মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আমলাদের সঙ্গে খালেদার বৈঠকের খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা ॥ ফখরুল

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজেনা এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাইকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তাতে আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তার বক্তব্য বর্ণবাদের পক্ষে অবস্থান নেয়া। শনিবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ২৪ বছর পর নব্য স্বৈরাচার জাতির ওপর চেপে বসেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার কোন বৈঠক হয়নি। এ বৈঠকের কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কিছু পত্র-পত্রিকা এ বিষয়টি নিয়ে মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করেছে। আসলে তা সত্যি নয় এবং এর কোন ভিত্তি নেই। প্রতিদিন দলের উপদেষ্টারা গুলশান কার্যালয়ে আসেন। কিন্তু বৃহস্পতিবারের মিটিং নিয়ে গণমাধ্যমে যেসব সংবাদ বেরিয়েছে এবং এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা রুচিহীন, শিষ্টাচারবর্জিত ও হিংসার বহির্প্রকাশ। উনার বক্তব্য আমরা উচ্চারণ করতেও ঘৃণাবোধ করছি।

বিএনপি ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসতে চায় বলে প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন তার প্রতিবাদ করে ফখরুল বলেন, বিএনপি কখনও ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসে না। জনগণের ভোটেই বিএনপি বার বার ক্ষমতায় এসেছে। দেশের জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন রূপ দিতে সরকার বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় যাওয়ার নজির বিএনপির নেই, বরং আওয়ামী লীগের আছে। আওয়ামী লীগই ২০০৮ সালে বিশেষ মহলের সঙ্গে আঁতাত করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত, রুচিহীন ও নোংরামিতে পরিপূর্ণ। নতুন প্রজন্ম তাঁর কাছ থেকে এ ধরনের নোংরামি শিখতে চায় না। তিনি বলেন, নেপালে সার্ক সম্মেলন ও মালয়েশিয়া সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি সংবাদ সম্মেলনে কূটনীতিক বিষয় নিয়েও মিথ্যাচার করছেন। সার্ক সম্মেলনে তিস্তার পানি নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তাও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এছাড়া ছিটমহল সমস্যার সমাধান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন তাও মিথ্যা। এর সমাধান হয়েছে ৭৪ সালে। এভাবে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বুঝানো যাবে না।

আওয়ামী লীগের পায়ের নিচের মাঠি অনেক শক্ত বলে প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন তার জবাব দিতে গিয়ে ফখরুল বলেন, যদি পায়ের নিচের মাটি শক্তই হয়ে থেকে থাকে তাহলে পদত্যাগ করে নির্বাচন দিন। নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছেন কেন? আসলে মাটি নেই আপনাদের পায়ের নিচে রয়েছে চোরাবালি। এ জন্যই বিএনপিকে ভয় পান। দেশের মানুষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে আগাম নির্বাচন চায় দাবি করে তার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসতে খালেদা জিয়ার ষড়যন্ত্রের দরকার হয় না। তিনি রাজনীতিতে উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। ১৯৮২ সালে আবদুস সাত্তারকে হটিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদের ক্ষমতা দখল এবং ২০০৭ সালে জরুরী অবস্থা জারির মাধ্যমে অগণতান্ত্রিক শক্তির ক্ষমতায় যাওয়ায় শেখ হাসিনার সমর্থন ছিল। ৬ ডিসেম্বর এরশাদ পতন দিবসকে স্মরণ করে তিনি বলেন, আজ ২৪ বছর পর নব্য স্বৈরাচার জাতির ওপর চেপে বসেছে। প্রতিনিয়ত মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে দেশকে একদলীয় শাসনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় কায়েম করেছিল। জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন। এখন আবার গণতন্ত্র ধ্বংস করে একদলীয় শাসনের দিকে যাচ্ছে সরকার।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশের পর টিআইবির হিসাব চাওয়ার কথা বলে প্রধানমন্ত্রী সংস্থাটিকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন। সংস্থার আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, টিআইবি এ ধরনের প্রতিবেদন আবার করলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। জিয়াউর রহমানের আমলে দুর্নীতির শুরু প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ফখরুল বলেন, এ বক্তব্য শুনে মানুষ হাসবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগই দেশে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের জনক। অতীতে আওয়ামী লীগের দুর্নীতির কারণে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। ’৭২ সালের দুর্নীতির কারণে ’৭৪ সালে দেশে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হয়েছিল। আর এবার শেখ হাসিনা দুর্নীতিকে রাষ্ট্রীয়করণ করেছেন। বিমানবন্দরে আটক চোরাই সোনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কাছের লোকজনই জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ফখরুল বলেন, সরকার সংবিধান সংশোধন করে এবং গুম ও খুনের মাধ্যমে জাতিকে অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে। আর ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে এইচ টি ইমাম থলের বিড়াল বের করে দিয়েছেন। তবে নতুন নির্বাচনই এখন দেশকে সঙ্কট থেকে মুক্তি দিতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, দলের সহদফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে সরকার বর্ণবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক বাংলাদেশের জন্য আশানুরূপ হয়নি। এই বৈঠক নিয়েও শেখ হাসিনা একের পর এক মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, মিথ্যাচারের কূটনীতি বন্ধ করুন।

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪

০৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: