কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঢাকায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, প্রথম দিনে দুটি চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪
ঢাকায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, প্রথম দিনে দুটি চুক্তি স্বাক্ষর
  • আন্তঃবাণিজ্যে ৯ পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। ঢাকা সফরের প্রথম দিনে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে দুটি চুক্তি সই হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুত, ট্রানজিট, বাণিজ্য, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সংস্কৃতি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা হয়।

১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে শনিবার সকালে শেরিং তোবগে ঢাকায় নামলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় একটি শিশু শেরিং তোবগের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেয়। এরপর তিন বাহিনীর একটি দল ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেয়। দুই দেশের জাতীয় সংগীতের পর সশস্ত্র সালাম নিয়ে গার্ড পরিদর্শন করেন তিনি। বিমানবন্দরে শেরিং তোবগে তার সফরসঙ্গীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে পরিচয় করিয়ে দেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে বিমানবন্দরে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, তিন বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ উর্ধতন সরকারী কর্মকর্তারা।

বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন। শেরিং তোবগে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং একটি ‘উদয় পদ্ম’ ফুল গাছের চারা রোপণ করেন।

বাংলাদেশ-ভুটান দুই চুক্তি সই ॥ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে দুটি চুক্তি সই হয়েছে। এর একটি হলো বাণিজ্য নবায়ন চুক্তি। অপরটি প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত চুক্তি। বাণিজ্য নবায়ন চুক্তিতে সই করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং ভুটানের অর্থমন্ত্রী নরবু ওয়াংচুক। আর বাংলাদেশে ভুটানের দূতাবাস স্থাপনের জন্য প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত চুক্তিতে সই করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী রিনজিন দর্জি। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-ভুটান বাণিজ্য চুক্তি আরও ৫ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে। এবার চুক্তি নবায়নে নতুন কয়েকটি বিষয় যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুগ্মসচিব পর্যায়ে বৈঠকের জন্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, বাণিজ্যবিষয়ক তথ্যবিনিময়, উভয় দেশে বাণিজ্যমেলার আয়োজন, বাণিজ্য সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন ও বাণিজ্য গবেষণা চুক্তির বিধান সংশোধনের সুযোগ। বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের পাঁচ বছর মেয়াদী বাণিজ্য চুক্তি ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ভুটান সফরে গেলে ওই চুক্তি সর্বশেষ নবায়ন হয়, যার মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরের নবেম্বর মাসে। চুক্তির আওতায় ভুটান থেকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা তাজা ফল, নির্মাণসামগ্রী, সিমেন্টের কাঁচামাল, মসলাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন। আর বাংলাদেশ থেকে ভুটানের ব্যবসায়ীরা তৈরি পোশাক, মেলামাইন সামগ্রী, ফলের রস, ওষুধ ও প্রসাধন সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে পারবেন।

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ও ভুটান আন্তঃবাণিজ্যে ৯০টি পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এই চুক্তিতে সই করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও ভুটানের অর্থমন্ত্রী নরবু ওয়াংচুক। এর আগে বাংলাদেশ ও ভুটান ৭৪টি পণ্যের শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পেয়ে আসছিল। চুক্তি নবায়নের মধ্যে দিয়ে এই পণ্যের সংখ্যা ৯০টিতে উন্নীত করা হয়েছে।

চুক্তি সইয়ের পরে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক বাণিজ্য সম্পর্কে কোনো ধরনের বাধা না রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে যা কিছু করা প্রয়োজন করা হবে এমন ব্যাপারেও দুই নেতা একমত হয়েছেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কে ভুটান এগিয়ে থাকলেও ধীরে ধীরে এই পার্থক্য কমিয়ে আনতেও দুই নেতা একমত হন। ভুটান বাংলাদেশের একটি পছন্দের দেশ। স্বাধীন বাংলাদেশকে ভুটানই প্রথম স্বীকৃতি দেয়, আর এই দেশের প্রতি বাংলাদেশ সবসময়ই কৃতজ্ঞ বলে জানান তোফায়েল আহমেদ। তিনি আরও জানান, আমরা পদ্মা সেতুর জন্য ভুটান থেকে বোল্ডার আনতে শুল্কমুক্ত সুবিধাও দেয়া হবে।

অপর চুক্তিতে ঢাকার বারিধারার কূটনীতিক জোনে ভুটানের দূতাবাস স্থাপনের জন্য বিনামূল্যে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ভুটান আগেই বাংলাদেশকে বিনামূল্যে দূতাবাসের প্লট বরাদ্দ দেয়। তারই প্রতিদান হিসেবে বাংলাদেশ সরকার এই প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিনজিন দর্জি।

শেখ হাসিনা-শেরিং তোবগে বৈঠক ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে বৈঠক করেছেন। শনিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুত, পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, বাণিজ্যসহ যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সংস্কৃতি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দায়িত্বশীল ও দৃঢ় নেতৃত্বের প্রশংসা করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। দুই নেতার আন্তরিকতাপূর্ণ বৈঠকে উঠে আসে দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক। তারা একমত হন, দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধাই রাখা হবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবদুস সোবহান শিকদার, সিনিয়র সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী ও ভুটানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জিষ্ণু রায় চৌধুরী।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেশটির অর্থমন্ত্রী নরবু ওয়াংচুক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিনজিন দর্জি, পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক সোনম তোব ডেন রাবগি, ঢাকায় নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত পেমা চোডেন।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কেএম শামীম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, অত্যন্ত আন্তরিকতার পরিবেশে দুই নেতার মধ্যে বৈঠকটি সম্পন্ন হয়। ভুটান বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি দেয় সে কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর শেরিং তোবগে এ সময় বলেন, স্বীকৃতি দেয়ার সেই ৬ ডিসেম্বরেই তাকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানোয় তিনিও কৃতজ্ঞ।

শামীম চৌধুরী জানান, দুই নেতার আলোচনায় আন্তঃসংযোগ, বিদ্যুত ও জ্বালানি আমদানি, বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনাসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে ভারতের কাছে তাদের পক্ষ থেকে দাবি তোলার কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ট্রানজিটের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা চলছে। ভুটান এতে যোগ দিলে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আনা সম্ভব হবে।

দুই দেশের মধ্যে ১৯৫ কোটি টাকার বিদ্যমান বাণিজ্যের মধ্যে ১৭৫ কোটি টাকার বাণিজ্যই ভুটানের পক্ষে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ২০ কোটি টাকা। এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনায় গুরুত্ব দেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এই পার্থক্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে তাদের আন্তরিকতার কথা ব্যক্ত করেন।

শেখ হাসিনা এক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, সিরামিকস, ওষুধ, প্রসাধনী, রাসায়নিক ও মৌসুমি সবজি আমদানি করতে ভুটানকে আহ্বান জানান। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীও এতে ইতিবাচক সাড়া দেন।

বাংলাদেশ থেকে এরই মধ্যে চিকিৎসক নেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসকরা সেখানে (ভুটানে) স্বল্প বেতনে সেবা দিচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন ও বেতন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বেতন বাড়ানোর আশ্বাস দেন। বাংলাদেশে ভুটানের ১৮০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, এই সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ জানান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী।

দুই দেশের মধ্যে পর্যটনের ক্ষেত্রেও সম্পর্ক বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব পায় আন্তরিকতার এই আলোচনায়। পাহাড়-পর্বত ঘেরা দেশ ভুটানের মানুষ সমতল ও সমুদ্র সৈকতের দেশ বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে, আর বাংলাদেশের মানুষও সহজেই দেশটিতে সফর করতে পারে এমন বিষয়ও উঠে আসে।

দুই দেশের মধ্যে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও কথা হয় দুই প্রধানমন্ত্রীর এ সময় সম্প্রতি ভুটানে অনুষ্ঠিত কিংস ক্লাব কাপ ফুটবলে বাংলাদেশের শেখ রাসেল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রসঙ্গ উঠে আসে বলে জানান শামীম চৌধুরী।

তিনি আরও জানান, আলোচনার সময় ভুটানের রাজার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশটিতে সফরে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন শেরিং তোবগে। প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতার সঙ্গে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে পরবর্তী কোন সময়ে সস্ত্রীক বাংলাদেশ সফরে এসে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের বৈঠক হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বৈঠক হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ছাড়াও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, ভুটানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জিষ্ণু রায় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নবায়ন ছাড়াও পারস্পরিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বৈঠক ॥ ভুটানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই)-এর সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে। শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআইর কনফারেন্স কক্ষে এই বৈঠক হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনেক দিনের হলেও দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আশানুরূপভাবে বাড়েনি। ২০১৪ সালে এ পর্যন্ত ভুটানে বাংলাদেশ থেকে রফতানি করা হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৯০ মিলিয় ডলারের পণ্য। কিন্তু এই সময় সীমায় ভুটান থেকে আমদানি করা হয়েছে ২২ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য। ভুটান বাংলাদেশ থেকে ভালো মানের কাপড়, বিভিন্ন কারখানার মেশিনসহ আরও অনেক পণ্য নিতে পারে। তাছাড়া, এই দুই দেশ যৌথভাবে পর্যটন খাতেও কাজ করতে পারে।

বৈঠকে ভুটানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশ বরাবরই ভুটানের বাণিজ্যিক বন্ধু। আমরা চাই এই সম্পর্ক আরও জোরদার করা হোক। আর তাই দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। দুই দেশের ব্যবসা বাড়লে কে কি সুযোগ-সুবিধা পাবে এ সব বিষয়ে ব্যবসায়ীরা অবগত থাকলে ব্যবসায় আরও গতি আসবে, ভাল ফলও আসবে।

বৈঠকে এফবিসিসিআই’র প্রথম সহসভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, এফবিসিসিআই’র সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন, সচিব মীর শাহাবুদ্দিন আহমেদ, ভুটানের লাকি গ্রুপের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিম শেরিং প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছেন। এই প্রতিনিধি দলে ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী রিনজিন দর্জি ও অর্থমন্ত্রী নরবু ওয়াংচুক রয়েছেন। এছাড়া ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দলও ঢাকায় এসেছেন।

বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশ ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর এটাই তোবগের প্রথম ঢাকা সফর। তিনি গত বছরের জুলাইয়ে ভুটানের সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানিয়েছিলেন, ভুটানের জনগণের উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে তোবগে বাংলাদেশে আসার আগ্রহের কথা বলেন। তা শোনার পর শেখ হাসিনা তাকে আমন্ত্রণ জানান।

ভুটানের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দলও প্রধানমন্ত্রী তোবগের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ কেনার বিষয়ে আগ্রহ জানিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি। পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় বড় পাথর বা বোল্ডার রফতানির বিষয়েও আগ্রহ রয়েছে তাদের। বাংলাদেশ সফরে রবিবার তোবগে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তিন দিনের সফর শেষে আগামীকাল সোমবার ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ভুটান। ঐতিহাসিক সেই দিনটিতেই ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ঢাকা সফরে এসেছেন। গত বছর জুলাই মাসে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকায় শেরিং তোবগের এটাই প্রথম সফর।

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪

০৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: