রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শেখ রেহানার নামে প্রতারণা, দম্পতি গ্রেফতার

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা পরিচয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নরের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টাকারী সেই অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃত প্রতারক দায় স্বীকার করে অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নেবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত ৩০ নবেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টা। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমানের অফিসের ল্যান্ডফোন বেজে ওঠে। গবর্নরের ব্যক্তিগত সহকারী ফোন ধরেন। তিনি ফোনকারীর পরিচয় জানতে চান। ফোনকারী নিজেকে শেখ রেহানা বলে পরিচয় দেন। তিনি দ্রুত ফোনটি গবর্নরকে দিতে বলেন। ব্যক্তিগত সহকারী অতিদ্রুত ফোন গবর্নরের কাছে ট্রান্সফার করেন। গবর্নর হ্যালো বলতেই অপরপ্রাপ্ত থেকে ভেসে আসে, আমি শেখ রেহানা বলছি। আমি একজন পুরুষ ও একজন মহিলাকে আপনার কাছে পাঠাচ্ছি। পুরুষটি পঙ্গু আর মহিলাটি অন্তঃসত্ত্বা। তাদের কিছু আর্থিক সমস্যা আছে। তাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার ব্যবস্থা করবেন। ফোনকারী আরও বলেন, এলসির বিপরীতে বিভিন্ন ব্যাংকে যে ইন্স্যুরেন্স হয়, সে কাজটি যেন ওই মহিলাকে দেয়া হয়। এজন্য তিনি (গবর্নর) যেন কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানকে বলে দেন। গবর্নর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। পরদিন ওই পুরুষ আর মহিলার গবর্নরের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নরের বিষয়টি সন্দেহ হয়। এ ধরনের কাজ করার নির্দেশ দেয়ার মতো মানুষ শেখ রেহানা নন। এমন ভাবনা থেকেই গবর্নর প্রায় আধাঘণ্টা পর ব্যক্তিগত সহকারীকে দিয়ে ওই নম্বরে ফোন করান। সেতু নামে একজন ফোন ধরেন। এর পরই বিষয়টি শেখ রেহানার নামে প্রতারণার চেষ্টা বলে নিশ্চিত হন গবর্নর। ওইদিনই গবর্নর প্রতারণার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। প্রতারককে গ্রেফতারে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় র‌্যাব-৩ এর একটি দল রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন বনশ্রীর এ ব্লকের ২ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে শেখ রেহানা পরিচয়দানকারী মারজিয়া জান্নাত নূপা (৩১) ও তার স্বামী এম এ কাশেম মজুমদারকে আটক করা হয়। শনিবার বিকেল সোয়া ৪টায় টিকাটুলীতে র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম সারওয়ার জানান, নূপা ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার। কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয় রাজধানীর মতিঝিলে। নূপার স^ামী এম এ কাশেম মজুমদার বিআইডব্লিউটিএ-এর ঠিকাদার। স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই আটক করা হয়েছে। তার স্বামী স্ত্রীর এমন প্রতারণার বিষয়টি জানত। গ্রেফতারকৃত নূপার দাবি, তিনি বাসার ল্যান্ডফোন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নরকে ফোন দেন। ফোন দিয়ে নিজেকে শেখ রেহানা দাবি করেন। এর পর তিনি গবর্নরের সঙ্গে কথা বলেন। গবর্নর তাকে খুবই সম্মান দেখিয়ে কথা বলেছেন। গবর্নরের সঙ্গে তাদের দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই র‌্যাব তাদের আটক করে।

তিনি ঘটনার জন্য অনুতাপ করে বলেন, আমি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিটিতে থার্ড পার্টি হিসেবে প্রায় ৭ মাস ধরে কাজ করছিলাম। প্রতিটি ব্যাংকেই এলসি খুলতে হলে এলসির বিপরীতে ইন্স্যুরেন্স করতে হয়। আমার দায়িত্ব ছিল এলসির বিপরীতে খোলা ইন্স্যুরেন্সগুলো যেন তার মাধ্যমে ইসলামী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নামে খোলা হয়। কাজটি করতে পারলে প্রতিটি ইন্স্যুরেন্সের বিপরীতে তিনি অন্তত শতকরা ১০ ভাগ কমিশন পেতেন। এমন আশায় আমি শেখ রেহানা পরিচয়ে ফোন করি। এছাড়া আমার আর কোন উপায়ও ছিল না। আমার স্বামী পঙ্গু। আয়-রোজগার বলতে তেমন কোন পথ নেই। প্রতারণার জন্য আমি অনুতপ্ত। ভবিষ্যতে কোনদিনই এমন প্রতারণার আশ্রয় নেব না। নূপার স্বামী আবুল কাশেম জনকণ্ঠকে বলেন, স্ত্রীর এমন প্রতারণার বিষয়টি তার অজানা। তবে তারা আর্থিকভাবে খুবই সঙ্কটের মধ্যে রয়েছেন। তাদের ঘরে ৫ বছর বয়সী একটি পুত্র রয়েছে। এছাড়া স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আয়-রোজগার বলতে তেমন কিছুই নেই। তার স্ত্রী বিএ পাস। আর আমি এমএ পাস। বাড়ি ফেনী জেলার ফুলগাজী থানা এলাকায়। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবে কর্মরত মেজর মহিউদ্দিন, মেজর কামরান কবির, মেজর মাকসুদুর রহমান ও সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪

০৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



ব্রেকিং নিউজ: