা যে অমূলক নয়, তা জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের কথা থেকেই বোঝা যায়। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা তো হবেই না, বরং আরও নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন। এই হুমকি রাশিয়ার অর্থনীতি নিয়ে যে শঙ্কা অর্থনীতিবিদদের, তাকে আরও উস্কে দিচ্ছে। উদীয়মান দেশটির অর্থনীতি ইউক্রেন ইস্যুর পর বেশ ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। জনজীবনকে সেই মূল্যস্ফীতি দুঃসহ করে তুলছে। বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদেশী বিনিয়োগ কমে গেছে। রফতানি আয়ও কমে গেছে। মোদ্দাকথা, রাশিয়ার অর্থনীতি এখন দুঃসময়ের মুখোমুখি। সেই দুঃসময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই শঙ্কা মানুষকে আরও বেশি করে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। কিন্তু এরপরও ভøাদিমির পুতিনের প্রতি মানুষের আস্থা একটুও কমেনি। যেসব পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা ভেবেছিল যে রাশিয়ার অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়লে পুতিনের জনপ্রিয়তায় ধস নামবে, তাদের সে ধারণাকে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জরিপ ভুল প্রমাণিত করেছে। জরিপে দেখা গেছে, এখনও মানুষ পুতিনের প্রতি বেশ আস্থাশীল। কিন্তু এটাও সত্যি রাশিয়ানদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পুতিন রাজনৈতিক কর্মকা-ের পাশাপাশি কী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেয় যাতে তার ওপর আস্থাশীল মানুষের ভোগান্তি লাঘব হয়।

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪

০৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: