কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাজস্ব বাড়াতে সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪
  • অর্থায়নের নতুন পদ্ধতি প্রোগ্রাম ফর রেজাল্ট

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এজন্য প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা দিচ্ছে সংস্থাটি। রেভিনিউ মবিলাইজেশন প্রোগ্রাম ফর রেজাল্ট : ভ্যাট ইমপ্রুভমেন্ট প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। প্রোগ্রাম ফর রেজাল্ট হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের নতুন অর্থায়ন পদ্ধতি। এর মাধ্যমে নিজস্ব আইন অনুসরণ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। যাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশের মালিকানা নিশ্চিত হয়। এ বিষয়ে আজ রবিবার বিশ্বব্যাংক ও সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সরকারের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডাইরেক্টর সালমান জাঈদী।

এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) উপ-সচিব রাব্বি মিয়া জানান, এ কর্মসূচীটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মূল্য সংযোজন কর অনুবিভাগ-এর আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণ করা হবে।

ইআরডি সূত্র জানায়, কর্মসূচীটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন সিওটিএস সফটওয়্যারসহ প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ক্রয় করে মূল্য সংযোজন কর বিভাগের সকল কার্যক্রম কম্পিউটারাইজড ও অটোমেশনের মাধ্যমে মূসক আদায় সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইন-এ সম্পন্ন করা হবে। মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আদায় সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে সহজীকরণ করা হবে। ব্যবসায়ীদের মূসক পরিশোধ সংক্রান্ত কার্যাবলীর ব্যয় হ্রাস ও ব্যবসাবান্ধব করা। মূসক অফিসে না গিয়ে অনলাইনে মূসক-এর পরিমাণ নির্ধারণ, পরিশোধ এবং রিটার্ন দাখিল করার সুযোগ সৃষ্টি ও দুর্নীতি হ্রাস করা যাবে। ই-পেমেন্ট এর মাধ্যমে করদাতারা সহজে রাজস্ব পরিশোধ করতে পারবেন এবং এতে ইলেকট্রনিক্স ভেরিফিকেশন-এর সুযোগ থাকায় মূসক কর্তৃপক্ষ রাজস্ব পরিশোধ সংক্রান্ত বিষয়ে তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হতে পারবেন।

বিশ্বব্যাংক সূত্র জানায়, কর্মসূচীটিতে রেজাল্ট অর্জনের জন্য ছয়টি ডিসবাসমেন্ট লিংক ইন্ডিকেটর (ডিএলআইএস) নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রোগ্রাম ফর রেজাল্ট পদ্ধতিতে অর্থায়নের কারণে কর্মসূচীটির রেজাল্ট তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যাচাই এবং অন্যান্য রিপোর্টিং কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে।

দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল এবং জাতীয় রাজস্ববোর্ড কর্মসূচীটি বাস্তবায়নকালীন এ কর্মসূচী সংক্রান্ত অভিযোগসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে জানাতে হবে।

কর্মসূচীটি বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা আইডিএ নমনীয় শর্তে এ অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। যা দশ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৪০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এ ঋণের ক্ষেত্রে কোন কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে না এবং এক্ষেত্রে উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হবে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের ছয় মাসের মধ্যে এটিই হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের প্রথম প্রতিশ্রুতি। সংস্থাটির কাছ থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এ অর্থবছরে। অর্থবছরের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কোন প্রতিশ্রুতি দেয়নি সংস্থাটি। তবে অর্থবছরের সাত মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে বড় ধরনের সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এক মাসেই চুক্তি হতে যাচ্ছে ১০৫ কোটি মার্কিন ডলারের, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে নেগোশিয়েশেনসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। ফলে চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির কাছ থেকে যে প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে তা পূরণ হতে কোন সমস্যা হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আজম জনকণ্ঠকে বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে সহযোগিতা দিন দিন বাড়াচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম কয়েকমাস চুক্তি স্বাক্ষর না হলেও ডিসেম্বরে ৬ কোটি মার্কিন ডলার চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে এ অর্থবছরে প্রতিশ্রুতি দেয়া শুরু করল বিশ্বব্যাংক। জানুয়ারিতে কয়েকটি প্রকল্পে বড় ধরনের ঋণ চুক্তি হবে। এর মাধ্যমে সংস্থাটি থেকে প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে যাব।

জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তির অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে ৪০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচী-৩ (পিইডিপি-৩) বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। অতিরিক্ত অর্থায়ন হিসেবে সংস্থাটি এ টাকা দিচ্ছে।

মাল্টিপারপাস ডিজাস্টার সেল্টার নির্মাণ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। এ প্রকল্পটির মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলে যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের জান মাল রক্ষায় সেল্টার তৈরি করা হবে। এগুলো অন্য সময় স্কুল হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।

ইনকাম সাপোর্ট ফর দ্য পুওরেস্ট প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে অসহায় দরিদ্র মানুষদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আয় বর্ধনমূলক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হবে। যাতে তারা আর্থিক ভাবে সচ্ছলতা লাভ করতে পারে।

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪

০৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: